ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

জন্মই যেন আজন্ম পাপ আবদুল মালেকের


মোখলেছুর রহমান, কোনাবাড়ী photo মোখলেছুর রহমান, কোনাবাড়ী
প্রকাশিত: ২৩-২-২০২২ দুপুর ১:২
একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। তবে এরমধ্যেই দেখা যায় ব্যতিক্রম কিছু মানুষ। যাদের আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস এনে দেয় নতুন এক শক্তি। তেমনি একজন আবদুল মালেক। এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ডান পা। এ অবস্থায়ও ভিক্ষাবৃত্তি না করে স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন। 
 
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও এখন সে পঙ্গু। ওই দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও মনোবল হারাননি । এক পায়ের ওপর ভর করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী আনসার বিল্ডিংয়ের সামনে ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন রাস্তার পাশে। সারাদিন কাজ করে রোজগার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, যা দিয়েই কোনোমতে চলে তার সংসার।
 
আবদুল মালেকের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুম্বার পাড়া এলাকার সিমলা গ্রামে। ৬ ভাই ৩ বোনের মধ্যে মালেক ছিলেন সবার ছোট। চাকুরী করতেন ঢাকা কারওয়ান বাজার বিএসসিসি ভবনে এনটিভি অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে। হঠাৎ মানসিক সমস্যার কারনে ২০১১ সালে চাকরি ছেড়ে চলে যায় গ্রামের বাড়ি। 
 
মানসিক সমস্যার অযুহাতে ২০১২ সালে একমাত্র সন্তান রেখে চলে যান স্ত্রী। একসময় তিনি হয়ে পড়েন পরিবারের বোঝা। দিশেহারা হয়ে হাটতে হাটতে চলে যায় পাশের দেশ ভারতে। সেখানে পাগলের বেশ ধরে কাটিয়ে দেন ৩ বছর। এরপর জীবনে নেমে আসে কালো অধ্যায়। ১ এপ্রিল ২০১৫ সালে ট্রেন দুর্ঘটনায় ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর মানুষের সহযোগিতায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন গ্রামে।
 
বাড়িতে ফিরে আসলেও বাবা মৃত থাকায় পরিবার থেকে পায়নি তেমন সহযোগিতা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও মেলেনি প্রতিবন্ধী কার্ড। পরে গ্রামের কয়েকজন মানুষের সহযোগিতায় কিনেন ওজন মাপার ডিজিটাল মেশিন। তবে গ্রাম এলাকায় ওজন মাপার মেশিন দিয়ে যা আয় হতো, তাতে দু'বেলা দুমুঠো ভাত খেতে পারতেন না। তাই বাধ্য হয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চলে আসেন গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে। টাকার অভাবে বাসা ভাড়া নিতে পারছেনা। সারাদিন রাস্তার ধারে ওজন মাপে রাতে ঘুমিয়ে থাকে কোনাবাড়ী কাঁচা বাজার আঁড়তে।
 
আবদুল মালেক বলেন, কষ্ট করে হলেও কাজ করে খেতে চাই। তবে ভালো একটি কর্মসংস্থান পেলে আমার ১১ বছরের ছেলেটিকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারতাম।পথচারী আরিফ সরদার বলেন, সত্যি বলতে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বর্তমান সমাজে অনেকে অসুস্থতার অভিনয় করে ভিক্ষা করে বেড়ায়। কিন্তু তার একটি পা নেই তবুও পরিশ্রম করছে। সরকার ও সমাজের বিত্তশালী মানুষের উচিত আবদুল মালেকের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এমএসএম / জামান

আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই

‎কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু

যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী

গোপালগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‎কুতুবদিয়ায় একদিনেই পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

পাঁচবিবিতে বোর ধান চাল সংগ্রহের উদ্বোধন

পূর্বধলায় আলোচিত ধর্ষণকাণ্ড: ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াল পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা