আগামীকাল ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ও ভাষাসৈনিক দবিরুল ইসলামের জন্মশতবার্ষিকী
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম সভাপতি ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট দবিরুল ইসলাম। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই ছাত্রনেতার আগামীকাল শততম জন্মবার্ষিকী। ১৯২২ সালের ১৩ মার্চ তিনি তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমার ঐতিহ্যবাহী বামুনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম। কিংবদন্তি এই ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতিই শুধু নন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদেরও একজন। ১৯৪৮ থেকে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চলের সবকটি জেলায় ভাষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানবিরোধী সবকটি আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এর আগে মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রাবস্থায় তিনি উত্তরাঞ্চলে ভূমিহীন কৃষকদের আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর সহপাঠী বামুনিয়া গ্রামের দেরেম আলী এ ব্যাপারে জানান, দবিরুল ছোটকাল থেকেই খুব প্রতিবাদী টাইপের ছেলে ছিল। কোনো অন্যায় ও জুলুম সহ্য করতে পারত না। সে যে একদিন অনেক বড় একজন নেতা হবে, তা আমরা ছোটবেলায় খুব বলাবলি করতাম। সহপাঠীদের এই ভবিষ্যদ্বাণী বৃথা যেতে দেননি দবিরুল ইসলাম। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের নির্বাচনে খুব অল্প বয়সে বিপুল ভোটে এমএলএ নির্বাচিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই ছাত্রনেতা দবিরুল ইসলাম।
তৎকালীন সময়ে অনলবর্ষী বক্তা হিসেবে তরুণ ছাত্রনেতা দবিরুলের খ্যাতি ছিল চারদিকে। দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজের বিএ ক্লাসের ছাত্র থাকাবস্থায় ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুবলীগের সম্মেলনে তিনি যে আগুনঝরা বক্তব্য দিয়েছিলেন তাতে বঙ্গবন্ধুসহ অন্য ছাত্রনেতাদের নজরে পড়ে যান দবিরুল ইসলাম, যার ফলে জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায়ও বঙ্গবন্ধু তাঁকে ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি বানিয়েছিলেন।
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নায্য আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন, যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন; এসবের পেছনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মেধাবী ও তেজোদীপ্ত ছাত্রনেতা দবিরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বদরুদ্দীন ওমর, ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন ও এম আর আখতার মুকুলের লেখা বিভিন্ন বইয়ে তাঁর অবদান তুলে ধরা হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে আমৃত্যু জেল-জুলুম ও নির্যাতন ভোগকারী এই অসীম অকুতোভয় সাহসী মানুষটি মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই ১৯৬১ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে ঠাকুরগাঁও সফরে এলে তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সহচরকে স্মরণ রাখতে পাবলিক লাইব্রেরি চত্ত্বরে 'দবিরুল ইসলাম স্মৃতি ফলক‘ বানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন এসডিও এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে, যেটি আজো দবিরুল ইসলামের স্মৃতিকে বহন করে চলছে।
জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর এলাকার গণমানুষের দাবি, দেশমাতৃকার মহান এই ক্ষণজন্মা ছাত্রনেতার স্মরণে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। এতে তাঁর অবদানের প্রতি যেমন সম্মান জানানো হবে, তেমনিভাবে সংগ্রামী মানুষের মাঝে তিনি যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন।
এমএসএম / জামান
সংসদে আলোচনা শেষে সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বিরোধী দল
অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে
রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির
বিএনপির থেকে পদত্যাগ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের
রাষ্ট্রপতির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই : তাহের
এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি
নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, একাধিক প্রার্থীকে হারানো হয়েছে : নাহিদ
গৌরবের মুক্তিযুদ্ধকে ভূলুণ্ঠিত করা আ. লীগকে পুনর্বাসন করা যাবে না
সমর্থকদের যে অনুরোধ জানালেন আমির হামজা
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজ করছে বিএনপি সরকার : মির্জা ফখরুল