ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

মানুষ-বন্যহাতির দ্বন্দ্ব শেষ হবে কবে


নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি photo নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪-৪-২০২২ দুপুর ৩:০

শেরপুরের পাহাড়ী বনাঞ্চলে বন্যহাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব যেন থামছেই না। বরং সাম্প্রতিককালে এ দ্বন্দ্ব আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। হাতির চলাচলের পথে অবাধে চাষাবাদ, বসতি নির্মাণ, বাগান করা, পাহাড়ে হাতির খাদ্য সংকটসহ নানান কারণে প্রায়ই মানুষের মুখোমুখি হচ্ছে হাতি। এতে মানুষ এবং হাতি উভয়ই প্রাণ হারাচ্ছে। 

জানা গেছে, ভারত থেকে নেমে আসা শতাধিক বন্যহাতি দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করে আসছে। বন্যহাতির সুরক্ষায় সেখানে অভয়ারণ্য তৈরি করেছে বন বিভাগ। কিন্তু ক্রমান্বয়ে বনাঞ্চলের ভূমি স্থানীয়রা দখলে নেয়ায় সংকুচিত হতে থাকে বনের পরিসর। এতে হাতির দল খাবারের সন্ধানে পালাক্রমে লোকালয়ে হানা দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এ কারণে মানুষ হাতির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাই প্রায় সময় সংঘটিত হয় মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব। কখনো জয় হাতির আবার কখনো মানুষের। একদিকে যেমন জনজীবন ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যহাতিও প্রাণ হারাচ্ছে।

বিগত ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে বন্যহাতির আক্রমণে মানুষ মারা গেছে ২৩ জন ও হাতি মারা গেছে ২৭টি। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জানমাল বাঁচাতে অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে স্থানীয়রা জানান।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই যুগ সময় ধরে গারো পাহাড়ে শতাধিক বন্যহাতির পাল কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। মাঝে মধ্যেই হাতির এ তান্ডবে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শত শত একর জমির মৌসুমি ফসল। লন্ডভন্ড করেছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। তছনছ করছে বন বাগানের বিপুল পরিমাণের গাছপালা। হাতির হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ের গ্রামীণ জীবন। তাদের জীবন এখন হুমকির মুখে। বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাতের বেলায় গ্রামবাসী আগুন জ্বালিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে। বাঁশ দিয়ে পটকা বানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানো চেষ্টা করে আসছে।

ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সীমান্তঘেঁষে গারো পাহাড়ের শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া, বাবলাকোনা, রাজারপাহাড়, ঝোলগাঁও, কোচপাড়া, রাঙ্গাজান, খাড়ামোরা হারিয়াকোনা ও মেঘাদলসহ ১৩টি গ্রাম। নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমাস্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকার কাটাবাড়ি, পানিহাটা, খলচান্দা, হাতিপাগাড়, দাওধারা, বাতকুচি ও বুরুঙ্গাসহ প্রায় ১২টি গ্রাম। ঝিনাইগাতী উপজেলার বড় গজনী, ছোট গজনী, রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়া, পানবড়, নকশী, তাওয়াকুচা ও গুরুচরন দুধনইসহ প্রায় ১৩ টি গ্রামে বাঙালী, খ্রিষ্টান, গারো, কোচ ও হাজংসহ বিভিন্ন গোত্র মিলে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বনাঞ্চল অপেক্ষাকৃত সমতল। ভারতের গহীন বনাঞ্চল রয়েছে অগণিত বন্যহাতি। এসব হাতি দলবেঁধে সমতল ভূমিতে চলাফেরা ও আহার করতে সহজ মনে করে থাকে। তাই সময়-অসময়ে হাতির পাল সীমান্তপথ পাড়ি দিয়ে ওইসব সমতল বনাঞ্চলের আবাসিক ও কৃষিপ্রধান এলাকায় চলে আসে। পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘর, ফসলাদির জমি ও বিভিন্ন বাগানে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালায়। গত প্রায় ২২ বছর ধরে এসব বন্যহাতির তাণ্ডবলীলায় সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলের মাঠ বিধ্বস্ত হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার মানুষ পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে এবং পাহাড়ের পাদদেশে চাষাবাদ করে কোনরকম জীবিকা নির্বাহ করেন। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অস্বাস্থ্য ও নানা বঞ্চনা তাদের নিত্যসঙ্গী। এর ওপর প্রায় বন্যহাতির আক্রমনে দিশেহারা করে দিয়েছে তাদের। হাতির আতঙ্কে এমনিতেই হাজার হাজার একর জমি পতিত থাকছে। ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করলেও সে ফসল তারা ঘরে তুলতে পারছে না। ফলে পাহাড়ি জনপদের মানুষগুলো হাতির সাথে যুদ্ধ করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা এলাকার বিজার কুবি জানান, বন্যহাতি ঢাকঢোল পটকা ও আগুনকে ভয় পায়। তাই এলাকাবাসী মশাল ও বন থেকে কুড়িয়ে আনা আবর্জনা জ্বালিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে বাঁশ দিয়ে পটকা বানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করে। অনেক সময় বাঁধা না পেলে হাতির দল গ্রামে প্রবেশ করে জানমালের ক্ষতিসাধন করে থাকে।

শ্রীবরদী উপজেলার লাউচাপড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষুধার্ত হলেই খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে হাতির দল। যখন বসতবাড়িতে তান্ডব চালায় আর তখনই কেউ না কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে শেরপুর বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে মানুষ ও হাতিকে বাঁচাতে ইতোমধ্যেই সরকার গারো পাহাড়ে অভয়ারণ্য সৃষ্টি ও ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপুরনে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য ৩ লাখ, আহতকে ১ লাখ এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিগ্রস্থকে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এমএসএম / জামান

গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শালিখায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নড়াগাতীতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের

চাঁদপুরে খাল দূষণ ও ভরাট করায় দুই রাইস মিল মালিকের জরিমানা

ভূরুঙ্গামারীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্যমে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই বংশের সংঘর্ষ, আহত ১৪

তারাগঞ্জে দায়সারা ভাবে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত,কৃষকদের ক্ষোভ

চট্টগ্রাম ​কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকির ধুম

মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

কুড়িগ্রামে জেলা টাউন ক্লাবে আধুনিক ডিজিটাল প্রজেক্টর উদ্বোধন

গোদাগাড়ীতে ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ফোরামের দ্বি-মাসিক স্টাডি সার্কেল অনুষ্ঠিত

এসিল্যান্ডের ড্রাইভার থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য

কুমিল্লায় গোল্ডেন লাইফ ইনসুরেন্সের আল-ফালাহ্ ইসলামী জীবন বীমা প্রকল্পের উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হলো রেডি টু কুক ফিস