চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্র নেতারা
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় পুরানোদের চেয়ে নতুনরা বেশী। বর্তমান কমিটির বাইরে থাকা এবং বিভিন্ন কলেজে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নাম। সভাপতি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ১০৮ জনের বায়োডাটা জমা পড়েছে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। বায়োডাটা বিশ্লেষন করে আগামী মে মাসে সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিলেও সম্মেলনের আগে কেন্দ্র থেকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি আশার সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর সর্বশেষ যুবলীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৪ সালে। ওই সম্মেলনের পর যুবলীগ নেতা চন্দন ধরকে সভাপতি ও মশিউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সবকটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ২০০৪ সালের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয় কেন্দ্র। ঐ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় মহিউদ্দিন বাচ্চুকে। চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক তারা হলেন দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহাবুবুল হক সুমন ও দিদারুল আলম। কমিটির মধ্যে এ.বি.এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারীদের আধিপত্য থাকলেও শুধুমাত্র আজম নাছিরের অনুসারীরা স্থান পান মাত্র ৭ জন। বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহবায়কসহ অনেকে সভাপতি/সম্পাদক পদে বয়সের কারণে পদে আসতে না পারায় নতুনরা বেশী আলোচনায় রয়েছে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু, কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম দিদার, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম.আর.আজিম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দীন চৌধুরী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, সুরঞ্জিৎ বড়ুয়া লাভু। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছে মহানগর যুবলীগের সদস্য জাবেদুল আলম সুমন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ রাসেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সনত বড়ুয়া। কমিটির বিভিন্ন পদে আলোচনায় তারা হলেন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক আবু নাছের আজাদ, নগর যুবলীগের সদস্য জিএস কফিল উদ্দীন, মহানগর যুবলীগ নেতা সন্ধীপন সরকার মান্না, মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নোমান চৌধুরী, সোনিয়া আজাদ, কাউন্সিলর নুর মোস্তাফা টিনু, কাউন্সিলর এছরারুল হক এসছারসহ অনেকে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা সন্দীপন সরকার মান্না জানান, আমি রাজনীতি করতে গিয়ে ৮টি বছর জেল কেটেছি, কমিটি গঠনের সময় আমাদের কথা ভুলে যান আশা করি এবার যুবলীগের চেয়ারম্যান মহোদয় কমিটি গঠনের সময় দলের ত্যাগী নির্যাতিতদের মূল্যায়ন করবেন। যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব প্রাপ্ত যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদের প্রত্যাশী দেবাশীষ দাশ দেবু বলেন, আমি যুবলীগে কাজ করতেছি দীর্ঘদিন যাবত। আমাদের যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেছেন, করোনাকালে মানুষের পাশে দাড়াতে তখন থেকে আমরা সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাড়াতে। আমরা চিকিৎসা সেবা খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি যুবলীগের গৃহায়ন প্রকল্প সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করি তৃণমূল পর্যায়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছে সে ধরণের ব্যক্তিদের দিয়ে কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি উপহার দেবে আশা করি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী দিদারুল আলম দিদার বলেন, মহানগর যুবলীগের যে অচলাবস্থা এটাকে গতিশীল করতে হলে নতুন নেতৃত্ব দরকার। যুবলীগের যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে, ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে যারা আবার যুবলীগের পদ পদবী নিতে টানাটানি করতেছে তাদের উচিত যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগে জায়গা খুঁজার জন্য, তারা যেহেতু যুবলীগের জন্য কিছু করতে পারেনি তারা আবার দায়িত্বে আসলে তৃণমূল নেতা কর্মীরা মেনে নিবে না। যুবলীগের সভাপতি/সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে হওয়া উচিত এবং পরিবারের সবাই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ হওয়া চাই। আমার পিতা মহানমুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বঙ্গবন্ধুকে যাকে চাচা বলে ডাকতেন তিনিও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে চাচা খালেক নামে খ্যাত আমি তারই সন্তান। আমি যুবলীগের দায়িত্ব পেলে যুবলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুবলীগকে একটি কর্মসংস্থান তৈরীতে সহায়ক ও বেকারমুক্ত যুবলীগ করার জন্য কাজ করে যাবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক সুমন বলেন, আমি যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও কর্মীদের চাপে পড়ে নিতে চাচ্ছি। পুরতন কেউ দায়িত্ব না পেলে প্রতিটি এলাকায় হাজার হাজার নেতা কর্মী তারা অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে, কমিটি গঠনের সময় আসলে কিছু রাজননৈতিক পরীমনি দেখা যায় কখনো এডালে ওডালে গিয়ে পদ পদবী নিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা করে আমি সারা জীবন একজনের অনুসারী একজনের পেছনে রাজনীতি করিছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম জানান, আজ যারা পদ পদবী পাওয়ার জন্য ঘুরতেছে তাদেরকে আমি দলের দুঃসময়ে দেখিনি, অনেকে দলীয় কর্মসূচিতে আসার জন্য বলিলে তারা রাজনীতি করে না বলে জানিয়ে দিত যারা দলের সাথে বেঈমানী করেছে কর্মীদের বিপদে ফেলে চলে গেছে তারাও পদ চান, আমি মহিউদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে কর্মসূচি পালন করেছি। তবে নবীন প্রবনী সবাইকে নিয়ে যুবলীগের কমিটি হলে ভাল হবে বলে মনে করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, সারা দেশে যুবলীগকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় যুবলীগকে একটি মানবিক সংগঠন এবং তৃণমূল নেতা কর্মীদের দিয়ে যুবলীগকে সাজাতে পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগেও নেতৃত্বর পরিবর্তন আসবে বলে তিনি জানান।
এমএসএম / এমএসএম
নোয়াখালীর কবিরহাটে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার অনুষ্ঠান
রায়গঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু
পিসিপি’র খাগড়াছড়িতে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন
ধামইরহাটে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কৃষকের সরিষা কেটে নিল প্রতিপক্ষ
জেএসএস’র গুলিতে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত
আদমদীঘিতে বাশেঁর বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি
মান্দায় রফিকুল হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের তেলেসমাতি
কোনাবাড়ী উলামা পরিষদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
উলিপুরে হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বারহাট্টা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের কার্যকরী কমিটি গঠিত
কুতুবদিয়ার দুই প্রধান বাজার চলতি সনে ৯৯ লাখ টাকায় ইজারা
দিঘলিয়া বাজারে সরকারি দোকান ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ