শাহজাদপুরে ভাইয়ের পরিকল্পনায় নিজ বোনকে গলাকেটে হত্যা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বৃ-আঙ্গারু গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারজু খাতুন (২৮) হত্যাকান্ডের দেড় বছর পর ক্লু লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সিআইডি পুলিশ।
প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই নারজুর বড় ভাই আতাহার সরদার ও তার স্বজনরা নারজুকে গলা কেটে হত্যা করেছে।
হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলো নারজুর বড় ভাই। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন।
সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওহেদুজ্জামান বলেন, মামলাটি ছিলো সম্পুর্ন ক্লু লেস। সিআইডি সিরাজগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার কামাল হোসেনের দিকনির্দেশনায় গভীর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলাকালে গত ১৫ জুলাই সরোয়ার হোসেন সনজু নামে এ মামলার সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়। ১৬ জুলাই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। তার জবানবন্দিতে এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে।
তিনি আরো জানান, ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার পর রাতের যে কোন সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ফুফুকে ডেকে নিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে এই অভিযোগে শাহজাদপুর উপজেলার বৃ-আঙ্গারু গ্রামের আতাহার হোসেনের ছেলে সবুজ বাদী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় তাদের প্রতিপক্ষের লোকজনদের আসামি করা হয়।
থানা-পুলিশ তদন্তের একপর্যায়ে মামলাটি সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারেন, মামলার বাদী ও আসামি উভয় পক্ষে মামলা হত্যা মামলা আছে এবং একই এলাকার বাসিন্দা।জলমহল নানা বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। তারই ধারাবাহিকতা ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সকালে এলাকায় দুপক্ষের সমন্বয়ে এক সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুল আওয়াল নামে একজনকে মারপিট করে হত্যা করে নারজুর ভাই ও স্বজনরা। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় সবুজ ও তার বাবাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওহেদুজ্জামান বলেন সিআইডি সিরাজগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার কামাল হোসেনের দিকনির্দেশনায় বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে এবং মামলার সন্দেহভাজন সরোয়ার হোসেন সনজু নামে একজন আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আসামি সনজু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আসামি সরোয়ার হোসেন সনজু উল্লেখ করেন, আওয়াল হত্যাকান্ডের পর আওয়ালের স্বজনরা তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, গরু, ছাগল ও মালামাল লুট করে নেয়। ভয়ে তারা দীর্ঘদিন ঘরবাড়ি ছেরে পালিয়ে থাকে এবং অনেকে জেলহাজতে ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিপক্ষককে ঘায়েল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজেদের কাউকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত ১১ থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে কয়েকজন ঘটনাস্থলে একত্রিত হই এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারজু খাতুনের বড় ভাই আতাহারের নির্দেশে নারজু খাতুনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়।
পরে আতাহারের নির্দেশে অন্যান্যদের সহযোগিতায় নারজু খাতুনকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যার পর ফাঁকা জায়গায় ফেলে রাখা। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এমএসএম / এমএসএম
লাকসামে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ
বাগেরহাটে জালে আটকা পড়া বিশাল অজগর আটক, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত
লাকসামে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ পালিত
মান্দায় মহিলাদল নেত্রীর ক্ষমতায় কাটা হচ্ছে সরকারি রাস্তার দুই শতাধিক গাছ
খুলনায় ৬০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
আদমদীঘি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চোরাই মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার-২
কুড়িগ্রামে ৯০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, জরিমানা
ঝিনাইদহে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালীতে এক হাতে ছাতা, অন্য হাতে কলম, বৃষ্টির মধ্যেই পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ালো ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক
ধামইরহাটে বিজিবি'র অভিযানে নেশার সিরাফ উদ্ধার
মাগুরা সদর হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, রোগী-স্বজনদের স্বস্তি