ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

আমাদানি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি কক্সবাজারের লবণ ব্যাবসায়ীরা


শাহেদ ফেরদৌস হিরু, কক্সবাজার photo শাহেদ ফেরদৌস হিরু, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ৬-১০-২০২২ দুপুর ৩:৩৫

দেশে ভোজ্য লবণের চাহিদা মেঠাতে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেড় লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য লবণ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আর এই লবণ আমাদনিতে কারসাজি করছে একটি  সিন্ডিকেট। কারসাজির মাধ্যমে সিন্ডিকেটের ব্যাবসায়ীরা কক্সবাজার লবণ মিল মালিকদের কাছ থেকে থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ আছে, দেশে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লবণ সিন্ডিকেটের ব্যাবসায়ীরা। এরপর কম দামে ভারত থেকে লবণ এনে বিক্রি করে অধিক মুনাফায়। অন্যদিকে আমদানি করা বাড়তি লবণের চাপে দেশি চাষিদের উৎপাদিত লবণও স্বল্পমূল্যে হাতিয়ে নিচ্ছে এই লবণ সিন্ডিকেটের ব্যাবসায়ীরা। এছাড়াও কক্সবাজার মিল মালিকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে আমদানির অনুমতি পত্র ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে লবণ সিন্ডিকেটের ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য সারা দেশের ২৩০টি প্রতিষ্ঠানকে চার ক্যাটাগরিতে লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এ ক্যাটাগরিতে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে ২ হাজার ৯৯০ টন করে আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। মূলত দেশের বৃহৎ শিল্প হিসেবে ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সোনারগাঁও সল্ট, পিওর ব্র্যান্ডের এসিআই সল্ট, মোল্লা সল্ট, কনফিডেন্স সল্ট ও এসএ গ্রুপের মুসকান সল্টকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মোট ১৪ হাজার ৯৫০ টন লবণ আমদানি করতে পারবে। এছাড়া বি-ক্যাটাগরিতে ৪৭টি লবণ মিলের প্রতিটি এক হাজার টন করে মোট ৪৭ হাজার টন, সি-ক্যাটাগরিতে ১০৩টি মিল ৬০০ টন করে ৬১ হাজার ৮০০ টন এবং ডি-ক্যাটাগরিতে ৭৫টি প্রতিষ্ঠান ৩৫০ টন করে মোট ২৬ হাজার ২৫০ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়।

তার মধ্যে কক্সবাজারে সি ক্যাটাগরিতে ৬শ মেট্রিক টন করে ১৩ হাজার ২শ মেট্রিক টন আমদানি করতে পারবে ২২ জন।  ডি ক্যাটাগরিতে ৩৫০ মেট্রিক টন করে ১১ হাজার ৫শ ৫০ মেট্রিক টন আমদানি করতে পারবে ৩৩ জন। মোট ২৪ হাজার ৭শ ৫০ মেট্রিক টন লবণ আমদানির সুযোগ পাবে কক্সবাজারে ৫৫ জন মিল মালিক।

কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির নেতারা জানান, লবণ আমদানী করতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। কক্সবাজারের অনেক মিল মালিকরা সে প্রক্রিয়া জানেন না। তাছাড়া বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করতে হলে এক জাহাজে সর্বনিম্ন ৩৫-৪০ মেট্রিক টন লবণ আনতে হয়। কক্সবাজারের তালিকায় আমদানির পরিমাণ মাত্র ২৪ হাজার ৭শ ৫০ মেট্রিক টন হওয়ায় গ্রুপ করে আমদানি করতে হয় মিল মালিকদের। তাই এই ঝামেলা থেকে বাঁচতে
অনেক মিল মকলিকরা তাদের আমদানি  খরচ কমানোর জন্য টাকার বিনিময়ে আমদানির অনুমতিপত্র ভাড়া দিয়ে দেন লবন সিন্ডিকেটের মাফিয়াদের কাছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সিন্ডিকেট করে জিম্মি করে ফেলে কক্সবাজারের ব্যাবসায়ীদের।

আমদানির অনুমতিপ্রাপ্ত কয়েকজন মিল মালিক জনান, ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারনে অধিক দামে লবণ ক্রয় করতে হয় ভারত থেকে। গ্রুপ করে লবণ  আমদানি করতেও সিন্ডিকেট প্রধানদের অতিরিক্ত মুনাফা দিতে হয়। আবার কম লাভে তাদের কাছে লবণ বিক্রিও করতে হয়। সব মিলিয়ে আমদানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কক্সবাজারের অনেক মিল মালিকরা। আবার অনেকের কাছ থেকে অনুমতি পত্র ভাড়া নিয়ে একতরফা ব্যাবসা করছেন লবণ সিন্ডিকেটের মাফিয়ারা ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে লবণ আমদানি করে তাদের মিলে এনেছে। তার মধ্যে রয়েছে মেসার্স সালমা সল্ট ক্রাশিং ও তানজিন সল্ট ক্রাশিং এর মালিক জাহাঙ্গীর আলম। এবং হাজী সল্টের মালিক হাজী জাফর আলম। এছাড়াও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানা গেছে। মেসার্স সালমা সল্ট ও তান‌জিন সল্ট এর সত্বাধীকারী জাহা‌ঙ্গীর আলম জ‌া‌নি‌য়ে‌ছেন, আমার প্রতিষ্টান সালমা সল্ট বি ক‌্যটাগরী‌তে ১০০০ মেঃটঃ এবং তান‌জিন সল্ট সি ক‌্যাগ‌রি‌তে ৬০০ মেঃটঃ লবন আমদানী করার অনু‌মোদন পে‌য়ে‌ছে আমি নিয়ম মে‌নে গ্রুপ এর সা‌থে সব লবন আমদানী ক‌রে‌ছি আমি চেষ্টা ক‌রি ‌ব‌্যবসা‌য়ি‌দের প্রতি দেওয়া সরকারী সকল বি‌ধি বিদান মে‌নে চল‌তে, প্রধানমন্ত্রী জন‌নেত্রী শেখ হা‌সিনা‌কে ধন‌্যবাদ জানায় দে‌শের দৈ‌নিক লবনের চাহীদা পূর‌নে বি‌দেশ থে‌কে লবন আমদানী কর‌তে আমা‌দের সু‌যোগ দেওয়ার জন‌্য।

কক্সবাজার মিল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক হক সল্ট ও নুর সল্ট এর মালিক মঞ্জুর আলম জানান, ৩৫০ মেট্রিক টন বা ৬০০ মেট্রিক টন লবণ আমদানির জন্য তো কেউ এলসি খুলবে না। অনেকের আমদানি করার মত টাকা থাকে না। অনেকের আবার মিল বন্ধ রয়েছে। তাই বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের গ্রুপ লিডার বানিয়ে তাদের মাধ্যমে লবণ আমদানি করে মিল মালিকরা। কয়েকজন আবার সিন্ডিকেটদের কাছে আমদানির কাগজ বা অনুমতিপত্র ভাড়া দিয়ে দেয়।

কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জানান, দেশের লবণ শিল্প ধ্বংসের জন্য পায়তারা চালাচ্ছে সিন্ডিকেটের মাফিয়ারা। দেশে লবনের সংকট তৈরী করে মাফিয়ারা বারবার আমদানির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকারকে। সারাদেশে প্রতিমাসে ২৮ লাখ মেট্রিক টন লবণের চাহিদার বেশি উৎপাদন হয় দেশে। লবণ আমদানি বন্ধ না হলে লবণ উৎপাদনে নিরাশ হবেন চাষীরা। ফলে অন্য ব্যাবসার দিকে ঝুকবেন চাষীরা। অন্যদিকে শিল্প লবণের নামে খাবার লবণ আমদানি করা হলে লবণশিল্প গভীর সংকটে পড়বে। এতে মিলার, চাষি, সরকার ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার বিসিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভা.) মোঃ রিদুয়ানুর রশি জানান, কক্সবাজারে যারা আমদানি অনুমতি প্রাপ্ত হয়েছে ৩৫০ মেট্রিক টন বা ৬০০ মেট্রিক টন হওয়ায় হয়তো গ্রুপ করে আনে। কিছু কিছু মিল মালিক লবণ আমদানি করছে শুনেছি। আমরা যাদের অনুমতি দিয়েছি তারা সঠিকভাবে আমদানি করছে কিনা দেখে রিপোর্ট তৈরি করব। যদি কেউ অনুমতি পত্র ভাড়া দিয়ে থাকে বা কোন অনিয়ম করে থাকে তাদেরকে কালো তালিকার আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে তাদের অনুমতি পত্র বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

এমএসএম / এমএসএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত হাতিকে মাটিতে পুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা!

জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও বিশ্ব শান্তি কামনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আদমদীঘিতে হামীম পেট্রল পাম্পের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

হাটহাজারীতে অকটেন মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় বন্ধ রাখার অপরাধে জরিমানা। 

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত

আদমদীঘিতে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল শিশু হাবিবার

গোমতী নদীর তীর রক্ষায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান

বগুড়ার গাবতলীতে শ্যালো মেশিন ঘর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা সভা: দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

‎হত্যা মামলার আসামির ‘ক্ষোভ’: ৫০ নিরীহ চরবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মনপুরায় তরমুজে ভরা মাঠ, ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত চাষিদের

জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা ও পাচার রোধে রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন