ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

স্বাস্থ্যের ডিজির কুমিল্লা প্রীতি: উদ্বিগ্ন বিশিষ্টজনেরা


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২৬-১০-২০২২ দুপুর ১১:৫৬

জায়গা সংকট দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থাপনের জন্য নেওয়া চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট নিজের এলাকা কুমিল্লায় সরিয়ে নিতে চান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি)। এমন সিদ্ধান্তের কথা জেনে রীতিমতো উদ্বেগ জানিয়েছেন চট্টগ্রামভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের কর্মকর্তারা। 

এর মধ্যে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের প্রকল্প চট্টগ্রামেই বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। 

প্রকল্পগুলো হচ্ছে-নিউরোসায়েন্স, অর্থোপেডিক, মানসিক ও স্কিন ইউনিট প্রকল্প। যেগুলো চমেক হাসপাতালে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মাঝে প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই স¤পন্ন হয়েছে। তবে এখনও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়নি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি আমিনুল হক বাবু এ প্রসঙ্গে বলেন, এই প্রকল্প চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে সরিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম তার নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবে মূল কারণ দেখানো হয়েছে জায়গার সংকট। এটি স¤পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যাচার। 

তিনি বলেন, বড়সড় জায়গা নিয়ে বাংলাদেশে যে কয়টি হাসপাতাল আছে তম্মধ্যে চমেক হাসপাতাল অন্যতম। বর্তমানে চমেকের যে খালি জায়গা আছে তাতে ইউনিটগুলো স্থাপন করা সম্ভব। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নজরে আনবেন। চট্টগ্রামেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামবাসীর আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করবেন।

একইভাবে ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারণ স¤পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু ও সাধারণ স¤পাদক অজয় মিত্র শংকু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চমেক হাসপাতাল শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলার জন্য উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়। রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে এটি এ অঞ্চলের, বিশেষ করে কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সাধারণ মানুষের জন্য সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। 

তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন মানে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নয়। চট্টগ্রাম বিদ্বেষী কিছু মানুষের রোষানলে পড়ে, সরকারের অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই চমেক হাসপাতালে জায়গা সংকটের কথা বলে অন্যত্র বা নিজের গ্রামের বাড়িতে এই প্রকল্প স্থানান্তরের হীন প্রচেষ্টা থেকে সরে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, চমেক হাসপাতালটি এতদঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একমাত্র ভরসাস্থল হবার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল হলেও রোগীরা বারান্দায় ও মেঝেতে চিকিৎসা নেন বাধ্য হয়ে। চট্টগ্রামের জরাজীর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বারবার প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তাই চমেক হাসপাতাল ঘিরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। একই সাথে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোসহ অনেক শিক্ষার্থীও প্রকল্প থেকে উপকৃত হতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসায়েন্স, অর্থোপেডিক, মানসিক ও স্কিন ইউনিট স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চমেক হাসপাতালে নতুন করে চারটি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই মাঝে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই স¤পন্ন হয়েছে। তবে এখনও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়নি।

এসব প্রকল্প নিয়ে গত ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি প্রস্তাব দেন চমেক হাসপাতালের বদলে নতুন ওই চারটি ইউনিট কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। ওই সভায় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, চট্টগ্রামসহ সিলেট ও ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যা¤পাসে হাসপাতাল সম্প্রসারণের জন্য জায়গার সংকট রয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি ওই সভায় বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে নতুন ভবন স্থাপন করা হলে হাসপাতালে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া চট্টগ্রামে স্কিনের চিকিৎসার জন্য একটি আলাদা হাসপাতাল রয়েছে। ওই হাসপাতাল সম্প্রসারণের জন্য জাইকার পক্ষ থেকে অর্থায়নেরও প্রস্তাব রয়েছে। সে কারণে নতুন স্কিন ইউনিটটি চট্টগ্রাম মেডিকেলে না করলেও হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে চমেক হাসপাতালের পরিবর্তে কুমেক হাসপাতালে এই চারটি ইউনিট স্থাপন করা যায় কিনা সেটা যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়। চট্টগ্রামে জমি পাওয়া না গেলে কুমিল্লায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরীক্ষা করা যেতে পারে বলে মতামত দেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি চমেক হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বলেন, ডিজি বিষয়টি সেভাবে বলেননি। এই প্রজেক্টের ডিপিপির কাজ চলছে। যেটা চিটাগংয়ে হওয়া দরকার, সেটা চিটাগংয়েই হবে। যেটা কুমিল্লায় হওয়া দরকার, সেটা কুমিল্লায় হবে। 

তবে চট্টগ্রামে যখন কিছু করতে যাই, তখনই জমি-জমা অধিগ্রহণ নিয়ে অনেক সমস্যা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার হাসপাতালের জায়গা পাওয়া নিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকে চট্টগ্রামের প্রকল্প কুমিল্লায় স্থানান্তরের প্রস্তাবনা রেখেছেন ডিজি। এমন ইঙ্গিত ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়। 
চমেক সূত্র জানায়, জায়গা সংকটের কথা বলা হলেও অন্তত ৮০০ কোটি টাকার স¤পত্তি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারছে না চট্টগ্রাম মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী গোয়াছি বাগান এলাকাতেই রয়েছে বিপুল পরিত্যক্ত জায়গা, যা বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলদাররা ভোগ করে যাচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ

জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী

শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার

শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর

শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার

চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত

জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত

ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত

লোহাগড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার