ডাকাত শাহীন আতংকে রামুর অর্ধলক্ষ মানুষ
২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে রামুর গর্জনিয়া শিবাতলী পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তনা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহীন উর রহমান শাহীন। প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো জড়িয়ে পড়েন অপরাধে। প্রতি রাতে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংক ছড়িয়ে পুরো গর্জনিয়ায় করেছেন রাম রাজত্ব। তার ইচ্ছার ওপর চলে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রায় ৬ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ মানুষ। তার ভয়ে এখন রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। এ অবস্থায় এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ডাকাত শাহীনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা। ডাকাত শাহীন রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে।
রামু থানা পুলিশ জানিয়েছে, শাহীনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ১০-১২টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলা, অপহরণ আর নির্যাতনের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলেন না।
তাদের দেয়া তথ্যমতে, বান্দবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন, দোছড়ি, লেবুছড়ি এবং বাইশারি ইউনিয়ন, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় এলাকার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জিম্মি হয়ে রয়েছে তার কাছে। গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ববোমাংখিল, জাউসপাড়া, মাঝিরকাটায় সন্ধ্যা হলেই সশস্ত্র মহড়া দেয় শাহিন গ্রুপের সদস্যরা। মাঝে মাঝে ফাঁকা গুলি করে জনমনে সৃষ্টি করে আতংক। তার সহযোগী সুজন, শাহজালাল, পুতিয়া, রুবেল, তারেকসহ নাম অজানা অর্ধশত অপরাধী অপহরণ, ডাকাতি আর চাঁদাবাজির টাকা আদায় করে। বলতে গেলে তার ইচ্ছাতেই ব্যবসা করতে হয় ব্যবসায়ীদের।
সম্প্রতি তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানের পলাতক অপরাধীরা। শাহীনের নেতৃত্বেই ঈদগড় বাইশারী সড়ক, নাইক্ষ্যংছড়ি, গর্জনিয়ায় নিয়মিত ডাকাতি হচ্ছে। জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে লোকজন ধরে নিয়ে বেলতলী নামক স্থানে টর্চার সেলে নির্যাতন চালায় শাহীন। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধোলা দিয়ে নিরাপদে পালাতে পারে শাহিন ও তার গ্রুপের সদস্যরা। চাঁদা না দিলে গাছ, গরু ব্যবসা, রবার ব্যবসা, তামাক ব্যবসা করা যায় না।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে ডাকাতি করতে এসে জনতার হাতে আটক হয় তার গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ডাকাত সোনা মিয়া। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এর দুদিন পর স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল গর্জনিয়া গেলে ডাকাত শাহীনকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করার আশ্বাস দেন এমপি কমল।
ইউপি সদস্য মনি আলম বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কিডন্যাপ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, বাগান দখল এবং রাতে মানুষের বাড়ি থেকে গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে যায়। ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অস্ত্রধারী ডাকাতদের হাত থেকে জনগণের মুক্তি দরকার। জনগণ এগিয়ে আসছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
শাহীনের নির্যাতনের শিকার হেলাল উদ্দিন বলেন, রাতে অস্ত্রের মুখে আমাকে পূর্ব বোমাংখীল এলাকার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তার টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। এক দিন পরে লাখ টাকার বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে দেয়।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, শাহীন ডাকাতের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। তাকে ধরার চেষ্টা করছি আমরা।
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, অপরাধীর একটি পরিচয়- সে অপরাধী। যে বা যারা দুর্বৃত্তায়নের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
এমএসএম / জামান
আবারও র্যাগিংয়ের শিকার, হাসপাতালে পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থী
রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত
মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা
মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা
বাগেরহাটে ব্র্যাকের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উযযাপন, বিনামুল্যে আই ক্যাম্প পরিচলনা
পাঁচবিবিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বিতরণ
পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ
কৃষকের জমি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ
নড়াইলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের
রূপগঞ্জে ফরটিস গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
ধামরাইয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান
কুড়িগ্রামে সিএনজি চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ
Link Copied