বিএনপির ৬ এমপির পদত্যাগ ‘অবৈধ’ সংসদের ‘বৈধ’ সুবিধা নিয়েছেন তারা!
একাদশ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি সংসদকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আসছে। তাদের মনোনয়নে বিজয়ী হওয়া ৭ জন এমপি খোদ সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদকে ‘অবৈধ’ দাবি করেছেন। তারা শনিবার রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে গণসমাবেশে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ই-মেলে তারা পতত্যাগপত্র স্পিকারকে পাঠান। পরদিন রোববার শুধু হারুনুর রশিদ বাদে অন্যরা স্পিকারের দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র দেন। এরই মধ্যে তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। হারুনুর রশিদের পদত্যাগপত্রে তার সই স্ক্যান করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরলে পদত্যাগ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ওই ছয়টি আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করার পরই আলোচনায় এসেছে, চার বছর ধরে যে সংসদকে তারা ‘অবৈধ’ বলে এসেছেন, সেই সংসদ থেকে নেওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলোর কি হবে।
ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্য থাকাকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কী কী সুবিধা নিয়েছেন তা জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব, অর্থ সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিএনপির এমপিরা রাষ্ট্র থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তা জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, জনগণ তাদের পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আর এই পাঁচ বছরে জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্যই তারা শপথ নিয়েছেন। অথচ পাঁচ বছর পূর্ণ না করে, জনগণকে সেবা না দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা বেআইনি। ২০১৮ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। তবে নির্বাচনের দিনই ফলাফল বর্জন করে এবং পরবর্তীতে সংসদকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয় দলটি। কিন্তু সেই সংসদেই এমপি হিসেবে শপথগ্রহণ করে বিএনপির ৭ জন।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। তারা প্রতি মাসে নির্বাচনি এলাকার ভাতা ১২ হাজার ৫০০ টাকা, সম্মানী-ভাতা ৫ হাজার টাকা, পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা, নির্বাচনি এলাকায় অফিস খরচ ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি-ভাতা এক হাজার ৫০০ টাকা, ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ খরচ ৬ হাজার টাকা এবং ৭ হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাতা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ভ্রমণ খরচ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বেচ্ছাধীন তহবিল বার্ষিক ৫ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। একাধিক তথ্য ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এর বাইরেও সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা রয়েছে। বিএনপির ৭ সংসদ সদস্যের সবাই শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা নিয়েছেন। আগে সংসদ সদস্যদের জন্য রাজধানীতে প্লট বরাদ্দের রেওয়াজ থাকলেও রাজউকের প্লট খালি না থাকায় চলতি সংসদে তা বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারকে ‘অবৈধ’ বলার পরও রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। যদিও পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই আবেদনপত্রটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। এছাড়া সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত এমপি হোস্টেল বিএনপির ৭ সংসদ সদস্যই ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছেন। অন্যদিকে জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালে বিএনপির হারুনুর রশীদ সংসদ সদস্য হিসেবে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির এক সপ্তাহ পরই তিনি তা বিক্রি করে দেন। শুল্কমুক্ত গাড়ি এনে তা বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ মামলায় হারুনুর রশীদকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। এদিকে সংসদকে ‘অবৈধ’ বললেও চার বছর ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া সুযোগ-সুবিধা অনৈতিক হয়নি বলে দাবি করেছেন রুমিন ফারহানা। সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় বেতন-ভাতা ফেরত দেবেন কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেতন-ভাতা নিয়েছি, এর বিনিময়ে আমরা কাজ করেছি। তাই এটা ফেরত দেওয়ার কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির পদত্যাগী এমপি আমিনুল ইসলামও গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা অনৈতিক হতে পারে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেছেন, সংসদকে ‘অবৈধ’ দাবি করার পরও সংসদ সদস্য হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা নেওয়া কতটা নৈতিক সেই প্রশ্ন যে কেউই তুলতে পারেন। কারণ ‘অবৈধ’ দাবি করার পরও সুবিধা গ্রহণ করাটা অনৈতিক। এ জন্য জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তবে আইন অনুযায়ী তিনি সব সুযোগ-সুবিধাই পাবেন। আর সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করার এখতিয়ার রয়েছে যেকোনো সংসদ সদস্যের।
৩৫০ আসনের সংসদে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য হলেন উকিল আব্দুস সাত্তার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২); হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); জি এম সিরাজ (বগুড়া-৭); আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২); জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩); মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪) ও রুমিন ফারহানা (সংরক্ষিত নারী আসন)।
সুজন / সুজন
সংসদে আলোচনা শেষে সংস্কার পরিষদ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বিরোধী দল
অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার
সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে
রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির
বিএনপির থেকে পদত্যাগ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের
রাষ্ট্রপতির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই : তাহের
এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি
নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, একাধিক প্রার্থীকে হারানো হয়েছে : নাহিদ
গৌরবের মুক্তিযুদ্ধকে ভূলুণ্ঠিত করা আ. লীগকে পুনর্বাসন করা যাবে না
সমর্থকদের যে অনুরোধ জানালেন আমির হামজা
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজ করছে বিএনপি সরকার : মির্জা ফখরুল