সিংড়ার সেই সাজেদা পেলেন বাড়ি
এক সময়ে ছিল সাংসারিক জৌলুস। কেননা স্বামীর ছিল ১০০ থেকে দেড়শত বিঘা জমি। ভালোই চলছিল সংসার। চার ছেলে আর ৩ মেয়ে কে নিয়ে কাটছিল তাদের সুখের জীবন। কিন্তু হঠাৎ করেই জুয়া বোর্ড খেলায় মেতে ওঠেন স্বামী। এরপর ওই জুয়া নেশার কারণেই একে একে নিঃশেষ হতে থাকে তার পরিবারের জৌলুস। একসময় স্বামী মারা গেলেন। মারা যাওয়ার আগে নিঃশেষ হয়ে যায় সংসার আর জমি। এদিকে চার ছেলের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছিলেন দুই জন। এক প্রতিবন্ধী ছেলে ছিলেন কোরআনে হাফেজ। স্বামীর মৃত্যুর পর ওই হাফেজ সন্তানও মারা যায়। ওদিকে স্বামীর মৃত্যুর পরে কৃষি কাজ করে জীবিকা চালানো দুই ছেলে আর তাকে দেখেননি। তাদের কাছে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ মা আর প্রতিবন্ধী ছেলের। অবশেষে মনের নানা কষ্ট, অবহেলা আর যন্ত্রণা নিয়েই একাকী একদিন বের হয়ে যান বাড়ি থেকে। পরিবারের সদস্যরা নানা জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পায়নি।
রবিবার একটি মিডিয়ার খবরের সূত্র ধরে সেই বৃদ্ধাকে অবশেষে ঢাকায় পান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পলকের বদান্যতায় ওই বৃদ্ধা ফিরলেন নিজবাড়ী। আর তার প্রতিবন্ধী ছেলে পেলো মা আর অবলম্বন।
ওই বৃদ্ধার নাম সাজেদা বেওয়া। বয়স ৬৫ বছর। তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার শুকাশ ইউনিয়নের হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের মৃত যশমত আকন্দর স্ত্রী এবং চৌগ্রাম কলেজের কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকীর ফুফু।
আবু বকর সিদ্দিকী জানান, গত প্রায় ১০-১২ বছর আগে তার ফুফা যশমত আকন্দ মারা যান। এরপর গত দুই বছর আগে একদিন বাড়ি ছেড়ে করে চলে যান ফুফু। অবশেষে রবিবার ঢাকায় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ওই বৃদ্ধাকে পান। ওই সময় প্রতিমন্ত্রী পলক তাকে ঢাকায় ডেকে নেন। তার সঙ্গে তার ফুফুকে নিজ গাড়িতে করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এসময় ফুফুকে ২০ হাজার টাকা দেন পলক। বাড়িতে ফেরার পর ফুফু তার বাড়িতে রয়েছেন দাবি করে আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক তিন লাখ টাকা দিয়েছেন তার ফুফুর বাড়ি করে দেওয়ার জন্য। এছাড়া একটি গাভী দিয়েছেন। সোমবার সকালে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন তার ফুফুকে বিধবা কার্ড ও তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বামীর বাড়ির পাশেই ২ শতক ভূমি নির্ধারণ করে মাপ যোখ করে দিয়েছেন। সেখানেই ফুফুর বাড়ির কাজ শুরু হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আবু বকর সিদ্দিক জানান, অনেকদিন পর মাকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়েছে ফুফুর ওই প্রতিবন্ধী ছেলে। ওই ছেলেকে নিয়ে যাতে সুখে জীবন যাপন করতে পারেন সেই জন্য ওই বিশ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ির পাশেই একটি ছোটখাটো ব্যবসা খুলতে বলেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। ব্যবসার প্রয়োজনীয় মালামাল সহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকাও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় সোমবার সকালেই তিনি বৃদ্ধার স্বামীর বাড়ির পাশেই জায়গা নির্ধারণ করেছেন। ইতো মধ্যেই ঘর তৈরীর ইট, বালি, সিমেন্ট, রড নিয়ে আসা হয়েছে। শুরু হয়েছে কাজ।
এক মাসের মধ্যেই ওই বৃদ্ধার জন্য ঘর তৈরি হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, বাড়ির নির্মাণ শেষ হলে সেখানে ওই বৃদ্ধা উঠবেন তার ছেলেকে নিয়ে। বাড়ির সাথে ছোটখাটো একটা ব্যবসা করবেন। সেই জন্যও সহযোগিতা করবেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক।
এমএসএম / এমএসএম
চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত, মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে সফলতার গল্প
ধামইরহাটে কারিগরি প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠিত
এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: মীর হেলাল
শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু, সচেতনতা বাড়াতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি
ধামইরহাটে মাদক বিরোধী ঝটিকা অভিযানে ধান ক্ষেতে উদ্ধার হলো সাড়ে ৬ হাজার লিটার চোলাইমদ
ধামইরহাটে পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন
আত্রাইয়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
পত্নীতলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালিত
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলার সুধীজন ও কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা
সিংড়ায় ত্রাণ গোডাউনের উদ্বোধন
সাভারে ইনসাব'র উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হলেন মাসুদ রানা পলিন
গজারিয়া পুকুরপাড় থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন: পুষ্টি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়
Link Copied