মায়েদের সেবায় নুরজাহান বেগমের ৪৫ বছর
নুরজাহান বেগমের বয়স ৭৫। প্রায় ৪৫ বছর ধরে নিভৃত পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের নিরাপদ ও স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবে সহায়তা করছেন। তাই এলাকায় তিনি ‘জননী’ হিসেবে পরিচিত। বয়স হওয়ায় এখন নুরজাহানের ব্যস্ততা কিছুটা কমেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নয়াবিল ইউনিয়নের রাতকুচি এলাকায় নুরজাহানের বাড়ি।
তিনি বলেন, প্রায় ৫৫ বছর আগে বিয়ে হয়ে রাতকুচি এলাকায় এসেছিলেন তিনি। বিয়ের পর এক প্রতিবেশির সঙ্গে বাড়ি বাড়ি যেতেন তিনি। দেখে দেখেই নারীদের স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করানোর কাজটি তখন শিখেছিলেন। একসময় টাঙ্গাইলের মধুপুরে ব্র্যাকের সহায়তায় দুই মেয়াদে ধাত্রীসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নিজের বয়স হওয়ায় এখন তিনি অন্য নারীদের ধাত্রীর কাজটি শিখিয়েছেন।
এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি নারীর সন্তান প্রসবের ‘জননী’ হিসেবে কাজ করেছেন নুরজাহান। স্বামী মারা গেছেন প্রায় একযুগ আগে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ের ঘরে ৬ জন নাতি-নাতনি আছেন। সবার প্রসব করিয়েছেন নুরজাহান বেগম নিজে। ধাত্রীসেবা দিতে গিয়ে তিনি বা এলাকার অন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা কোনো অর্থ নেন না। তবে এলাকায় রেওয়াজ আছে, যেদিন নবজাতককে প্রথম আঁতুড় ঘর থেকে বের করা হয়, সেদিন ওই পরিবার সাধ্যমতো দাওয়াতের আয়োজন করে। সেদিন ধাত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তখন কেউ কেউ খুশি হয়ে ধাত্রীকে নতুন শাড়ি উপহার দেন। এই রীতি এখনো গ্রামে আছে।
নুরজাহান বলেন, একসময় গ্রামে নারীদের সন্তান প্রসবে তাঁরাই মূল ভূমিকা পালন করতেন। তখন গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা এখনকার মতো উন্নত ছিল না। মানুষজন উপজেলা সদরে কিংবা শহরে যাওয়ার চিন্তাও করত না। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রসূতি নারীদের গর্ভকালীন নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। ফলে বাড়ির বদলে অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছেন। তবে অনেকেই আছেন, যাঁরা ধাত্রীর মাধ্যমে সন্তান প্রসবের কাজটি করিয়ে থাকেন।
কেমন ছিল তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা? নুরজাহান জবাবে বলেন, নিজের গ্রাম তো আছেই, উপজেলার দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে তাঁকে নিয়ে যেত। দিন নেই, রাত নেই, যখন-তখন তাঁর ডাক পড়ত। তখন যোগাযোগব্যবস্থা ভালো ছিল না। বর্ষায় নৌকা আর হেমন্তে হেঁটেই যেতে হতো গ্রামগুলোতে। নুরজাহান জানান, এই গ্রামে বিয়ে হয়ে আসার পরের কয়েক বছর থেকে এ যাবত নিরাপদ মাতৃত্বের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের আরও কয়েকজন এ সেবা দেওয়ার কাজটি করছেন। তিনি তাঁদের পরামর্শ দেন। কখনো নিজে উপস্থিত থেকে অন্য ধাত্রীদের কীভাবে কাজটি করতে হয় সেটি শেখান।
নুরজাহান বেগমের ছেলের বউ সুমি আক্তার জানান, তাঁর শাশুড়ি এই কাজে খুবই অভিজ্ঞ। এখনো জটিল কোনো সমস্যা দেখলে তাঁকে ডাকে লোকজন। তিনিও ছুটে যান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, নুরজাহান বেগমকে এলাকার সবাই সম্মান করেন। তিনিও মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এমএসএম / এমএসএম
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের উদ্বোধন
লাকসামের অলি-গলিতে শীতের পিঠা বিক্রেতাদের মহা-ধুমধাম
শেরপুরে পিআইবির উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন
মনপুরায় আইনের জালে প্রভাবশালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার, আ.লীগ নেতা আটক
শালিখায় ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন-জেলা প্রশাসক
গজারিয়া সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক ৪
সিংগাইরে জমি বিক্রির পরও দখল বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযোগ
চন্দনাইশে বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
দাউদকান্দিতে চলন্ত বাসে ভয়াবহ আগুন: নিহত ৪, দগ্ধ অন্তত ৩৫
নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসহ ৬জন গ্রেফতার
গাইবান্ধায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা: কথা বলার ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটক
বাউফলে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা চালক নিহত, আহত ২
কুড়িগ্রামে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আটক ১০
Link Copied