মৌলভীবাজারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে চা শিল্পে
দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি ও অধিক তাপমাত্রা থাকার পর কয়েক দিন ধরে লাগাতার ঝড়–বৃষ্টি হচ্ছে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে। স্বস্থির বৃষ্টি আর তাপমাত্রা কমায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চা–বাগানগুলো। বৃষ্টির পানি গায়ে লাগিয়ে দুটি পাতা একটি কুঁড়িতে ভরে উঠেছে চা–গাছগুলো। চা–বাগানসংশ্লিষ্টরা বলছেন বৃষ্টি চা–বাগানের জন্য আশীর্বাদ হলেও অতিবৃষ্টি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার শ্রীমঙ্গলে ৪০ মিলিমিটার, আজ রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত ৪১ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে ২৪ জুন পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক বিপ্লব দাশ। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার কয়েকটি চা–বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, অনাবৃষ্টি আর অধিক তাপমাত্রায় মলিন হয়ে যাওয়া চা–গাছে প্রাণ ফিরে এসেছে। চা–বাগানের পুরোটাই সবুজ হয়ে উঠেছে। গাছে গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। বৃষ্টিস্নাত চা–পাতাগুলো ফিরে পেয়েছে তার সৌন্দর্য। সাপ্তাহিক ছুটি ও ঝড়–বৃষ্টি থাকায় চা–বাগানগুলোতে বেশি চা–শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা যায়নি। যাঁরা সকালে কাজে বের হয়েছিলেন, তাঁরা বাড়ি ফিরে গেছেন। শ্রীমঙ্গলের ক্লোনেল চা–বাগানের ব্যবস্থাপক রনি ভৌমিক বলেন, চা–বাগানে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল কয়েক দিন আগে, আমরা চা–গাছে কৃত্রিমভাবে পানি দিতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছি। চা–বাগানের পানির উৎসগুলোতে পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছিল। এখন বৃষ্টি হওয়ায় অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে বৃষ্টিতে যেমন উপকার হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিও হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আগে অনাবৃষ্টি ও অধিক তাপমাত্রা ছিল আর এখন বৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু দিনের বেলা রোদের দেখা মিলছে না। এতে করে চা–গাছের কিছুটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ঝড়–বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে শ্রমিকদের চা–বাগানে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে বজ্রপাতে দুজন মারা যাওয়া ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবরে অনেক শ্রমিক চা–বাগানের সেকশনে কাজ করতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। চা–বাগানে অনেক পাতা থাকলেও ঝড়–বৃষ্টির কারণে সেগুলো তুলে আনতে খানিকটা সময় লাগছে। আর লাগাতার বৃষ্টির কারণে মশার উপদ্রপও বেড়েছে। ইস্পাহানি জেরিন চা–বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, চা–বাগানের জন্য বৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। কিছুদিন আগেও আমরা চা–বাগানে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেছি। বৃষ্টি না থাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে চা–বাগানে পানি দিতে হয়েছে। অধিক তাপমাত্রা ও অনাবৃষ্টির কারণে চা–বাগানে অনেক প্রভাব পড়েছিল। অনেক চা–বাগানে চা–পাতা, নতুন কুঁড়ি বের হচ্ছিল না। ঠিকমতো চা–গাছের কুঁড়ি না আসায় উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। নতুন কুঁড়ি না আসা, পানির সংকট, লাল মাকড়সার আক্রমণ প্রায় সব চা–বাগানেই ছিল। এই বৃষ্টির ফলে চা–গাছগুলো সজীবতা ফিরে এসেছে চা–বাগানে। এখন পর্যন্ত বৃষ্টি ঠিক আছে। তবে অধিক বৃষ্টিও চা–বাগানের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড এ কে এম রফিকুল হক বলেন, চা–বাগানে প্রাকৃতিক বৃষ্টি অনেক উপকারী। অনেক দিন অনাবৃষ্টির পর এখন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, এতে চা–গাছের জন্য উপকার হবে। তবে অতিবৃষ্টি হয়ে চা–গাছের গোড়ায় পানি জমলে তা চা–গাছের জন্য ক্ষতিকর হবে। চা–গাছের নিচে যেন পানি না জমে, সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এমএসএম / এমএসএম
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
মরণফাঁদে পরিণত পাঁচুড়িয়া খাল: দেখার কি কেউ নেই..?
বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা
লাকসামে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত
টুঙ্গিপাড়ায় ভেজালমুক্ত খাদ্যের দাবিতে র্যালি-মানববন্ধন
নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশী অস্ত্রসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার
ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার-মিটার ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো গ্রাহক
কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার
গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
গোবিপ্রবিতে ৯ বিভাগে কেমিক্যাল সরবরাহ, মেডিকেল সেন্টারে নতুন সরঞ্জাম সংযোজন
ভূরুঙ্গামারীতে তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে
গোবিপ্রবির দুই প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত