কউক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ
কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় খাস জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে অনুমোদন বিহীন বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেই কোন ছাড়পত্র। কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব ভবন নির্মান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ আছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ইমারত নির্মাণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরকান মাহমুদ ও ফোরকান আহমদ নামের দুই ভাই কক্সবাজার শহরের কলাতলী সুগন্ধা হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় খাস জমিতে নির্মাণ করেছেন অনুমোদন বিহীন বহুতল আবাসিক হোটেল। যার নাম দেওয়া হয়েছে হোটেল রিগ্যাল পার্ক।
যদিও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন বলছে, কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার মধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোন ইমারত নির্মাণ করার নিয়ম নেই। কোন ব্যক্তি এই নিয়ম অমান্য করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দশ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় করার নিয়ম আছে। এছাড়াও অবৈধভাবে নির্মাণাধীন কোন ইমারতের মালিককে নোটিশ প্রদান করার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বসবাসকারী ব্যাক্তি ইমারত ত্যাগ না করলে উক্ত বসবাসকারীকে উচ্ছেদ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে, এত আইন থাকা স্বত্বেও অর্থের বিনিময়ে আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এই প্রভাবশালীরা কিভাবে বহুতল নির্মাণ করেছেন প্রশ্ন স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলাতলী সুগন্ধা হোটেল -মোটেল জোনের পেছনে সৈকত স্বরণী আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই খাস জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে একের পর এক বহুতল ভবন। সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে রিগ্যাল পার্ক নামের একটি সাত তলা ভবন। সেখানে রাখা হয়নি কোন পার্কিং ব্যাবস্থা। মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। এবং ভবন নির্মানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার করায় যেকোন সময় ভবনটি ভেঙ্গে যেতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, রিগ্যাল পার্ক নামের এই বহুতল ভবন নির্মাণে নেওয়া হয়নি কউক কর্তৃক মাস্টার প্লান। নেই সয়েল টেস্টের অনুমোদনপত্র। মানা হয়নি বিল্ডিং কোড। এই ভবন নির্মানের সময় যদি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাস্টার প্লান অনুমোদন নিতো তাহলে সুশৃঙ্খলভাবে ভবন নির্মাণ হতো। রাজস্ব আয় হতো সরকারের। এরকম অনুমোদন ছাড়া যে যার মতো করে ভবন নির্মাণের ফলে পর্যটন শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে দাবী করেন তারা।
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কিভাবে খাসজমিতে সাত তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে জানতে চাওয়া হয় রিগ্যাল পার্কের স্বত্বাধিকারী দুই ভাই আরকান মাহমুদ ও ফোরকান আহমদের কাছে। তারা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে পৌরসভা কার্যালয় থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়েছিলো। তবে তারা ভবন নির্মান করেছেন দুই বছর আগে। কউক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আগের আইন বাতিলের পরেও কিভাবে ভবন নির্মান করা হয় জানতে চাইলে তারা বলেন, বর্তমান আইন সম্পর্কে না জেনে ভবন নির্মান করে ফেলেছি। তাই আমরা নতুনভাবে ফাইল পত্র গুছিয়ে কউকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বৈধ করে নিব।
তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন ইমারত পরিদর্শ ডেভিড চাকমা। তিনি বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে। যদি এই রকম হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবন নির্মানের পর নতুনভাবে অনুমোদন নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কেউ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ভবন নির্মাণ করে ফেলে সেক্ষেত্রে নির্মানের দশগুন টাকা জরিমানা করে অনুমতি দেয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, অনুমোদন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মান করার বিষয়ে অবগত নয়। তবে খোজ খবর নিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যাবস্থা গ্রহন করা বলে জানান তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
মান্দায় গভীর রাতে অভিযানের নামে হিন্দু পল্লীতে পুলিশের তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা
মুরাদনগরের জিলানী প্রবাসে নিহত,দ্রুত লাশ পেতে পরিবারের আকুতি
আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা
মোহনগঞ্জে দুই বছরের শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
আদমদীঘিতে এক মাদক ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা
রামেক হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব: ডা. রফিকুল ইসলাম
মাধবদীতে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি: বিএসটিআই’র অভিযানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে জামায়াতের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
গজারিয়ায় বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন
ব্যক্তিগত কালিমন্দির-বসতভিটা জবর দখলের অভিযোগ সাবেক জাতীয় টিমের নারী ক্রিকেটার একার সংবাদ সম্মেলন
ভাঙারি মাল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, নিহত কাউনিয়ার দুই যুবক
মেসার্স ভোলাহাট ফিলিং স্টেশন কে জরিমানা করল ভ্রাম্যমাণ আদালত