কে এই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে মেজর জেনালের (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১০০টি আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন জোটের পক্ষ থেকে। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব জাফর আহমেদ জয়, নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাসচিব ফারুকুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, অতিরিক্ত মহাসচিব তফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন, স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীককে নিয়ে তার জন্ম স্থান চট্টগ্রামসহ সারা দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষের মানুষ তার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করলেও তোর জোটের মিত্ররা বিষয়টি নিয়ে নেগেটিভ সমালোচনায় লিপ্ত। তবে তিনি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে তার দল বিএনপির শরীক হিসেবে জোটে থাকলে বিগত সময়ে বিএনপি নেতারা তাকে দলের একজন শরীকদার এবং সিনিয়র নেতা হিসেবে তাকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেয়নি। বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও জেলা পর্যায়ের নেতাদের চেয়ে কম মূল্যায়ন করেেছ বিএনপির নেতারা। যার কারণে কল্যাণ পার্টির নেতা কর্মীদের মধ্যে এবং দুরুত্ব সৃষ্টি হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে হাটহাজারী থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলেও বিএনপির নেতারা কোন ধরণের সহযোগিতা করেনি। মেজর জেনারেল ইবরাহিম বীর প্রতীক একজন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সৎ এবং মেধাবী একজন মানুষ। সৃজনশীল কর্মকান্ডে তিনি জড়িত।
মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবারাহীম বীর প্রতীক ১৯৪৯ সালে ৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িচর গ্রামে জন্ম। পিতা-এস এম হাফেজ আহমেদ, মাতা সামসুন্নাহার, তিনি ১৯৭১-১৯৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর মেজর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধেও সময় তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব উপাধি প্রাপ্ত হন।
কর্ম জীবনে ১৯৭১ সালে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরিরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি পরে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নামের একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হন। ২০০৬-২০০৮ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের সময়ে ২০০৭ সালের ডিসম্বও বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি" নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৮ সালে তার দলটি কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়। তিনি ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে পুনরায় দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরীক। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী তাকে বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য বঙ্গভবনে আয়োাজিত অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া কারণ তার নামটি একটি বর্জন তালিকায় ছিল। ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম তাকে রাষ্ট্রপতির বাস ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মেজর জেনারেল ইব্রাহিম একজন লেখক এবং বক্তা। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধেও সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ান অন্তর্গত আখাউড়া ছিলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে। এর পাশেই ছিলো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। সেখানে ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর আখাউড়া মুক্ত হয়। ‘সি’ কোম্পানির দলনেতা ইবরাহিমও সহযোদ্ধাদের নিয়ে সেই যুদ্ধে অংশ নেন। সেদিন যুদ্ধের রাতে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন দলনেতা তৈরী হন মুখোমুখি যুদ্ধের জন্য। লক্ষ্য আক্রমণ করবেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে। ভয়াবহ এ সম্মুখ যুদ্ধে বেশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিচলিত হননি। নির্ধারিত সময়ে আগেই ভারত থেকে শুরু হয় দূরপাল্লার গোলাবর্ষণ। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ধরে চলে তা। গোলাবর্ষণ শেষ হওয়া মাত্র ইবরাহিম সহযোদ্ধাদের নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর আর শুয় হয় মেশিনগান, রাইফেলসহ অন্যান্য অস্ত্রের অবিরাম গোলাগুলি। দুই পক্ষে সমানতালে যুদ্ধ চলে। যুদ্ধের একপর্যায়ে পাকিস্তানিদের পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা বড়ে যায়। তবে সে সময়েও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং সহযোদ্ধাদের মধ্যে সাহস যোগান। প্রচুর গোলাগুলির মধ্যেও নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যান তিনি এবং সহযোদ্ধারা যাতে ছত্রভঙ্গ না হয়ে যাওয়া যায় সেদিকেও নজর রাখেন। তার প্রচেষ্টায় সহযোদ্ধারা অনুপ্রাণিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালান। তাদের সাহসিকতয় থেমে যায় বেপরোয়া পাকিস্তা সেনাদের অগ্রযাত্রা। গত বুধবার নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে তার পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা। তারেকুল ইসলাম নামের একজন বলেছে ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে যাচ্ছে। অন্যদিকে মনজুর আহমদ নামের একজন লিখেছেন উনি শতভাগ সৎ মানুষ। টাকা পয়সা দিয়ে কেউ উনাকে কিনতে পারবে না। হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন চেয়ারম্যান বলেন, মেজর সাহেব একজন সিনিয়র মানুষ বয়স্ক মানুষ অনেক সময় সরকারের চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নির্বাচনের আগে পড়ে কোথায় কোন দিক দেকে বাতাস শুরু হয় বলা যায় না।
এ বিষয়ে কল্যাণ পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিব বলেন, আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সঠিক, উনি দল এবং জাতির কল্যাণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনার সিদ্ধান্তকে দলের নেতা কর্মী এবং সাধারণ মানুষ স্বাগত জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীকের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।
এমএসএম / এমএসএম
বোয়ালখালী সাংবাদিক ফোরাম - চট্টগ্রামের আত্মপ্রকাশ
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে এপেক্স ক্লাব অফ গোপালগঞ্জ-এর ৫ম দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত
রাজস্থলীতে এ্যাম্ভুল্যান্সের চালক ডিউটি অবহেলায় রোগীবহন ভোগান্তি স্বীকার
ভূরুঙ্গামারীতে সার্কেল এএসপি নেতৃত্বে ভারতীয় প্রাসাধনী ও বাসুমতি চাল জব্দ
নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
রাজারহাটে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তারেক মঞ্চের মতবিনিময় সভা, ১২ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সুবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার
আমি সবার এমপি, সবার কল্যাণে কাজ করবো : প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ