অর্থিক সহায়তা পেলে আরো বেগবান হবে আক্কেলপুরের তাঁতিরা
বাংলার অন্যতম একটি প্রাচীন শিল্প তাঁত শিল্প। এই তাঁত শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। সরকারি অথবা বেসরকারি অর্থিক সহায়তা ও উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে আরো বেগবান হবে তাঁতিদের কার্যক্রম। অন্যথায় ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হবে এই শিল্পটি, এমনটি জানিয়েছেন অধিকাংশ তাঁতিরা।
তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের শ্যামপুর,স্বরস্বতীপুর ও মোনপুর গ্রামে প্রায় ১৫’শ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৯’শ টি পরিবার তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত।সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে তাঁত যন্ত্র। তাঁত যন্ত্রের খট-খট শব্দে মুখতির পুরো এলাকা। চলছে গামছা, চাদর ও তোয়ালা তৈরির কাজ। এসকল কাজ করছেন তাল মিলিয়ে সকল বয়সী নারী-পুরুষ উভয়েই। প্রায় প্রতিটি বাড়ির অঙ্গিনায় রাখা আছে সুতা গোছানো চরকা। অনেকেই আবার ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন তাঁত যন্ত্রে ব্যবহৃত সুতা গোছানো ও সুতায় রং করার কাজে।
গ্রামের অধিকাংশ তাঁতিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের এই কাজে ব্যবহৃহ সুতা সংগ্রহ করতে হয় পাশর্^বর্তী বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সাওল বাজার অথবা সান্তাহার থেকে। তাদের উৎপাদিত এসকল পণ্য পাইকারী বিক্রয়ও হয় ওই দুই বাজারে। তবে তাদের অধিকাংশ তাঁতিরাই রয়েছেন অর্থ সংকটে। দাবী জানিয়েছেন সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থার নিকট থেকে আর্থিক সহায়তা, উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এই শিল্পের প্রতি মানবিক নজরদারির। অন্যথায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের এই কর্মটি।
ওই গ্রামের প্রায় ৯০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ বলেন, দেশ স্বাধীনেরও ১০ বছর পূর্বে থেকে আমি এই কাজের সাথে জড়িত। আমরা বর্তমানে পুঁজি সংকটের মধ্যে রয়েছি। সুতার দামও অনেক বেড়ে গেছে। সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থা কোন খাত থেকে সহায়তা করলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব’।
তাঁতি আব্দুল রাজ্জাক বলেন,‘ আমাদের এই গ্রামের মানুষ তাঁতি সম্প্রদায়। আমারা কখনো কোন সহায়তা পাইনি। এই ব্যবসা করতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা লাগে। এই পরিমাণ পুঁজিও অনেকের না থাকায় ছোট পরিসরে কোন রকমে অনেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি কোন অনুদান অথবা সহায়তা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে আমাদের অনেক উপকার হতো’।
বৃদ্ধা তানিজা খাতুন বলেন,‘ আমরা এই কাজ করে সংসার চালাই। এই কাজ ছাড়া অন্য কাজ করতে পারিনা। এখন সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সাহায্য পেলে আমরা আরো ভালোভাবে এই কাজ করতে পারব’।একই গ্রামের বাসিন্দা হারুন বলেন,‘ আমি ছোট থেকে দেখে আসছি আমাদের এই গ্রামে তাঁতের কাজ হয়। বর্তমানে তাঁতিরা অর্থ সংকটে রয়েছে। তাদের সহায়তা করা না হলে পর্যায়ক্রমে এই গ্রামে দিন দিন তাঁতির সংখ্যা কমে আসবে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার নিকট আমার দাবী এই শিল্পের প্রতি যেন সুনজর দেওয়া হয়, অন্যথায় এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে’।
তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মাহবুব সজল বলেন,‘ আমার ইউনিয়নের তাঁতি সম্প্রদায়ের অনেক লোকজন রয়েছে। তারা অর্থ সংকটের মধ্যেও কষ্ট করে এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। আমরা সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করে থাকি। শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করার বিনীত অনুরোধ করছি’। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন এবং মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠি কে সাবল¤ী^ করে তোলার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। তাঁতিদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে’।
এমএসএম / এমএসএম
লোহাগড়ার সিডি বাজারে গাঁজা বিক্রির সময় জনতার হাতে মাদক কারবারি আটক
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ