এই শীতে পাতলা একখান কম্বল দিয়া শীত আটকান যায় না
এই খোলা যাগায় এত ঠান্ডার মইধ্যে রাইতে ঘুমতো দূরের কথা, বইয়াও থাকতে পারি না বাবা। খালি কাল বাতাস আর বাতাস, হাত-পা সব ঠান্ডা হইয়া যায়। পাতলা একখান কম্বল দিয়া এই শীত আটকান যায় না।’ তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে এমনটাই বলছিলেন পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনালে বসা আলেয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা।
ঘন কুয়াশায় রাতের পটুয়াখালী শহরে ঘুরলে বোঝা যায় এই তীব্র শীত কিছু কিছু মানুষের জীবনে অভিশাপের মতো। রাস্তার ফুটপাতে, বন্ধ চায়ের দোকানের বেঞ্চে কিংবা শহরের লঞ্চ টার্মিনালের ভেতরে দেখা মেলে গৃহহীন ছিন্নমূল মানুষগুলোর। যাদের কাছে শীত মানে অভিশাপ। এদের কাছে নেই মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই, পেটে নেই অন্ন, শরীরে নেই শীত ঠেকানোর মতো কোন পোষাক। এ যেন পৃথিবীতে বসেই নরকের যন্ত্রণা ভোগ করছে অসহায় মানুষগুলো।
প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি ভাবে এই অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোকে শীতবস্ত্র বিতরণ সহ বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদান করা হলেও এ বছরে এখন পর্যন্ত তেমন কোন কিছু চোখে পড়েনি।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই হাঁড় কাঁপানো তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত। দক্ষিণবঙ্গ পটুয়াখালী জেলায় ঘন কুয়াশায় ঠিকভাবে তেমন রোদের দেখা মিলছে না বেশ কয়েকদিন। ফলে দিন ও রাতে প্রায় একই রকম শীত পড়ছে। এই তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
পটুয়াখালী জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই তীব্র শীত আরও বেশ কিছুদিন থাকতে পারে এবং চলতি মাসের ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি আকাশ মেঘলা থাকবে সেই সাথে হতে পারে বৃষ্টি। বৃষ্টির পর আবার তীব্র শীতের প্রভাব থাকতে পারে। মাসের বাকি সময় থাকতে পারে তীব্র শীত। এ সময়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ আবহাওয়া ।
গত তিন দিন ধরে বরিশাল বিভাগে শীতের প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল মানুষের। তীব্র শীত আর এক টানা ঘন কুয়াশার কারণে পটুয়াখালীতে ছিন্নমূল খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তুষারাচ্ছন্ন বাতাস আর ঘন কুয়াশায়সহ হাড় কাপাঁনো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ।
পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় একই ঘটনা। সমস্ত জেলা জুড়ে নেমে এসেছে উত্তর পশ্চিমের কনকনে বাতাস শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড তীব্র শীত আর এক টানা ঘন কুয়াশার কারণে জেলা ও উপজেলা গুলোর জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ।
এদিকে গলাচিপা উপজেলা বকুল বাড়ীয়া গ্রামের ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, দুই থেকে তিন দিন ধরে চলছে এই তীব্র শীত আর টানা ঘন কুয়াশার কারণে আমরা ক্ষেতে যেতে পারছি না এমনকি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে সেই সাথে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে৷
রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতা বুনিয়া গ্রামের মোঃ হিরন মৃধা বলেন, আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। প্রতিদিন কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না। কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে আমরা কাজে যেতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকেও এই দীপ অঞ্চলের মানুষেরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এরই মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন কারণে রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে সর্দি, কাশি ও হাপানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের কর্মরত শিশু চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জানায়, তীব্র শীতে বেশি সমস্যায় পড়ে বয়স্ক ও শিশুরা। এ কারণে সর্দি, কাশি ও হাপানিজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা দিয়েছে। আমরা সব সময় তাদের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি৷
তবে এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহায়তা আসেনি এসব ছিন্নমূল মানুষের জন্য।
এমএসএম / এমএসএম
কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার
শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর
শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার
চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত
ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত