চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের মধ্যেই চলছে আক্কেলপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ
প্রায় ১৩৯.৪৭ বর্গ কি.মি. আয়তনের একটি উপজেলা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর। অত্র এলাকায় বসরাসরত প্রায় সকল মানুষই চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র (আর.ডি.) এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র গুলোতে। এছাড়াও পাশর্^বর্তী আরো দুটি উপজেলার কয়েক গ্রামের জন-সাধারণ প্রায় নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকট থাকা শর্তেও ব্যাপক চাপের মধ্যেই স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছেন কর্তব্যরতরা। এতে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সেবা প্রত্যাশীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩’শ জন রোগী বিভিন্ন রোগে জরুরী বিভাগ ও বহি: বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। ৫০ শয্যা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ভর্তি হয় ১০ থেকে ১২ জন রোগী। সম্প্রতি শীত বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি।
আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় চিকিৎসক পদে ২৭ জনের বিপরীতে ১০ জন রয়েছেন। এর মধ্যে ১ জন চিকিৎসক প্রায় ৮ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও যোগদানই করেনি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদে ১১ জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদে নেই কোন চিকিৎসক। সম্প্রতি ২ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই হাসপাতালে সপ্তাহে ২ দিন চিকিৎসা সেবা দিবেন মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদে ৭ জনের বিপরীতে রয়েছেন ৬জন। নার্স ও মিডওয়ইফ পদে ৩৬ জনের মধ্যে ৩৬ জনই রয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারী পদে ২৪ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১৪ জন। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ৪২ জন। এর মধ্যে ৮ জন রয়েছে অন্যত্র। শূন্য রয়েছে ৮টি পদ।
প্রাপ্ত তথ্য হিসেব করলে দেখা যায়, চিকিৎসক পদেই শূন্য রয়েছে ১৮ জন ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার পদে ১ জন। স্বাস্থ্য সহকারী ( শিশুদের টিকা প্রদানকারী) পদে শূন্য রয়েছে ১০ জন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নন-ক্লিনিক ও ক্লিনিক এই দুই ভাগে সেবা প্রদান করে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এর মধ্যে নন-ক্লিনিক পর্যায়ে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে কেউ না থাকায় সেই পদে ৩ বছরের অধিক সময় থেকে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে ৫ জনের মধ্যে ৫ জনই কর্মরত রয়েছে। পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে ৩২ জনের মধ্যে কর্মরত ১৭ জন। অনান্য পদে যথাযথ সংখ্যক কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। ক্লিনিক পর্যায়ে উপজেলায় ১ জন মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত। অনান্য আরো ২৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৬ জন। রায়কালী মা ও শিশু কেন্দ্রে আউটসোর্সিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ৪র্থ শ্রেণির ৪ জন কর্মচারী। অত্র কেন্দ্রে শূন্য রয়েছে মেডিক্যাল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সহ অধিকাংশ পদ।
আরও জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘ ১২ বছর বন্ধ থাকার পর সর্বশেষ গত বছরের ১৯ জুন একটি সিজারিয়ান অপারেশন করার পর চিকিৎসক সংকটে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহে দুই দিনে অপারেশনের শর্তে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলা থেকে দুই চিকিৎসক অপারেশন করবেন এমন সিদ্ধান্তে সম্প্রতি তা প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বন্ধ থাকার পরে তা আবার চালু করা হয়েছে।
সরেজমিনে ১৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহিঃ বিভাগে দীর্ঘ কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আগত বিভিন্ন বয়সী শিশু, মহিলা ও পুরুষ রোগীরা। বহিঃ বিভাগের ৩ টি কক্ষে একজন করে মেডিক্যাল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সকাল থেকে রোগী দেখছেন। অন্য আরেকটি ঘরে দেওয়া হচ্ছে শিশুদের চিকিৎসা। কষ্ট করে অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে লাইনে দাড়িয়ে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের ২য় তলায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন ২৪ জন পুরুষ, ২২ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু। এর মধ্যে ডায়োরিয়া রোগে ১০ জন ভর্তি রয়েছে।
কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই জন ডাক্তার চিকিৎসা দেওয়ায় অনেক সময় ধরে দাড়িয়ে থাকতে হয়। কোন পরীক্ষা করতে দিলে রিপোর্ট নিয়ে আসতে দেরি হওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে কষ্ট করে হলেও টাকার বিনিময়ে অনেকে রোগী সেবা নিতে যায় বেসরকারি বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে। পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকলে আমাদের কষ্ট কমে যেত।
শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা অনিমা রানী নামের একজন মা বলেন, শীত বাড়ায় ঠান্ডা লেগে আমার দেড় বছরের মেয়ে শিশুর সর্দি ও শ^াস কষ্ট শুরু হয়েছে। হাসপাতালে রোগীদের প্রচন্ড ভিড় থাকায় দির্ঘ সময় বাচ্চা কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এতে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আসিফ আদনান বলেন, শীত বাড়ার সাথে সাথে শীত জনিত রোগীও বাড়ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের চিকিৎসক সংকট রয়েছে। ডিউটির পরিমান বাড়িয়ে আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফি মাহমুদ বলেন, শীতে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় জনবলের অভাবে আমাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়েকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর জনবলের চাহিদা দিয়েছি। সরকারিভাবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়াই আমরাও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পাচ্ছিনা।
এমএসএম / এমএসএম
লোহাগড়ার সিডি বাজারে গাঁজা বিক্রির সময় জনতার হাতে মাদক কারবারি আটক
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ