আরবের খেজুর আক্কেলপুরে প্রথম চাষ ও চারা উৎপাদন
ইউটিউবে খেজুর বাগানের ভিডিও দেখে উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম সিদ্ধান্ত নেন সৌদি আরবের খেজুর চাষ করবেন আক্কেলপুরের মাটিতে। সেই অনুযায়ী তিনি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরবের বিভিন্ন জাতের ৬৮টি গাছ সংগ্রহ করে খেজুর বাগান শুরু করেন। এখন তার খেজুর বাগানে আরবের বিভিন্ন জাতের মোট ৪৫০ টি গাছ রয়েছে। এবার ৮ টি গাছে ফলও আসা শুরু করেছে। এর পাশাপাশি তিনি চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। তিনি মরিয়ম, আজওয়া, মেডজুল, আম্বার, সুক্কারীসহ বিভিন্ন প্রজাতীর খেজুর গাছ রোপন করেছেন। তিনি লাভবান হবেন বলে আশা তার।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের মুনজিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম ২৬ লক্ষ টাকা বিনিনিয়োগে ২০২১ সালে ৭০ শতক জমিতে খেজুর বাগান শুরু করেন। আর ৩ শতক জমিতে উৎপাদন করেন চারা। তার উৎপাদিত চারারও চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। তিনি এরই মধ্যে কয়েক লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন।
তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো খেজুর গাছ। পাতা গুলো ছড়িয়ে থাকায় মনে হবে ঝাউ বন। কিছু গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরা শুরু করেছে। তবে সেগুলো অপরিপক্ক। কোনটিতে আজওয়া, কোনটিতে মরিয়ম, আম্বারসহ বিভিন্ন জাতের খেজুর। এলাকায় প্রথমবার খেজুর চাষ হচ্ছে জেনে বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসছেন উৎসুক জনতা। কেউ উদ্বুদ্ধ হয়ে কিনছেন চারা।
বাগান মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে তার খেজুর বাগান করার জন্য আগ্রহের জন্ম নেয়। এর পরে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে ঢাকা, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চারাগাছ সংগ্রহ করে ২০২১ সালে ২৫ আগস্ট চারা গাছ রোপন করেন। তিনি প্রতিটি চারা ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। তাছাড়া টিস্যু কালচার চারা সাড়ে নয় থেকে ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। এসকল খেজুর গাছের মধ্যে রয়েছে আরো কয়েক প্রজাতির গাছ। জমি ক্রয়সহ এখন পর্যন্ত তার প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইউটিউব দেখে এসকল গাছের পরিচর্যা তিনি নিজেই করেন। সর্বপ্রথম ৬৮টি চারা কিনে এনে শুরু করলেও এখন চারা উৎপাদন করে ৪৫০ টি গাছের বাগান তৈরী করেন।
খেজুর বাগান দেখতে আসা সেলিম রেজা বলেন, আরবের খেজুর দেশে চাষ হচ্ছে জেনে এখানে দেখতে এসেছি। বাগানটি দেখে খুব ভাল লেগেছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাগানে খেজুর ধরা শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর থেকে সব গাছেই খেজুর ধরা শুরু হবে। অনেকের ধারণা ৫ বছরের আগে খেজুর গাছে ফল ধরেনা কিন্তু আমার আড়াই বছর বয়সী গাছেই খেজুর ধরেছে। আমার নিকট থেকে নেওয়া অনেক চারা গাছেও খেজুর ধরেছে, যা ক্রেতাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমি আশা করছি সফল হবো।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু ইউটিউব ভিডিও দেখে খেজুর বাগান পরিচর্যা করা হয়। সে জন্য তিনি কৃষি অফিসে পরামর্শের জন্য যাওয়া হয়নি।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, খেজুর মূলত সৌদি আরবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে অনেক স্থানেই খেজুর চাষ হচ্ছে। সাইফুল ইসলামও তাদের মধ্যে একজন। তার বাগানের কয়েকটি গাছে খেজুর ধরা শুরু করেছে। তিনি সফলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আমারা তার বাগানের খোঁজখবর রাখছি।। সরকারিভাবে কোন সহায়তা এলে তাকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানের মৃত্যু, বাবাও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
ট্রাকের ধাক্কায় উল্টে গেল সিএনজি, বিএনপি নেত্রী আহত
বরগুনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
রংপুর-কাকিনা সড়কে ধস, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
মেঘনায় গোসলে নেমে নিখোঁজ কিশোর
লেভেল ক্রসিংয়ে আটকে যাওয়া প্রাইভেটকারে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১
সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনার
দৌলতখানে মাদকের ছড়াছড়ি, অভিযানে আটক ৬
‘ঘরের সব ভেঙে শেষ করে দিছে, এখন আমাদের আর কিছুই রইল না’
পাবনায় আ. লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা
বহুল প্রতীক্ষিত ইছালী-পূবাইল কলেজগেট সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন
কাজী নজরুল শুধু বাংলাদেশের নন, সমগ্র বাঙালি জাতির অহংকার