৯৯৯-এ ফোনে পুলিশ সদস্য উদ্ধার
ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে মার খেলেন পুলিশ সদস্য
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে আটক হয়ে মার খাওয়া অভিযোগ উঠেছে। পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি শনিবার পৌর সদরের শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের মাদকসেবী সুহেল রানার বাড়িতে ঘটেছে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আশিক রানা কং/৭২৩ আক্কেলপুর থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আছে। তিনি সাদা পোশাকে একা ওই বাড়িতে গিয়ে পূর্বে চুক্তি হওয়া ঘুষের টাকা চাইতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে জমি-জমা নিয়ে একটি অভিযোগের তদন্ত করতে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) সঙ্গে কনস্টেবল আশিক রানা ওই গ্রামে এসেছিলেন। তখন কনস্টেবল আশিক বিবাদী পক্ষের সোহেল রানার কাছে এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ওইদিন সোহেল রানা কনস্টেবলকে কোন টাকা-পয়সা দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনস্টেবল আশিক রানা সোহেল রানাকে তাঁর মা ও স্ত্রীর সামনে গালিগলাজ করে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এঘটনার দুই দিন পর রাতের বেলায় একটি সড়কে কনস্টেবল আশিক রানাসোহেল রানার তল্লাসীর নাম করে মাদকদ্রব্য ঢুকে দেয়। তখন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন কনস্টেবল আশিক। সেই ঘুষের টাকা নিতে পরের দিন সোহল রানাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে তাঁকে পাননি। তখন ক্ষুব্দ হয়ে বাড়ির দরজায় লাথি দিয়ে চলে যান। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কনস্টেবল আশিক রানাসোহেল রানার বাড়িতে আবারও সেই টাকা নিতে আসেন। তিনি সোহেল রানার কাছে ঘুষের ২০ হাজার টাকা চান। একপর্যায়ে সোহেল রানা কনস্টেবলের হাতে ৫ হাজার টাকা দেন। এসময় সোহলের স্ত্রী ডেইজি মুঠোফোনে ঘুষের টাকা লেনদের ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি ওই কনস্টেবল টের পেয়ে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই কনস্টেবল ও সুহেল রানার মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভীর জমাায়। এক পর্যায়ে সুহেল রানা নিজেই জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেয়। সকাল দশটার দিকে স্থানীয় ওর্য়াড কাউন্সিলর ফেরদৌস হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। থানা পুলিশ সোহেল রানাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুঠোফোনে থাকা ঘুষ লেনদেনের ভিডিও স্থানীয় কাউন্সিলরের সামনে মুছে ফেলে আটক থাকা কনস্টেবলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত একটি অভিযোগে এসে কনস্টেবল আশিক রানাএসে আমার কাছে টাকা দাবি করে। সেই টাকা না দেওয়ায় পরে আমাকে রাস্তার মধ্যে পকেটে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়। পরে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তিতে সে আমাকে ছেড়ে দেয়। ওই টাকা নিতে আসলে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে আমার স্ত্রীর ধারণ করা ভিডিও ডিলিট করে তাকে নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত আশিক রানাবলেন, গত কয়েক দিন আগে আমার মা মারা যান। তারপর থেকে মানসিক বিষন্নতায় ভুগছি। আমি ওই এলাকায় মাদকের খোঁজ নিতে গেলে তারা কৌশলে আমাকে ডেকে নিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়। আমি কোন টাকা-পয়সা লেনদেন করিনি।
পৌর কাউন্সিলর ফেরদৌস সরদার বলেন, সোহল রানার বাড়িতে সাদা পোষাকে একজন কনস্টবলকে আটকে রাখার ঘটনাটি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে থানা পুলিশের সাথে ওই কনস্টেবলকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাসুদ রানা শনিবার রাতে বলেন, ওই ঘটনায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একটি লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছি। এবিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
ধর্ষণ মামলায় ময়মনসিংহের অলক মৌলভীবাজারে গ্রেফতার
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানের মৃত্যু, বাবাও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
ট্রাকের ধাক্কায় উল্টে গেল সিএনজি, বিএনপি নেত্রী আহত
বরগুনায় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
রংপুর-কাকিনা সড়কে ধস, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
মেঘনায় গোসলে নেমে নিখোঁজ কিশোর
লেভেল ক্রসিংয়ে আটকে যাওয়া প্রাইভেটকারে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১
সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনার
দৌলতখানে মাদকের ছড়াছড়ি, অভিযানে আটক ৬
‘ঘরের সব ভেঙে শেষ করে দিছে, এখন আমাদের আর কিছুই রইল না’
পাবনায় আ. লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা
বহুল প্রতীক্ষিত ইছালী-পূবাইল কলেজগেট সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন