ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

শিবচরের ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালুর দাবি পরিবহনের চালক-যাত্রী ও এলাকাবাসীর


নাজমুল হোসেন লাবলু, শিবচর  photo নাজমুল হোসেন লাবলু, শিবচর
প্রকাশিত: ২৭-৯-২০২৪ দুপুর ১১:৫৫

ঝকঝকে একাধিক ভবনসংবলিত এক্সপ্রেসওয়েসংলগ্ন ট্রমা সেন্টারটি প্রায় দুই বছর আগে উদ্বোধন করা হলেও এখনো চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। আদৌ চালু হবে কি-না, জানেন না এলাকাবাসী। স্থানীয় এবং মহাসড়কে চলাচলকারী পরিবহনচালকরা জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু উদ্বোধনের পর প্রায় দুই বছর পার হলেও চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ার সম্ভবনা দেখছেন না তারা। 

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের একেবারে মহাসড়কের কোলঘেঁষেই নির্মাণ করা হয়েছিল ট্রমা সেন্টারটি। নামকরণ করা হয় সাবেক টিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পিতা সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর নামে। ২০২২ সালের নভেম্বরে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ট্রমা সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধন করা হলেও চালু হয়নি আর। ট্রমা সেন্টারটি চালুর জন্য যে জনবলের প্রয়োজন, তার পদ সৃজন আদৌ হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত নির্মাণ সম্পন্ন হলেও চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ট্রমা সেন্টারটি চালু হওয়ার সম্ভবনাও ফিকে হয়ে আসছে। আদৌ চালু হবে কি-না জানা নেই সংশ্লিষ্টদেরও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালের নভেম্বরে 'রাজনৈতিক উদ্বোধন' হওয়া ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণ ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর রেলস্টেশনসংলগ্ন ট্রমা সেন্টারটি ঠিক মহাসড়কের সাথেই। এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ট্রমা সেন্টারটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক বলে জানান সাধারণ মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য এই স্থানে ট্রমা সেন্টারটির বিকল্প নেই।

যখন নির্মাণকাজ চলছিল, তখন স্বপ্ন দেখছিলেন স্থানীয়রা। ঘরের কাছে বড় পরিসরের একটি হাসপাতালে থাকা মানেই চিকিৎসার এক নির্ভরযোগ্য স্থান খুঁজে পাওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর আশার আলো দেখেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদ সৃজনের কোনো অনুমোদন না থাকায় নির্মাণ শেষেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তণের পর ট্রমা সেন্টারটি 'চালু হবে'- এমন সম্ভবনা আর দেখছেন না স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে শুধু অবকাঠামোই নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পর থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার এই সম্পদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন পরামর্শক চিকিৎসক (কনসালট্যান্ট), তিনজন অর্থোপেডিকস সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট (অবেদনবিদ), দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্স এবং ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার, টেকনিশিয়ানসহ ৩৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের প্রধান ফটকের ভেতর ধান শুকাচ্ছেন স্থানীয়রা। চারপাশে আগাছায় ভর্তি। হাসপাতালের গেইট তালাবদ্ধ। ভেতরেও নোংরা পরিবেশ। বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র, এসি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ছোট-বড় একাধিক বিল্ডিং রয়েছে এখানে। সবগুলোই তালাবদ্ধ, মরিচা পড়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান,'নির্মানকাজ শেষে একবার উদ্বোধন হলো, তখন সাজানো-গোছানো ছিল। এরপর আর কেউ আসেনি। আগে হঠাৎ হঠাৎ কর্মকর্তাদের আসতে দেখতাম। এরপর থেকে জনশূন্য ট্রমা সেন্টার। এখন মাদকসেবীদের আড্ডা বসে এখানে। রাতে পুরো ট্রমা সেন্টার অরক্ষিত থাকে। কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা এই হাসপাতাল আলোর মুখ দেখবে বলে আর মনে হয় না!' 

এদিকে এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার লক্ষ্যে ট্রমা সেন্টারটি মহাসড়কের পাশেই নির্মান করা হয়। তবে চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এই রুটে চলাচলরত পরিবহন চালক ও যাত্রীরা। 

হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্যমতে,  ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশে ৭২টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৪ জন; আহত হয়েছেন ৭৮ জন, মামলা হয়েছে ৫৭টি এবং জিডি ১৫টি। জাজিরা-ভাঙ্গা অংশে ৬৩টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন; মামলা হয়েছে ৫৭টি এবং জিডি ১৫টি। 

এরমধ্যে গত বছরের ১৯ মার্চ সড়ক দূর্ঘটনায় একসাথে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে। এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুরের ওই দূর্ঘটনায় নিহত হন ১৯ জন। আহত হন আরও ২৫ জন। আহতদের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এক্সপ্রেসওয়ের পাশের বেসরকারি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় এখান থেকে কোনো সেবাই পাচ্ছে না দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা।

ইলিয়াস খলিফা নামের এক গাড়িচালক বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রমা সেন্টার থাকা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি। কারণ, যখন-তখন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। দূর্ঘটনায় একজন আহত রোগীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা ফরিদপুর নিতে হয়। স্থানীয় হাসপাতালে দূর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ট্রমা সেন্টার থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করি। এখানকার ট্রমাসেন্টারের সবই হলো, কিন্তু চালু হলো না! দ্রুত ট্রমা সেন্টার চালুর দাবি জানাই বর্তমান সরকারের কাছে।'

স্থানীয় সুবল বদ্দি নামে এক ব্যক্তি বলেন, হাসপাতালটি উদ্বোধন হয়েছে দুই বছর হলো। এখনো চালু হয়নি। এখন রক্ষনাবেক্ষণের লোকও নেই। জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত হাসপাতাল চালুর দাবি জানাই।

জানতে চাইলে মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহম্মেদ খান বলেন, আসলে শুধু অবকাঠামো হলেই তো হবে না। এখানে জনবলের বিষয় রয়েছে। একই সাথে অর্থনৈতিক বিষয় যুক্ত। অর্থনৈতিক বরাদ্দ না থাকলে জনবল নিয়োগ হয় না। আমরা জনবলের চাহিদার প্রস্তাব দিয়েছি। হয়তো অনুমোদন হবে। তবে কবে হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

এমএসএম / জামান

আল্লাহ ছাড়া এই নির্বাচন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ

সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বানে নিসচা’র পথসভা ও লিফলেট বিতরণ

গণঅধিকারের সভাপতি নূরের উপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ

নবীনগরে পূর্ব ইউনিয়ন কৃষক দলের দ্বি বার্ষিক সম্মেলন

এমএজি ওসমানীর ১০৭তম জন্মবার্ষিকীতে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ধামইরহাটে আইডিয়াল মাদ্রাসার অভিভাবকদের নিয়ে মত বিনিয় সভা

পটুয়াখালীতে রাতের আঁধারে নদী তীরের মাটি লুট

‎সুনামগঞ্জের পাথারিয়া বাজারে প্রবাসী ময়না মিয়ার জায়গা জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করছে কুচক্রীমহল

কাপাসিয়ায় সদস্য নবায়ন কর্মসূচি পালিত

ত্রিশালে মাদ্রাসার চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবনের ভিত্তি প্রস্থার স্থাপন উদ্বোধন

‎কাঠইর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এখন আ-লীগসহ জাতীয় পার্টির অনুসারীদের দখলে

উলিপুরে জাতীয় পার্টির আহবায়ক কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময়

সাংবাদিক এ কে সাজুর উপর হামলার প্রতিবাদে নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ