ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্থানীয়দের জমিতে চাষাবাদ করছে রোহিঙ্গা, লাগীয়তের টাকা নিচ্ছে এপিবিএন


এম ফেরদৌস, উখিয়া photo এম ফেরদৌস, উখিয়া
প্রকাশিত: ১৪-১০-২০২৪ দুপুর ১১:১০

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ক্যাম্পভিত্তিক এলাকায় আইনি নোটিস বা ভূমি অধিগ্রহণের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে অন্যের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক জবর দখল নিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছেন ১৯নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বরত ৮ম এপিবিএনের পুলিশ সদস্যরা। এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী জায়গার মালিকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ এবং ১৯নং ক্যাম্পভিত্তিক এলাকায় খতিয়ানী ও সামাজিক বনায়নের ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০ একরের বেশি জমি জবরদখল করে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে চাষাবাদ, মাছের প্রজেক্ট, বিভিন্ন খেত-খামার করাচ্ছেন ১৯নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ৮ম এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন ও তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যরা। এসবের বিনিময়ে তিনি নিচ্ছেন মাসিক বা বাৎসরিক মোটা অংকের জমি লাগীয়ত ভাড়া।

এমন তথ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, তাদের দাবিকৃত জায়গায় ১৩নং ক্যাম্পের জাফর আলম নামে এক রোহিঙ্গা চাষাবাদ করার জন্য কাজ করছিল। তার কাছে জমি কার জানতে চাইলে রোহিঙ্গা জাফর বলে, জমিটি আমি লাগীয়ত নিয়েছি এপিবিএন থেকে। মালিক কে আমি জানি না। এপিবিএন জমিটি আমার কাছে এক সিজনের জন্য লাগিয়েছে। আমি টাকা দিয়ে নিয়েছি। আমি তো অল্প করে নিয়েছি। আমার আশপাশে সব জায়গা তো পুলিশে লাগিয়েছে। কোনো মালিক তো আসেনি।

জমির প্রকৃত মালিক হাজী নুরুল ইসলাম জানান, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে এসে শেষ সম্বল জমিটুকু চাষাবাদ করে কোনোমতে পরিবারকে নিয়ে জীবনযাপন করছিলাম।  জমিতে চাষাবাদ ও অন্যন্য খেত-খামার করে খুব সুন্দরমতোই চলছিল আমার পরিবার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, রোহিঙ্গা আসার পরে হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই ৮ম এপিবিএন আমার খতিয়ানী দালিলিক ৫০ শতক জমি কোনো নোটিস ছাড়া জবরদখল করে নেয়। কিছু অংশ তাদের অফিস কোয়ার্টার বানিয়েছে। বাদবাকি জমি রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়ে তারা নিজেরাই ভাড়া নিচ্ছে।

এই ভুক্তভোগী আরো জানান, আমার জায়গাটি তারা কী মূলে দখল করেছে জানতে এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিনের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি আমাকে সাফ জবাব দিয়ে বলেছেন এগুলা সিআইসির, ওখানে গিয়ে কথা বলতে। সেখানে গিয়েও সন্তোষজনক সুরহা না পেয়ে ৮ম এপিবিএনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছি। তারা শুধু আমার জায়গা নয়, স্থানীয় অনেক মানুষের জায়গা জবরদখল করে রেখেছে। বাদ দেয়নি পা-হারা এক পঙ্গুর জমিও।

দুই পা-হারা পঙ্গু বোরহার উদ্দিন আকুতি জানিয়ে বলেন, আমার বাপ-দাদার শত বছরের ভোগদখলীয় এই জমিটিতে খেত-খামার করে আয়-রোজগার করত। এখন আমি পঙ্গু, এই জমি লাগীয়ত দিয়ে চলতাম। এখন আমার শেষ সম্বল্টুকুও এপিবিএন এসে দখল করতে চাচ্ছে। এই জমিটার পাশে একটি ছোট মাছের ঘের ছিল আমার। সেখান থেকেও এপিবিএন এসে অনেক টাকার মাছ নিয়ে গেছে। আমরা তাদের নির্যাতন ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। আপনারা আমাদের এ অসহায়ত্বের পাশে দাড়াঁন।

সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিবেদককে একাধিক ভুক্তভোগী আকুতি-মিনতি করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি জবরদখল ও অন্যায়ভাবে স্থানীয়দের হয়রানি করে গেছেন ১৯নং ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা। তারা কথায় কথায় হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। পরে কিছু করতে না পারলে অবৈধ জিনিস দিয়ে মামলা দেয়ার হুমকি দেয়া হতো।

এসবেও ব্যর্থ হলে স্থানীয়দের কৃষিজমি ও খেত-খামারের জমি সরকারের প্রয়োজন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য খেলার মাঠ করিয়ে দেয় বিনা কারণে। তারা প্রতিশোধ নেয় আমাদের জায়গা কেড়ে নিয়ে। রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়ে অনেক উদারতা দেখিয়েছি আমরা। অথচ আমাদের জমিগুলো তারা দখল করে রোহিঙ্গাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা করে দিচ্ছে কোনো উপরমহলের নির্দেশ ছাড়াই। আমাদের এসব ভোগদখলীয় জমিগুলো সরকারের প্রয়োজন হলে ডিসি, সিআইসি, ম্যাজিস্ট্রেট আসবে বা আমাদের আইনি নোটিস দেবে। কিন্তু কোনো সময় এসব উপরের কর্মকর্তা আসেনি। সব সময় এই পুলিশগুলোই আমাদের জমি জবরদখল করতে আসেন। আমরা এখন ডিসিসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আকারে অভিযোগ দায়ের করেছি। এসবের সুস্থ সামাধান না হলে আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে উচ্চ আদালতে আইনি সহায়তা চাইব।

এসব ঘটনার বিষয়ে জানতে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ গফুর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জোরপূর্বক জমি জবরদখল করার ঘটনা সত্য। ৮ম এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন কাদের ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে অনেক মানুষকে হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টি অনেকবার আমার কানে এসেছে। কোনো কারণ ছাড়া জমি দখল করেছে, এরকম অনেক মানুষ আমার কাছেও এসেছিল। আমি নিরুপায়, কাউকে কোনো সুরহা দিতে পারিনি। তবে তারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে।

অভিযুক্ত ৮ম এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন এসব ঘটনা অস্বীকার করে প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জমি জবরদখল করিনি। তবে কোয়ার্টার করতে যে পরিমাণ জায়গা নিয়েছি সেটার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছে। সেটার রায় তাদের পক্ষে এল তারা ফেরত পাবে। এখানে আমার কিছুই নেই।

T.A.S / জামান

নান্দনিক রূপে নজর কাড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজের ‘স্বাধীনতা সৌধ’

জাতীয় হকি তারকা মিন্টু ও শামীম স্মরণে শোক র‍্যালি

রামপালে ইতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই সহোদরসহ গ্রেপ্তার ৩, রিমান্ড আবেদন

দেবীগঞ্জে হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনকে ২২শ তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার

টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিএনপি-যুবদলের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল

নেছারাবাদে নতুন ইউএনও‌ আশিক আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রথম মতবিনিময়

রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন আব্দুস সবুর

কুড়িগ্রামে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন পোদ্দার গ্রেপ্তার

"রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)" পাচ্ছেন ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের এএসআই ইকলাচুর রহমান

অভয়নগরে বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণ

শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম, পণ্য খালাসে জটিলতার আশঙ্কা

পাবনায় মানবকল্যাণ ট্রাষ্টের মতবিনিময় সভায় প্রধান মন্ত্রীর একনজর দেখতে আশার প্রত্যাশা ট্রাস্ট প্রধানের

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলে বাশারের পাশে দাড়ানোর আকূতি এক মায়ের