গাইবান্ধা জেলার চরাঞ্চলে: সমস্যার চক্রে বন্দী জীবনযাত্রা
গাইবান্ধা জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলি চরম দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ঘাঘট, তিস্তা, করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ১৬৫টি চরাঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪২৭ জনসংখ্যার ৭৬ হাজার ৮৫টি পরিবার বাস করছে। এই সব পরিবার দীর্ঘকাল ধরে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত, যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও আশ্রয়।
চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে কৃষিজীবীরা মূলত ধান, পাট, তামাক, সবজি ও ভুট্টা চাষ করলেও অধিকাংশ পরিবার ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষী। বন্যা ও নদী ভাঙন তাদের প্রধান সমস্যা। প্রতিনিয়ত তারা আবাদি জমি ও গাছপালা হারাচ্ছে, আবার বালুর স্তরে জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এসব কৃষক পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো ব্যবস্থা করা হয় না।
চরাঞ্চলগুলো এখনো নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। এখানকার বাসিন্দাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দৈন্যদশা তাদের জীবনের মান উন্নয়নে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।ফুলছড়ি উপজেলার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম যাদু সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে পারে না। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দরিদ্রতা, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব এবং মেয়েদের বাল্যবিয়ে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার জন্য ভাইরা কাজ করতে বের হয়ে যায়, আর আমাদের বিয়ের জন্য স্কুল ছেড়ে দিতে হয়।”
তিনি আরো বলেন, ছেলেরা জীবিকার তাগিদে শিশু বয়সেই মজুরি শ্রম, কৃষিকাজ কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায় যুক্ত হয়। ফলস্বরূপ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানকার মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকছে।
স্বাস্থ্যসেবার অভাব চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক ও কিছু এনজিওর মাধ্যমে তারা সীমিত সেবা পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। অনিয়মিত সেবা এবং চিকিৎসকের অভাবের কারণে রোগীদের প্রায়ই শহরের হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের হরিচণ্ডীর গ্রামের বাসিন্দা রতন তরফদার বলেন, আমাদের বিশেষ করে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে শহরে পৌঁছানো পরিবারের জন্য এক প্রকার যুদ্ধ। শুকনো মৌসুমে নদের পানি শুকিয়ে গেলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, আর কাঁচা রাস্তার দুরবস্থার কারণে গাড়ি ঘোড়া চলাচল অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আমাদের এলাকায় প্রসূতি মা কিংবা শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়।
সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এখানকার মানুষের জীবনের আরেকটি বড় বাধা। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লেগে যায়। এর মধ্যে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে বরাত দিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ফুলছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া আকাশ বলেন,
মাত্র ৫ শতাংশ নারী সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে যেতে পারেন। বাকি ৯৫ শতাংশ মায়েদের বাড়িতে সন্তান প্রসব করতে হয়, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে চরাঞ্চলবাসীর সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দরকার সরকারি উদ্যোগ এবং এনজিওদের সমন্বিত কার্যক্রম। চরাঞ্চলের মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দিতে তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এমএসএম / এমএসএম
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
কাশিমপুরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমান
নাগরপুরে প্রান্তিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ
রৌমারী হাট-বাজারে আইনশৃঙ্খলা সভায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনুমতি দিলেন ইউএনও
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৮ঘন্টায় মাদক, ডাকাতিসহ অনলাইন ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত ১২জন আটক
নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত, সম্পাদক জাহাঙ্গীর
ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবনে আশার বার্তা দিলেন ডাঃ শামারুহ মির্জা
ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত
গাসিকে মাসব্যাপী কর মেলা উদ্বোধন ও প্রশাসকের বাজার পরিদর্শন
প্রায় দুইশ’ বাইকারের অংশগ্রহণে নড়াইলে সুজুকি রাইডার্স ডে
রাঙ্গুনিয়ায় ১৭ মামলার পরোয়ানার আসামি গ্রেফতার
পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত