কলেজ শিক্ষার্থীর সপ্নের বাহন একটা সেলাই মেশিন
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৫ সালে এই কবিতা লিখে গেলেও নারীকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে সব সময়। একুশ শতকে পুরুষের পাশাপাশি বেড়েছে নারীর ক্ষমতা। তারই মধ্যে একজন নারী এগিয়ে চলছে সমান তালে কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার। তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা যায়। হাবিবার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য উপার্জনের টাকা দিয়ে কোন রকম চালিয়ে যাচ্ছে সংসার আর হাবিবার পড়াশোনার খরচ। পরিত্যাক্ত একটি টিনের ভাঙা ঘর ও পলিথিন আর পাটখড়ির ছাওনি। এমন ভাঙা ঘরে মা আর ছোট বোনকে নিয়ে বসবাস হাবিবার। এভাবে কয়েক বছর ধরে কাটছে, কলেজ ছাত্রীর হাবিবার মানবেতর জীবন যাপন। তার পাশে দাড়িয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিনামূল্যে ৭৫ দিন সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। বাড়িতে সেলাই মেশিনে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে লেখাপড়া আর দুমুঠো আহার যোগাতে হিমশিম অবস্থা তাঁর। একদিকে সংসারে অভাব অনটন, আরেক দিকে ভাঙা ঘর এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। তাই মাথাগোঁজার জন্য একটি ঘর আর ঘুরে দাড়াতে আর্থিক সহায়তা চান হাবিবার পরিবার।
ভাঙা ঘর আর ভাঙা বেড়া। সেই বেড়া ও চাল ভেদ করে ভাঙা ঘরে ঢুকে দিনে সূর্যের আলো ও রাতে চাদের কিরণ। টিন, পলিথিন, পাঠখড়ি আর বাঁশ এমন ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে হাবিবার পরিবার।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে বসবাস হাবিবা আক্তারের। মাত্র দুই শতাংশ জমিতে তাঁদের ছোট ঘরটি জরাজীর্ণ।
কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবার আক্তার বলেন, পরিবারে আমরা ভাইবোনের সংখ্যা বেশি বলে ছোটবেলা থেকেই মায়ের কষ্ট দেখতাম। আমার বাবা একজন প্রাইভেট কার চালক ছিলেন। পাঁচ বছর আগে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। সংসারের অভাব অনটনে এসএসসি পরীক্ষার পড়ে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। আনসার বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ের মোঃ মইনুল ইসলাম স্যার আমাকে কলেজে ভর্তি, চেয়ার টেবিল, পড়ার বই কিনে দেয়।
তিনি আরও বলেন, একদিন খবর পেলাম বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ দিবে। পরে আমি ৭৫ দিনের সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইনের উপর আনসার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ করি। প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে একটি সেলাই মেশিন দেয়া হয়। এখন আমি ঘরে বসে সেলাই মেশিনে বিভিন্ন ডিজাইনের মেয়েদের জামা তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে মাকে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় মায়ের একার পক্ষে আমাদের ভাঙা ঘর মেরামত করা সম্ভব না। বৃষ্টির পানি পড়লে ঘরে ঘুমাইতে অনেক কষ্ট হয়।
হাবিবার মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে সেলাই মেশিনে কাজ করে আয়ের টাকা দিয়ে কলেজের লেখাপড়ার পাশাপাশি টেনেহিঁচড়ে সংসারও চালাচ্ছেন।
এমএসএম / এমএসএম
ধুনটে সড়ক নির্মাণকাজ ঘুরে দেখলেন এমপি পুত্র আসিফ সিরাজ রব্বানী
বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির বাদশা জয়ী
মাদারীপুর পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরইউটিডিপি কর্মশালা সম্পন্ন
বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত করদাতাদের জন্য সহজ সুবিধা
গোদাগাড়ীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান
বিলাইছড়িতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা
চাঁদপুরে মাদকসহ সরঞ্জামাদি জব্দ, একজনের কারাদণ্ড
গোদাগাড়ীতে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১
বকশীগঞ্জে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়,
তেঁতুলিয়ায় পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পলাল গরু চোর
কটিয়াদীতে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদে এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা