ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কলেজ শিক্ষার্থীর সপ্নের বাহন একটা সেলাই মেশিন


কাওছার মাহমুদ রাফিন, শরীয়তপুর photo কাওছার মাহমুদ রাফিন, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১১-১-২০২৫ দুপুর ৪:৬

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৫ সালে এই কবিতা লিখে গেলেও নারীকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে সব সময়। একুশ শতকে পুরুষের পাশাপাশি বেড়েছে নারীর ক্ষমতা। তারই মধ্যে একজন নারী এগিয়ে চলছে সমান তালে কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার। তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা যায়। হাবিবার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য উপার্জনের টাকা দিয়ে কোন রকম চালিয়ে যাচ্ছে সংসার আর হাবিবার পড়াশোনার খরচ। পরিত্যাক্ত একটি টিনের ভাঙা ঘর ও পলিথিন আর পাটখড়ির ছাওনি। এমন ভাঙা ঘরে মা আর ছোট বোনকে নিয়ে বসবাস হাবিবার। এভাবে কয়েক বছর ধরে কাটছে, কলেজ ছাত্রীর হাবিবার মানবেতর জীবন যাপন। তার পাশে দাড়িয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিনামূল্যে ৭৫ দিন সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। বাড়িতে সেলাই মেশিনে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে লেখাপড়া আর দুমুঠো আহার যোগাতে হিমশিম অবস্থা তাঁর। একদিকে সংসারে অভাব অনটন, আরেক দিকে ভাঙা ঘর এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। তাই মাথাগোঁজার জন্য একটি ঘর আর ঘুরে দাড়াতে আর্থিক সহায়তা চান হাবিবার পরিবার।

ভাঙা ঘর আর ভাঙা বেড়া। সেই বেড়া ও চাল ভেদ করে ভাঙা ঘরে ঢুকে দিনে সূর্যের আলো ও রাতে চাদের কিরণ। টিন, পলিথিন, পাঠখড়ি আর বাঁশ এমন ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে হাবিবার পরিবার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে বসবাস হাবিবা আক্তারের। মাত্র দুই শতাংশ জমিতে তাঁদের ছোট ঘরটি জরাজীর্ণ।

কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবার আক্তার বলেন, পরিবারে আমরা ভাইবোনের সংখ্যা বেশি বলে ছোটবেলা থেকেই মায়ের কষ্ট দেখতাম। আমার বাবা একজন প্রাইভেট কার চালক ছিলেন। পাঁচ  বছর আগে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। সংসারের অভাব অনটনে এসএসসি পরীক্ষার পড়ে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। আনসার বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়ের মোঃ মইনুল ইসলাম স্যার আমাকে কলেজে ভর্তি, চেয়ার টেবিল, পড়ার বই কিনে দেয়।
তিনি আরও বলেন, একদিন খবর পেলাম বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ দিবে। পরে আমি ৭৫ দিনের সেলাই ও ফ্যাশন ডিজাইনের উপর আনসার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ করি। প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে একটি সেলাই মেশিন দেয়া হয়। এখন আমি ঘরে বসে সেলাই মেশিনে বিভিন্ন ডিজাইনের মেয়েদের জামা তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়ে মাকে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় মায়ের একার পক্ষে আমাদের ভাঙা ঘর মেরামত করা সম্ভব না। বৃষ্টির পানি পড়লে ঘরে ঘুমাইতে অনেক কষ্ট হয়।

হাবিবার মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে সেলাই মেশিনে কাজ করে আয়ের টাকা দিয়ে কলেজের লেখাপড়ার পাশাপাশি টেনেহিঁচড়ে সংসারও চালাচ্ছেন।

এমএসএম / এমএসএম

মাদারীপুরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা নিরসনে মতবিনিময় সভা

রূপগঞ্জে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী

রাজারহাটে ৩০ বছর পর দখলমুক্ত হলো সরকারি রাস্তা

"বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে সেতু হলে কমবে দূরত্ব, গতি পাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও বাণিজ্য"

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

গোপালগঞ্জে দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভূঞাপুরে ডাকাতির চেষ্টা নস্যাৎ: দেশীয় অস্ত্র ও নৌকাসহ ৫ ডাকাতকে পুলিশে দিল জনতা

একটি মহল দেশকে অশান্ত করতে চায়, সতর্ক থাকার আহ্বানঃ ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন

নিউজ প্রকাশের পরেও বহাল তবিয়তে নওগাঁর ভূমি কর্মকর্তা জিয়া

নানার বাড়ি বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

নবীগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার