সন্দ্বীপে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্ধারা নানান সমস্যায় জর্জড়িত।সমস্যা লাঘবে UNO এর পদক্ষেপ
সন্দ্বীপের দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নে সরকারী বরাদ্ধে করা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্ধারা নানান সমস্যায় জর্জড়িত।তিন ভাগের দুই ভাগ ঘর খালী পড়ে আছে। কারন স্থায়ী হচ্ছেনা কোন পরিবার।প্রথমে ঘর বরাদ্ধ নিয়ে ২/১ মাস বসবাস করে নানান জটিলতায় হতাশ হয়ে চলে যান অনেকে। অনেকে ঘর বরাদ্ধ নিয়ে পাশের ঘরের কারো কাছে চাবি রেখে বসবাস করেন অন্য এলাকায়।উপজেলা প্রশাসন থেকে কেউ যাওয়ার ঘবর পেলে দ্রুত ঘরের দরজা খুলে দিয়ে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা সেখানে থাকেন। প্রকৃত পক্ষে সেই সব ঘরে কেউ থাকেননা।আবার অনেকে পয়সাওয়ালা লোকও ঘরের বরাদ্ধ নিয়ে রেখেছেন ভবিষৎ এ কোন কাজে আসবে মনে করে।সব মিলিয়ে সরকারের এত বড় উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে কেন তার অনেক গুলো গুরুত্বপুর্ন কারন রয়েছে। সেগুলো তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
আমাদের প্রতিনিধি জানান গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ কোস্ট ফাউন্ডেশন ও এসডিআই এর পার্টনারশিপে পরিচালিত সিসিআর প্রজেক্টের আয়োজনে সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে “সমন্বিত স্থানীয় জলবায়ু বাস্ত্তচ্যুতি ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছিলো । সেমিনারে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ও বাস্ত্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন ও তাদের তাৎপর্যপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন।
উক্ত সেমিনারে দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দে করা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্ধাদের অনেক গুলো মৌলিক সমস্যার কথা উঠে আসে। সে আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশ কিছু বাসিন্দাদের দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে তাদের অনুভুতি/ অভিজ্ঞতা উপস্থিত সকলের মাঝে কেইস স্টাডি আকারে উপস্থাপন করা হয়।প্রায় প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা বাস্তব উপলব্দি ছিলো এক ও অভিন্ন।তারা যে সব বাস্তবতা তুলে ধরেন তা জেনে অনেকে হতবাক হয়েছেন। জানতে পেরেছেন তাদের অমানবিক জীবন যাপনের কথা।আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্ধাদের বক্তব্য নিকটস্থ লোকালয় বা জনবসতি থেকে প্রায় ৫কি: মি; দূরে অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্প।যেখান থেকে ৫ কিমি: এর মধ্যে কোন ঔষুধের ফার্মেসি নেই, নেই কোন চিকিৎসা সেবা। আশেপাশে ৫ কি: মি: এর মধ্যে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, ফলে সেখানকার কোন শিশু বিদ্যালয়ে যায়না। দেয়াল/বাথরুম এর অবস্থা অত্যান্ত নাজুক বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ঐ ইউনিয়নের নাগরিক না হওয়ায় সকল প্রকার সামাজিক সুরক্ষা সেবা থেকে তারা বঞ্চিত। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান না থাকা ও লোকালয় খেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ৩৬০ টি ঘরের মধ্যে অর্ধেক এখনো ফাঁকা। ধর্ষনের মতো ঘটনা ঘটায় পরিবারগুলোর মধ্যে চাপা আতংক বিরাজ করছে, তারা অন্যত্র সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রকল্প নির্মানের সময় আশেপাশে কিছু জলাশয় সৃষ্টি হয়েছিলো সেগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে ফলে এগুলো ব্যবহার করে অর্থনৈতিক আয় উন্নতির সুযোগ তাদের নেই।ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সে সকল জলাশয়ের মাছ ধরে নিয়ে যায়, স্থানীয়দের বরশি দিয়ে মাছ ধরতেও দেয়না, স্থানীয় প্রভাবশালীরা পুকুরগুলোতে জোরপূর্বক গরু-মহিষকে গোসল করায়, ফলে পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী।প্রভাবশালীরা বলে এগুলো তাদের পৈত্রিক জায়গা ছিলো, তাই তারা ব্যবহার বা ভোগ করবে। আশ্রয়ন প্রকল্পটি বেড়িবাঁধ এর বাহিরে ও দুর্যোগ ঝুকিপূর্ন স্থানে অবস্থিত, ফলে দুর্যোগকালীন সময় পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। আশ্রায়ন প্রকল্পে আশ্রয় নেয়ার ফলে তারা সামাজিকভাবে যথেষ্ট হেয় ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তাদের সাথে কেউ আত্মীয়তার সমন্ধ করতে চায়না, বিয়ে/আচার অনুষ্ঠানের বিষয়গুলো অনুনয় বিনুনয় করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে সম্পন্ন করতে হয়।আমাদের প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে অনেকের সাথে কথা বলে ঠিক একই তথ্য পান।
এরপর ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও সেমিনারে উথ্বাপিত বিষয় গুলো স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বরাবরে উপস্থাপন করেন এসডিআই ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের সিসিআর প্রকল্পের কমিউনিটি মোবিলাইজার ও দৈনিক সকালের সময়ের সন্দ্বীপ প্রতিনিধি বাদল রায় স্বাধীন । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা সেগুলো জেনে দ্রুত সে সব সমস্যা লাঘবে তার অনেকগুলো পদক্ষেপের কথা জানান। এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন ইতিমর্ধ্যে শুরু করেছেন।তিনি বলেন প্রাথমিক ভাবে তাদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসাবে ৫০০ কম্বল বিতরন করেছি ।তাদের উক্ত ইউনিয়নের সকল সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেতে স্থানীয় নির্বাচন অফিসের লোকদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিয়ে গিয়ো একদিনের মধ্যে যারা যারা সে ইউনিয়নের বাসিন্ধা হতে চায় তাদের ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করে সেখানকার ভোটার করা হবে।প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে কোন একটি জায়গা নির্ধারন করে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবো।সপ্তাহে বা পনের দিনে সেখানে একজন করে ডাক্তার যাতে চিকিৎসা সেবা দেয় সে ব্যবস্থা চালু করবো খুব দ্রুত। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলেছি সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন। সেখানকার জলাশয় যদি সত্যিই কোন প্রভাব শালীর দখলে থাকে তা উন্মুক্ত করে উদ্ধাস্তদের সেগুলো ভোগ করার ব্যবস্থা করবো। সন্দ্বীপের মুল বেড়িবাঁধের চলমান কাজ শেষ হলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাইরে একটি লোনা বেড়িবাঁধ কিভাবে করা যায় তার জন্য আলোচনা করে আশা করছি কোন একটা উপায় বের করবো। সর্বোপরি তাদের নিরাপদ ও ভয়হীন একটি আবাসস্থল উপহার দেওয়ায় আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবেনা।
এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৩৫০ পরিবারের হতদরিদ্র, বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী,বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা হাজারো মানুষের জীবনে চলা অনেকটা পাল্টে যেতে পারে। তারা ফেলতে পারবে স্বস্থির নিঃশ্বাস।
এমএসএম / এমএসএম
রাণীশংকৈলে ৩দিন ব্যাপি স্কাউট ক্যাম্পুরী ও সমাবেশ
আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম, ভোগান্তিতে নগরবাসী
নিজের দেড় মাসের সন্তানকে ২৫ হাজারে বিক্রি করে দিলেন বাবা
৩ ব্রোকারেজ হাউজ-কে ডিএসই’র ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান
বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, অফিস ভাঙচুর
মধুখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্তর অভিযানে মধুমতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার জব্দ
চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার
আদমদীঘিতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন
কৃষি ও পুষ্টি উন্নয়নে টুঙ্গিপাড়ায় পার্টনার কংগ্রেস
সিংড়া উপজেলা পর্যায়ে স্টেক হোন্ডারদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
কাউনিয়ায় বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন রকসির পিতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
কৃষকের ৩০০ মণ ধানসহ বাংলো ঘর পুড়ে ছাই