নারীদের শ্রমে সমৃদ্ধ কৃষি, কিন্তু নেই সম্পদের অধিকার
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় কৃষিকাজ ছিল শুধুমাত্র পুরুষদের দায়িত্ব, নারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন গৃহস্থালির কাজে। কিন্তু বর্তমানে নারী শ্রমিকরা পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে ধানের চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার দেওয়া, ধান কাটা-মাড়াই, সবজি চাষ, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনসহ কৃষির প্রায় সব পর্যায়ে অবদান রাখছেন।
এদিকে, শহর ও বিদেশমুখী শ্রমবাজারে পুরুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামে কৃষিকাজে পুরুষ শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কৃষির ভার এখন অনেকাংশেই নারীদের ওপর পড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষির ১৭টি ধাপে নারীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করলেও, তাদের ভূমি মালিকানা মাত্র ১৮%। তাও নামমাত্র, বাস্তবে যার স্বীকৃতি নেই। আদিম সমাজব্যবস্থায় নারীরাই কৃষির মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের ভূমি মালিকানা কমতে থাকে। বর্তমানে নারীরা কৃষিতে ব্যাপকভাবে যুক্ত থাকলেও মালিকানার সঠিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন না।
উদাখালি ইউনিয়নের উত্তর বুড়াইল গ্রামের জোহরা বেগম আট বছর আগে স্বামী হারানোর পর থেকে তিন সন্তান নিয়ে ফসলি জমির দেখভাল করছেন। জমিতে ধানের চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা।
একইভাবে চরাঞ্চলের চরহরিচন্ডী গ্রামের নারী কৃষক রাবেয়া বেগম জানান, "ভোরবেলা দিন শুরু করি, সংসারের কাজের পর মাঠে গিয়ে ফসলের যত্ন নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও ঋণের সুবিধা পাই না।"
আরো বেশ কয়েকজন নারী কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরুষদের মতো তারা সরকারি কৃষি সুবিধা পান না, যার ফলে তাদের উৎপাদন কমে যায়। নারী মুক্তি কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বলেন, "নারীরা হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু পালন থেকে শুরু করে কৃষির সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু তারা এখনো পারিশ্রমিকসহ নানা বৈষম্যের শিকার।"
নারীরা কৃষিতে শ্রম দিলেও ভূমির মালিকানা পুরুষদের হাতেই রয়ে গেছে। ফলে সরকারি কৃষি কার্ড, ঋণ সুবিধাসহ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত।
ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম যাদু মনে করেন, "সরকারি নীতিমালা ও কৃষি প্রকল্পে এখনো পুরুষদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। কৃষি ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা নারীদের হাতে পৌঁছায় না। ফলে তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকেন এবং ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। নারীদের ভূমি মালিকানা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কৃষিতে নারীদের স্বীকৃতি সম্ভব নয়।"
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিন্টু মিয়া বলেন, "নারীদের কৃষিতে অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা খুবই ইতিবাচক। আমরা কৃষি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি এবং তা আরও বাড়ানো হবে।"
নারীদের ভূমি মালিকানা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে তাদের অবদান আরও সুদৃঢ় হবে। এটি শুধুমাত্র নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
এমএসএম / এমএসএম
দামুড়হুদার নবাগত ইউএনও হিসেবে লাভলী ইয়াসমিনের যোগদান
আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল আলম ঝন্টুর ইন্তেকাল
ব্র্যাক পটুয়াখালী মাইক্রোফাইনান্স (দাবি+)কর্মসূচির উদ্যোগে ব্র্যাক হ্যাচারির মাছের পোনা অবমুক্ত করন
ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নারী নিহত, আহত ২
সিংড়ায় বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা ও চারা বিতরণ
তাড়াশে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
পাঁচবিবি বিএম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান
পূবাইল আদর্শ কলেজে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে পুলিশের জালে পেশাদার চোর, রয়েছে একাধিক মামলা
চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে কাশিয়ানীতে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
রায়গঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়া ইমামের বিয়ে, কাবিন নির্ধারণ ১০ লাখ টাকা
রাজস্থলীতে পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডক্টর জিয়াউদ্দিন