ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

চরের পথে ঘোড়ার গাড়ি: উন্নয়নের ছোঁয়া কবে পৌঁছাবে


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১৬-৩-২০২৫ দুপুর ১:১৩

চরের মানুষের জীবন যেন এক প্রকার সংগ্রামের গল্প। প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হয় এখানে, যেখানে বাজার-ঘাটে যাওয়ার জন্য মাইলের পর মাইল শুকনো বালুচর পাড়ি দিতে হয়। ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকুমার বা বরের আসার গল্প আমরা  শুনেছি আবার কেউ কেউ দেখেছিও কিন্তু  ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। ঘোড়ার পিঠে বস্তা বস্তা কৃষি পণ্য নিয়ে ছুটে চলছে মানুষ, জমির ধারে বালি-ময় রাস্তা পার হতে, কখনোবা হাঁটু পানি উপর দিয়ে  পার হয় পণ্য বোঝাই ঘোড়ার গাড়ি এ সবই চরাঞ্চলের বাস্তব চিত্র।

ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে, অন্য কোন যানবাহনের দেখা মেলে না। পণ্য পরিবহনের একমাত্র বাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি আজও এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে অপরিহার্য। ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিলন বলেন, “আমাদের এলাকায় যানবাহনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ঘোড়ার গাড়িতেই পণ্য পরিবহন ও মানুষ আনা নেওয়াও করা হয়  হয় – এটি আমাদের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা।”

এ অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে যেমন গরু-ছাগলের দৃশ্য দেখা যায়, তেমনি ঘোড়ার গাড়িও দেখা যায় প্রায় বাড়িতেই বাপ-দাদার আমল থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা ঐতিহ্য এই বাহন। ফুলছড়ি ইউনিয়নের গলনার চর এলাকার ঘোড়ার গাড়ি চালক লাল মিয়া জানান, “আমার জেঠু ও আমার আব্বা এই ঘোড়ার গাড়ি চালাতেন। তখন থেকেই আমরা ঘোড়ার গাড়ি দেখছি ও চালাইতেছি, প্রায় ৪০ বছর হলো।”

চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ঘোড়ার গাড়ির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বর্ষাকালে নৌকায় যোগাযোগ হলেও শুকনো মৌসুমে এই বাহনটি ছাড়া অন্য কোন উপায় কল্পনাও করা যায় না। বছরে প্রায় আট মাস, ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা ব্রহ্মপুত্রের কোল গেসা চরের জমিতে সোনা ফলে – মরিচ, ভুট্টা, শাকসবজি সহ প্রায় ৩০ রকমের ফসল ফলে। কৃষকেরা তাদের পরিশ্রমের ফল বাজারজাত করতে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার আগেই কয়েক কিলোমিটার বালুচর পাড়ি দেন ঘোড়ার গাড়িতে করে ।

প্রতি সাপ্তাহের হাটের দিনে চরাঞ্চলে শত শত ঘোড়ার গাড়ির চলাফেরা করে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা  অভিযোগ করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাস্তা নির্মাণের অভাবে পথ অবনতি হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টায় কিছু কিছু চড়ে রাস্তাঘাট হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার কৃষি অফিসার মো.মিন্টু মিয়া জানান, “চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন। এজন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা অনেক কঠিন সেজন্য বালু রাস্তাতে তাদের ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র ভরসা । আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রান্তিক চাষীদের সরকারিভাবে প্রণোদনা দিয়ে থাকি, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।”

চরাঞ্চলের এই সংগ্রাম, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের টানাপোড়েন চলতে থাকে, সেই বাস্তবতায় ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে। এখানকার মানুষের জীবনে এই বাহনের প্রভাব অপরিসীম – তা শুধু পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আত্মবিশ্বাস ও ঐতিহ্যেরই পরিচায়ক।

এমএসএম / এমএসএম

রৌমারীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামুনে রেখে ৩নং বন্দবেড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

সিংড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বাগেরহাট বাস টার্মিনালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

মনিরামপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শান্তিগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাবুগঞ্জের চাঁদপাশায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ মাদকসেবী আটক, কারাদণ্ড

দোহাজারীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্টের হত্যার প্রতিবাদে বাদশাগঞ্জে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

রাণীনগরে আম বাগানে হলুদ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

রাঙ্গামাটিতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

ধামরাইয়ে পূজামণ্ডপে জিআর চাল ও আর্থিক অনুদান বিতরণ

নোয়াখালীর সদরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪