ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

চরের পথে ঘোড়ার গাড়ি: উন্নয়নের ছোঁয়া কবে পৌঁছাবে


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১৬-৩-২০২৫ দুপুর ১:১৩

চরের মানুষের জীবন যেন এক প্রকার সংগ্রামের গল্প। প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হয় এখানে, যেখানে বাজার-ঘাটে যাওয়ার জন্য মাইলের পর মাইল শুকনো বালুচর পাড়ি দিতে হয়। ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকুমার বা বরের আসার গল্প আমরা  শুনেছি আবার কেউ কেউ দেখেছিও কিন্তু  ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। ঘোড়ার পিঠে বস্তা বস্তা কৃষি পণ্য নিয়ে ছুটে চলছে মানুষ, জমির ধারে বালি-ময় রাস্তা পার হতে, কখনোবা হাঁটু পানি উপর দিয়ে  পার হয় পণ্য বোঝাই ঘোড়ার গাড়ি এ সবই চরাঞ্চলের বাস্তব চিত্র।

ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে, অন্য কোন যানবাহনের দেখা মেলে না। পণ্য পরিবহনের একমাত্র বাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি আজও এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে অপরিহার্য। ফজলুপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান মিলন বলেন, “আমাদের এলাকায় যানবাহনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ঘোড়ার গাড়িতেই পণ্য পরিবহন ও মানুষ আনা নেওয়াও করা হয়  হয় – এটি আমাদের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা।”

এ অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে যেমন গরু-ছাগলের দৃশ্য দেখা যায়, তেমনি ঘোড়ার গাড়িও দেখা যায় প্রায় বাড়িতেই বাপ-দাদার আমল থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা ঐতিহ্য এই বাহন। ফুলছড়ি ইউনিয়নের গলনার চর এলাকার ঘোড়ার গাড়ি চালক লাল মিয়া জানান, “আমার জেঠু ও আমার আব্বা এই ঘোড়ার গাড়ি চালাতেন। তখন থেকেই আমরা ঘোড়ার গাড়ি দেখছি ও চালাইতেছি, প্রায় ৪০ বছর হলো।”

চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ঘোড়ার গাড়ির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বর্ষাকালে নৌকায় যোগাযোগ হলেও শুকনো মৌসুমে এই বাহনটি ছাড়া অন্য কোন উপায় কল্পনাও করা যায় না। বছরে প্রায় আট মাস, ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা ব্রহ্মপুত্রের কোল গেসা চরের জমিতে সোনা ফলে – মরিচ, ভুট্টা, শাকসবজি সহ প্রায় ৩০ রকমের ফসল ফলে। কৃষকেরা তাদের পরিশ্রমের ফল বাজারজাত করতে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হওয়ার আগেই কয়েক কিলোমিটার বালুচর পাড়ি দেন ঘোড়ার গাড়িতে করে ।

প্রতি সাপ্তাহের হাটের দিনে চরাঞ্চলে শত শত ঘোড়ার গাড়ির চলাফেরা করে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা  অভিযোগ করে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাস্তা নির্মাণের অভাবে পথ অবনতি হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টায় কিছু কিছু চড়ে রাস্তাঘাট হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার কৃষি অফিসার মো.মিন্টু মিয়া জানান, “চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হন। এজন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা অনেক কঠিন সেজন্য বালু রাস্তাতে তাদের ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র ভরসা । আমরা কৃষি বিভাগ থেকে তাদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রান্তিক চাষীদের সরকারিভাবে প্রণোদনা দিয়ে থাকি, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।”

চরাঞ্চলের এই সংগ্রাম, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের টানাপোড়েন চলতে থাকে, সেই বাস্তবতায় ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে। এখানকার মানুষের জীবনে এই বাহনের প্রভাব অপরিসীম – তা শুধু পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আত্মবিশ্বাস ও ঐতিহ্যেরই পরিচায়ক।

এমএসএম / এমএসএম

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে একদিনে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

দোহাজারীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরু ছিনতাই, আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

প্রধান উপদেষ্টার রোডম্যাপ সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার নীল নকশা: ডা. তাহের

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির মূলহোতা'সহ ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

আনোয়ারায় শ্রমিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে যুবলীগ নেতা শাহ জালাল

কোটালীপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত হল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

‎কুতুবদিয়ায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ সদস্য গ্রেফতার

রায়গঞ্জে বিপিএলের ধাঁচে ফুটবলার নিলাম, গ্রামে উৎসবের আমেজ

মানিকগঞ্জে শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

শেরপুরে গোয়ালঘরে কয়েলের আগুন ৮টি গরু ও ৪টি ছাগল পুড়ে ছাই

শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, ভাড়া করা ঘরে চলছে পাঠদান