হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে মিলিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুতে এবং পরমানু বিদ্যুৎকেন্দ্র দেখতে ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছিল দেখার মত। এছাড়াও, এই এলাকাটি ইতিমধ্যেই দূর-দূরান্তের মানুষের জন্য, যার মধ্যে বিদেশী পর্যটকরাও আছেন, একটি বিশেষ বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
পদ্মার তীরে নির্মিত প্রাচীনতম শহর পাকশীর মনোরম দৃশ্যে মুগ্ধ হয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বাদ গ্রহণের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক জাদুকরী খেলার মাঠে ভিড় জমান। এই এলাকাটি বেশিরভাগ পর্যটকপ্রেমী মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে।
ঈদের ছুটিতে, সাধারণ সময়ের পাশাপাশি, পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায়ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
দর্শনার্থীরা পদ্মা নদীর তীরে দক্ষভাবে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতুর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের ১৬টি আবাসিক ২০ তলা ভবন, ব্রিটিশ আমলে অত্যন্ত দক্ষভাবে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতু, পাশাপাশি পাকশী রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনার দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, লালন শাহ সেতুতে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নীচে এবং পাকশী রেলওয়ে স্টেশনে শত শত মানুষ রূপপুর পারমাণবিক বিদদ্যুৎ প্রকল্পের চারটি শীতল টাওয়ার দেখতে ভিড় জমায়, যেগুলো প্রায় ১৮০ মিটার উঁচু (প্রায় ৪০ তলা উঁচু)। সবচেয়ে বেশি ভিড় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে।
ঈদের ছুটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকল শ্রেণীর মানুষ একটু বিনোদনের খোঁজে এখানে ভিড় জমায়। এর পাশাপাশি, পদ্মার তীরে দলে দলে দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়াতে এবং নদীতে নৌকা চালাতে দেখা যায়।
এছাড়াও, পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় অফিস, যেখানে ব্রিটিশ আমলের রেল ইঞ্জিন, বড় বড় গাছ এবং শত শত বছর আগের বিভিন্ন নান্দনিক রেলওয়ের স্থাপনা সকলকে মোহিত করে।
এখানে কোন বন নেই; প্রাচীন গাছ রয়েছে। কোন হিংস্র প্রাণী নেই; জায়গাটি অসংখ্য পাখির আবাসস্থল। এখানে কোন উপত্যকা নেই, শুধুমাত্র কিছু বাধের ঢাল রয়েছে। যেখানে কিছু সুড়ঙ্গ আছে সেখানে কোনও পাহাড়ি পথ নেই।
ঝিনাইদহের একজন দর্শনার্থী ইমরান হোসেন মঙ্গলবার ঈদের দ্বিতীয় দিন লালন শাহ সেতু পরিদর্শন করার সময় এই প্রতিনিধিকে বলেন, "আমি লালন শাহ সেতুর উপর দাঁড়িয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদদ্যুৎ প্রকল্প এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজের সৌন্দর্য উপভোগ করছি।"
এর পাশাপাশি পদ্মা নদীর মৃদু বাতাস আমার শরীরকে শীতল করে তুলছে। এখানকার পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই উপভোগ্য। আমার মতো শত শত দর্শনার্থী এখানে দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন," তিনি আরও বলেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অধ্যাপক বিকাশ চন্দ্র এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ইদ্রিস আলী ঈদ উপলক্ষে তাদের পরিবার নিয়ে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং লালন শাহ সেতু এলাকা পরিদর্শন করতে এসেছিলেন। এখানে যারা আসেন তারা সবাই এই স্থানের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। স্থানীয়রা মনে করেন যে, পাকশীর এই এলাকাটিকে যদি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা’হলে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আয় বৃদ্ধি পাবে।
পাবনা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাকশী জুড়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপনার চিহ্ন রয়েছে। এই এলাকাটি পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা হলে এখানে আরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মার তীরে অবস্থিত পাকশীতে কোনও পর্যটন অবকাঠামো নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা গেলেই পাকশীর সৌন্দর্য পূর্ণতা পাবে। পরিকল্পিতভাবে পাকশীকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে সরকার রাজস্ব পাবে।
পর্যটকরা সন্তুষ্টির সাথে পাকশীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটকদের জন্য উন্নতমানের আবাসন এবং খাবারের ব্যবস্থা না থাকার কারণে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পাকশীর সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ঝিনাইদহের পর্যটক জাহিদ হাসান, নাটোরের হাবিবুর রহমান হাবিব এবং আকলিমা খাতুন বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হলেও এখানে ভ্রমণকারীদের বসার ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তারও অভাব রয়েছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক দুদু বলেন, "ঈশ্বরদীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাকশীকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে।"
ঈশ্বরদী শিল্প ও বাণিজ্যিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, যদি পাকশীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়, তা’হলে কেবল ভ্রমণকারীরাই উপকৃত হবেন না, সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাস এই প্রতিনিধিকে বলেন, "পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রচার করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে, যা চলমান রয়েছে। যেহেতু এই স্থানটি রেলওয়ের জায়গা, তাই তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেলে কোনও সমস্যা হবে না। আমরা আশা করি সরকার শীঘ্রই পাকশীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করার ঘোষণা দেবে।"
এমএসএম / এমএসএম
শ্যামনগরে নূরনগর মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫০ পরিবারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
নপুরায় ভিক্ষার টাকায় চলে জীবন: সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের পাশে যুব রেড ক্রিসেন্ট
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই, ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে বকশীগঞ্জের আলুচাষি
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
গাজীপুরে সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ
ঈশ্বরদীতে এক মাদকসেবীর অপ্রত্যাশিত মাদকবিরোধী প্রচারণায়চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে
গাজীপুরে সার সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তোপের মুখে জেলা কমান্ডার মাহফুজ
ধামরাইয়ে পাঁচ ইটভাটায় ২৪ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো চিমনি
তারাগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার টাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার