ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

প্রকৃতিকে রঙিন রূপে সাজাতে মাধবীলতার শুভ্রতা


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২-৪-২০২৫ দুপুর ৩:৪২

গ্রামবাংলার মন জুড়ানো, মন মাতানো অন্যতম সেরা ফুল মধুমঞ্জরীলতা বা মাধবীলতা। বসন্তের শেষ ভাগে ও গ্রীষ্মের আগমনে পলাশ-শিমুলের বিদায়ে প্রকৃতিকে রঙিন রূপে সাজাতে মাধবীলতা ফুলের শুভ্রতার জুড়ি নেই। বারহাট্টার প্রকৃতি জুড়ে ঘন সবুজ পাতার মাঝে ঝুলন্ত সাদা-গোলাপী-লাল ফুল দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় যেকোনো ফুলপ্রেমীর।

মাধবীলতা ফুল চেনেন না এমন মানুষ খুবই কম। নিজের বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মানুষ মাধবীলতা গাছ লাগায়। বিশেষ করে বাড়ির প্রবেশ দ্বার, ছাদ, ফুল বাগানে, ঘরের চালসহ বাড়ির আঙিনায় ছোট-বড় গাছের ডালে এ ফুলগাছ দেখা যায়। প্রকৃতির ছদ্মবেশে ধূলি উড়া গোধূলি শেষে যখন সন্ধ্যা নামে, তখনই মাধবীলতার মিষ্টি ঘ্রাণে সৌরভ ছড়ায়। অঞ্চলভেদে লাল-গোলাপী-সাদা ফুলের মাধবীলতাকে অনেকে পুষ্পন্দ্রে কামী, অভীষ্টগন্ধক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমরোৎসব নামে ডাকেন। নেত্রকোনা অঞ্চলের মানুষ এ ফুলকে মাধবীলতা নামেই চেনেন। ভালবেসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ফুলটিকে মধুমঞ্জরীলতা নামে ডেকেছিলেন। লিখেছিলেন- "স্মরণচিহ্ন কত যাবে, উন্মুলে মোর দেয়া নাম লেখা থাক ওর ফুলে মধুমঞ্জরীলতা"। প্রায় সারা বছরই মাধবীলতা ফোটে তবে- বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মাধবীলতা ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম। মনের রঙের সাথে মাধবীলতার ভাব প্রকাশের তুলনা হয় না। আর মাধবীলতা ফুলকে নিয়ে চলে গল্প-কবিতা-উপন্যাসে প্রেমিক-প্রেমিকাদের সীমাহীন ভালোবাসা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের প্রতিটি গ্রামেই বাড়ির আঙিনায় অথবা ছোট-বড় গাছের ডালে ডালে সাদা-গোলাপী-লাল রঙের সৌন্দর্য নিয়ে থোকায় থোকায় অজস্র ফুল ফুটেছে। চৈত্রের তপ্ত দুপুরে মাধবীলতার রঙিন সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে সকলকে।

উপজেলার বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা বিষয়ের সিনিয়র প্রভাষক সাহিত্যমনা বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কবিগুরুর 'মধুমঞ্জরীলতা' আমাদের 'মাধবীলতা' বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রচুর ফুল ফোটে। যদিও সারা বছর কিছু দিন পরপর ফুল ফোটে। পাপড়ির নলটি বেশ লম্বা। বছরে কয়েক দফা ফুল ফোটে। এজন্যে একে বারোমাসী ফুল বলা হয়। ঘন সবুজ পাতার মাঝখানে ঝুলন্ত সাদা-লাল ফুল সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ফুলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি রাতে তীব্র মিষ্টি ঘ্রাণে ভরিয়ে রেখেছে চারপাশ। ডালের আগায় বড় বড় ঝুলন্ত থোকা। প্রতিটি থোকায় ১০ থেকে ১৫টি লাল-গোলাপী-সাদা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে রঙিন ফুলের থোকা দূর থেকে দেখলে মনে হয় মাধবী তার নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে সাজিয়েছে প্রকৃতিকে।

বারহাট্টা সরকারি ডিগ্রি কলেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রভাষক মজিবুল হক বলেন, মধুমঞ্জরীলতা বা মাধবীলতাফুলটি Combretaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বহুবর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম- Quisqualis indica, এর ইংরেজি নাম- Chinese honeysuckle বা Rangoon creeper। এর বংশবৃদ্ধি মূলত অঙ্গজ।

তিনি আরও বলেন, মাধবীলতার গোড়া এবং শেকড় থেকে নতুন গাছ গজায়। লতা কেটে মাটিতে পুঁতলেও চারা হয়। এর পাতা কিছুটা পাতলা ও খসখসে প্রকৃতির, গঠনে আয়তাকার থেকে ডিম্বাকার, রং সবুজ, এর পাতাগুলো শাখায় জোড়ায় জোড়ায় সুবিন্যস্তভাবে সাজানো থাকে। পাতার আকৃতি ছয় থেকে নয় সেন্টিমিটার লম্বা, শিরা সামান্য রোমশ, পত্রবিন্যাস বিপ্রতীপ। তাজা ও বাসি ফুলে রঙের ভিন্নতাও এ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাজা ফুলের রং সাদা, বাসি হলে লাল হয়। ফুলে ক্ষুদ্রাকৃতির পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি, মাঝে পরাগ অবস্থিত, দলনল বেশ লম্বা।

এর ভেষজ উপকারিতা সম্পর্কে উপজেলা সদরের যশমাধব গ্রামের বাসিন্দা কবিরাজ কুতুবউদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মধুমঞ্জরীলতা বা মাধবীলতা শুধু আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, এ উদ্ভিদ আমাদের অনেক রোগ থেকে মুক্তিও দেয়। এর বহুবিধ ভেষজ গুণও রয়েছে। এর পাতার রস চর্মরোগে ও মাথার যন্ত্রনার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পুরনো বাত ও হাঁপানীর উপশমে লাগে। এর বীজ কৃমি, ডায়ারিয়া ও জ্বর নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ গাছের কান্ড সর্দি, কাশি এবং ঠান্ডা লাগায় ব্যবহার করা হয়। গাছের শুকনো ছালের গুঁড়া বিষাক্ত ঘা সারিয়ে তোলে।

এমএসএম / এমএসএম

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

মরণফাঁদে পরিণত পাঁচুড়িয়া খাল: দেখার কি কেউ নেই..?

বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা

লাকসামে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

টুঙ্গিপাড়ায় ভেজালমুক্ত খাদ্যের দাবিতে র‍্যালি-মানববন্ধন

নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশী অস্ত্রসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার-মিটার ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো গ্রাহক

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার

গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

গোবিপ্রবিতে ৯ বিভাগে কেমিক্যাল সরবরাহ, মেডিকেল সেন্টারে নতুন সরঞ্জাম সংযোজন

ভূরুঙ্গামারীতে তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে

গোবিপ্রবির দুই প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত

‎লালপুর গ্রামের রাস্তায় জলবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী