ঢাকা শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

পর্ব ১

লোহাগড়ায় ভূমি রেকর্ড জালিয়াতি: নাজির সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ


পিকুল আলম, লোহাগড়া  photo পিকুল আলম, লোহাগড়া
প্রকাশিত: ২৯-৪-২০২৫ দুপুর ৪:৩০

নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ভূমি অফিসে রেকর্ড সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ও বিধান লঙ্ঘন করে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদ) কাটা ছাড়াই জমির রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি লোহাগড়া উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সাইদুর রহমান।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আওতাধীন সারুলিয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নম্বর ৩০-এর করণিক সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাজির সাইদুর রহমান নিয়ম ভেঙে অনিয়ম করেছেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বড় একটি ভূমি জালিয়াতি চক্রের সাথে যুক্ত থেকে সময় সময় মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নানা ধরনের অনিয়ম করে আসছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, রেকর্ড সংশোধন বা আপডেটের সময় নির্ধারিত কোর্ট ফি ও সংশ্লিষ্ট ফি ডিসিআর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নাজির সাইদুর রহমান মোটা অংকের বিনিময়ে ডিসিআর ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে সংশোধিত রেকর্ড সরবরাহ করেছেন। এতে নির্ধারিত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা সরাসরি সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

ভূমি পরিপত্রের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ (৮.০৮ ধারা) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, "রেকর্ড সংশোধনের আবেদনের সাথে নির্ধারিত কোর্ট ফি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক এবং সংশোধন আদেশের পর নোটিশ ফি, রেকর্ড সংশোধন ফি ও খতিয়ান সরবরাহ ফি ডিসিআরের মাধ্যমে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।" শুধুমাত্র ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ক্ষেত্রে ফি মওকুফের বিধান আছে, যা সাধারণ ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত জমির জন্য প্রযোজ্য নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৫ ধারা অনুযায়ী, "বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ করা ফৌজদারি অপরাধ। সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক এ অপরাধ সংঘটিত হলে, তা আরও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। দোষী প্রমাণিত হলে জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নাজির সাইদুর রহমান বলেন, যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে সেটি অবশ্যই অপরাধ।" তার এই বক্তব্য থেকেই অভিযোগের কিছুটা সত্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, যদি কোনোভাবে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম একদিকে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ভূমি রেকর্ড সংশোধন ও নামজারির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভূমি প্রশাসনকে অবশ্যই ভূমি পরিপত্রের বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায়, জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্বও ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট

সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান

মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা

জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা

ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫

চাঁদপুরে বাসি খাবার সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিকের জরিমানা