কুড়িগ্রামে অর্থাভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে পারছে না সাবেক ছিটমহলের ছাত্র মইনুল হক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সাবেক ছিটমহলের শিক্ষার্থী ময়নুল হক। তবে তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম আর্থিক সংকট। ছেলের ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় সদ্য বিধবা মা মায়া বেগম খুশির পরিবর্তে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ময়নুল হকের বাড়ী কুড়িগ্রামের সীমান্ত ঘেঁষা ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার দোলাটারী গ্রামে। মেধাবী শিক্ষার্থী ময়নুল হকের বাড়ীতে গিয়ে দেখা গেছে মাত্র তিন শতক জমিতে জরাজীর্ণ টিনসেড ঘর। সেই ঘরে এক পাশে থাকেন মা মায়া বেগম ও ছোট বোন লুৎফা খাতুন এবং এক পাশে থাকে ময়নুল হক ও তার ছোট ভাই মেরাজ। ময়নুল হকের বাবা লুৎফর রহমান ছিলেন ইট ভাটার শ্রমিক। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের পড়াশোনার কোন যেন ক্রুটি না হয় সে ব্যাপারে ছিলেন খুবই সজাগ। অভাব কখনোই বুঝতে দেননি সন্তানদের। ময়নুল ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াতো। এটাকায় নিজের পড়াশুনার খরচ চালিয়ে সংসারে সহায়তা করতো। সময় সুযোগে দিন মজুরী করতো মেধাবী মইনুল। দারিদ্র্য পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি লুৎফর রহমান মারা যাওয়ার পর অন্ধকার নেমে এসেছে পুরো পরিবারে। ময়নুল হকের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ, পরবর্তীতে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার মা মায়া বেগম মইনুল সহ আর দুই সন্তানের কিভাবে ভরন পোষণ চালিয়ে যাবেন তা নিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন।
মায়া বেগম জানান, তার স্বামী দিন মজুর হলেও সংসার সুন্দর ভাবে চলতো। হঠাৎ কওে স্বামীর ব্রেইন টিউমার রোগে আক্রান্ত হয়ে সামান্য জমি ও গরু-ছাগল বিক্রি করে তার চিকিৎসা করেছি। হয়। আমার স্বামীর মাত্র তিন শতক জমিতে বাড়ি চালা। কোন প্রকার আবাদি জমি ছিল না। কিন্তু স্বামীকে বাঁচতে পারিনি। ভাগ্যের কি নিমর্ম পরিহাস। তিনি আরও বলেন যেদিন বড় ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির চান্স পায় সেদিন রাতেই তার স্বামী মারা যায়। এখন কি করবো জানি না?
মেধাবী শিক্ষার্থী ময়নুল হক বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। বাবা অনেক কষ্ট করে ইটভাঙায় শ্রমিকের কাজ করে আমার পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। আমিও বাবার সংসারে সহযোগিতা ও পড়াশোনার পাশাপাশি কখনও প্রাইভেট ও মানুষের জমিতে দিন মজুরীর কাজও করেছি। বাবার চিকিৎসার জন্য সংসারে যা কিছু ছিল সবই বিক্রি করা হয়েছে। বাবা-মার অনুরোধে অসুস্থ বাবাকে বাড়িতে রেখে মানুষের কাছে ধার-দেনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির কোচিং করতে ঢাকায় যাই। টাকার অভাবে কোচিং চলাকালীন সময়ে দিনের পর দিন রোজা রেখে ক্লাস করেছি। পরে ম্যাচের সহপাঠিরা জানতে পেরে তাদের সাথে খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।
মইনুল আরও জানায় আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৮ তম হয়েছি। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমার রেজাল্টে পরিবারের সবাই খুশি হয়েছে। এখন টাকার অভাবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো কিনা জানিনা এ নিয়ে অনেক দুচিন্তায় পড়েছে। আগামী ৫ মে ভর্তির সর্বশেষ তারিখ। ভর্তিসহ পড়াশোনার খরচ বহন করার জন্য সরকারসহ বিত্তবানদেরা যদি এগিয়ে আসতো তাহলে তাদের কাছে চির কৃতঙ্গ থাকতো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনুমা তারান্নুম জানান, ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর ঠিকানা জানা নেই। তারপরও খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং ওই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এমএসএম / এমএসএম
শ্রীমঙ্গলে নুরে মদিনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক বিতরণ
আদমদীঘিতে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ
যশোরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
রূপগঞ্জে মাদক সেবনের ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার অন্ত: সত্ত্বা, গর্ভপাত, ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনে
যৌতুকের বলি পলি খানম: ঘরছাড়া মা ও শিশু, পরকীয়া প্রেম, ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে মামলা
বাঘা থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ যুবক আটক
কুষ্টিয়ায় সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে খাস জমিতে প্রাচীর নির্মাণে অভিযোগ
পঞ্চগড় পৌরসভায় সৌরবাতি স্থাপনে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক
বড়লেখায় কাল বৈশাখীর তান্ডব; স্কুলের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
পাবনায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা
বারহাট্টায় পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
নরসিংদীতে পরিবেশ দূষণরোধে সচেতনতা কর্মশালা অনুষ্ঠিত
Link Copied