ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানবেতর জীবন যাপন করছে কোটালীপাড়ার ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যেরা


কোটালীপাড়া প্রতিনিধি photo কোটালীপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০-৮-২০২৫ দুপুর ৩:৩২

গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত একটি পুলিশ ফাঁড়ির দুটি জরাজীর্ণ কক্ষে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ১৬ জন পুলিশ সদস্য। কক্ষগুলোর দেওয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে, দরজা-জানালাগুলো ভাঙাচোরা, এবং দেওয়ালে শ্যাওলা ও লতাপাতা জড়ানো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি একটি ভুতুড়ে বাড়ি, কিন্তু এটিই প্রায় ২ লক্ষ জনসাধারণের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের একমাত্র আশ্রয়।

২০০১ সালে কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা সাদুল্লাপুর, রামশীল, কলাবাড়ি এবং রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট বাজার সংলগ্ন তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত একতলা ভবনে এই ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২ সালে ভবনটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে ফাঁড়ির কার্যক্রম সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এই ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় ১৭ জন পুলিশ সদস্যকে দুটি ছোট কক্ষে থাকতে হচ্ছে। তাদের কোনো অস্ত্রাগার নেই, এমনকি আসামি রাখারও কোনো কক্ষ নেই। খাওয়া, রান্না, এমনকি নামাজ পড়ার একটি ভালো স্থানও না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই দুরবস্থা চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে একদিকে মৃত্যুভয়, অন্যদিকে অস্ত্র লুটের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ ফাঁড়ির কক্ষ দুটির ছাদ এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়েছে। দরজা-জানালাগুলো ভাঙাচোরা, যা দেখে মনে হয় যেন এটি একটি ভুতুড়ে বাড়ি।

ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমরা এখানে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। থাকার জায়গা নেই, অস্ত্র রাখার জায়গা নেই। সবসময় আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে কাটাতে হয়। একজন আসামি নিয়ে আসলে তাকে নিয়ে সারারাত দাঁড়িয়ে কাটাতে হয়। ভাঙাচোরা টয়লেটে অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন চলছে আমাদের।”

সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমর চাঁদ খোকন বলেন, “২০০১ সালে এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি নির্মিত হয়। নির্মাণ ত্রুটির কারণে কয়েক বছর পরই এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়িটি ২০১২ সালে টিটি হাইস্কুল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের এই দুটি কক্ষে স্থানান্তরিত হয়। তখনই ভবনটি জরাজীর্ণ ছিল। বর্তমানে পুরো ভবনেরই বেহাল দশা। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ ফাঁড়ির কাজকর্ম চলছে।”

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, “ফাঁড়িটির নামে স্থায়ী কোনো জায়গা না থাকায় সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুটি কক্ষে ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়িটি পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটির বেহাল দশার কারণে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। থাকার সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত জনবলও দেওয়া যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার স্যার ফাঁড়িটি পরিদর্শন করে নিজস্ব স্থানে দ্রুত ভবন তৈরি করে ফাঁড়িটি স্থানান্তর করার আশ্বাস দিয়েছেন।”

গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ফাঁড়ি ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে নিজস্ব জায়গায় ভবন তৈরির লক্ষ্যে ২০২০ সালে জায়গা অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অনুমোদন হলেই ফাঁড়িটির জন্য নতুন ভবন নির্মিত হবে। এছাড়া জেলা পরিষদ থেকেও জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জায়গা বরাদ্দ হলেই নতুন ভবন নির্মাণ হবে, তখন সকল সমস্যা দূর হয়ে যাবে।”

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচিতে এমপি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা

বিতর্কিত এসআই নেয়ামতের বিরুদ্ধে ঘুষ-চাঁদাবাজির মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর

রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার

কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই

শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম

অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার

শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন

চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন