শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি ঢলে বিলীন ১১ পরিবারের বসতভিটা: বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয়
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ভারী বর্ষণ এবং সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১১টি পরিবারের বসতভিটা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থানীয় একটি বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে, ঢলের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া কিশোর ইসমাইল হোসেনের পরিবারের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবল তোড়ে মহারশি নদীর ব্রিজপাড় সংলগ্ন খৈলকুড়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারেও প্রবেশ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে অন্তত ১১টি পরিবারের বসতভিটা ভেসে যায়, ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি এবং ডুবে যায় ৫০টিরও বেশি মাছের ঘের। ঢলের পানিতে ৩৪৫ হেক্টর জমির আমন ধান ও ১০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়, আর ৫৭৫ হেক্টর আমন ও ২৫ হেক্টর সবজি খেত আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত খৈলকুড়া এলাকার বিধবা নারী রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, গত দুই বছরে তিনবার নদীর ভাঙনে তার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে শেষ সম্বলটুকুও পাহাড়ি ঢল কেড়ে নিয়েছে। তার দুটি ঘর, ফসলি জমি এবং আসবাবপত্র ভেসে গেছে। সরকারি সাহায্য ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই বলে তিনি জানান।
ঝিনাইগাতী বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান খান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মহারশি নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে বাজারের কয়েক শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে মহারশি নদীর পাশে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, দোকানঘরের মেঝে উঁচু করা এবং বাজারে টেকসই ড্রেন নির্মাণের জোর দাবি জানান। স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ ঢলে ব্রিজের বাঁধ ভেঙে গেলেও তা সংস্কার করা হয়নি, যার কারণে এবারও একই জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইগাতীর ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, গত তিন দিন বৃষ্টি না হওয়ায় নদীর পানি কমেছে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে। তিনি আরও বলেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এমএসএম / এমএসএম
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত হাতিকে মাটিতে পুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা!
জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও বিশ্ব শান্তি কামনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
আদমদীঘিতে হামীম পেট্রল পাম্পের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
হাটহাজারীতে অকটেন মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় বন্ধ রাখার অপরাধে জরিমানা।
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত
আদমদীঘিতে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল শিশু হাবিবার
গোমতী নদীর তীর রক্ষায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান
বগুড়ার গাবতলীতে শ্যালো মেশিন ঘর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা সভা: দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
হত্যা মামলার আসামির ‘ক্ষোভ’: ৫০ নিরীহ চরবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মনপুরায় তরমুজে ভরা মাঠ, ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত চাষিদের