ঢাকা রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

সিনেমা হলের শেষ গল্প: তাজ সিনেমা হল থেকে স্মৃতি হারাচ্ছে দর্শক


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ২০-৯-২০২৫ বিকাল ৫:১৯

এক সময়ে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের প্রাণকেন্দ্র ছিল সিনেমা হল। ঢালিউডের সুদিনে, নতুন সিনেমা মুক্তির খবর মানেই পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে হলের পথে রওনা। ছোট্ট শহরের বড় প্রেক্ষাগৃহগুলো যেন এক শিল্পের মন্দির। সেখানে শুধু সিনেমা দেখার জন্য নয়, মানুষের জীবনের আনন্দ, কষ্ট, প্রেম, হাসি-কান্না—সবই ছিল। আজ সেই দিনগুলো যেন শুধু স্মৃতির পাতায় লেখা।

গাইবান্ধার নুপুর সিনেমা হল আর চৌধুরী সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। শূন্য আসন, ফাঁকা হল, ফিকে আলো—সব কিছু আজ এক অচেনা দৃশ্যের মতো। এমনকি ঢালিউডের বড় বড় সিনেমাও দর্শক টানতে পারছে না। প্রায় প্রতিটি হল মালিকই বছরের পর বছর লোকসানের বোঝা সইয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মাটির কামড় দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন প্রিয় সিনেমা হলগুলো। কিন্তু এখন সেই ধৈর্যও শেষ।

এবার দুঃসংবাদ ছড়াল তাজ সিনেমা হল থেকে। দীর্ঘদিন ধরে এই হলটি ছিল স্থানীয় মানুষের আনন্দের ঠিকানা। জন্মদিনের আনন্দ, বন্ধুর সঙ্গে দেখা, প্রেমের প্রথম সাক্ষাৎ—সব স্মৃতি এই হলের দেয়ালে মিশে আছে। কিন্তু এখন দর্শক যেন সোনার হরিণ। শূন্য আসনের দৃশ্য দেখেও প্রিয় হল কর্ণধার ইদ্রিস সাহেব ক্লান্ত। বহু বছর ধরে লোকসানের বোঝা টেনে নেওয়ার পর অবশেষে তিনি হলটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিনেমা হল শুধুই বিনোদনের স্থান ছিল না; এটি সামাজিক মিলন, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। ঢালিউডের সুদিনে, নতুন সিনেমার মুক্তি মানেই চারপাশে আনন্দের ঝড়। পরিবার-বন্ধু, শিক্ষার্থী, শিল্পী, সাধারণ মানুষ—সবাই মিলিত হতেন এই প্রেক্ষাগৃহে। তখন সিনেমা হল মানেই জীবনের অংশ। কোথাও সিনেমার গান গুনগুন করা, কোথাও গল্প নিয়ে হইচই—সবই ছিল জীবনের ছোঁয়া।

কিন্তু আজ সেই সুদিনের গল্প কেবল স্মৃতিতে। বাংলাদেশের সিনেমা হলের সংখ্যা ক্রমেই শতকের নিচে নামছে। শহরগুলোতে প্রেক্ষাগৃহের অভাব শুধু বিনোদনের ক্ষতি করছে না, সামাজিক জীবনেরও ঘাটতি তৈরি করছে। ছোট শহরের মানুষ আজ আর নতুন সিনেমার জন্য বিশাল হলের দরজা খুলতে যায় না। অনেক সময় পরিবার-বন্ধুর সঙ্গে বাসায় বসেই সিনেমা দেখার চেষ্টা করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুই ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয় নয়। এটি সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতি। চলচ্চিত্র শুধু ছবি নয়, এটি ইতিহাস, মানুষ ও সময়ের সাক্ষী। প্রিয় সিনেমা হল বন্ধ হলে, শুধু বিনোদনের আনন্দ নয়, সেই সময়ের আবেগ, স্মৃতি এবং শিল্পী-দর্শক সম্পর্কও হারিয়ে যায়।

তাজ সিনেমা হলের বন্ধের খবর কেবল গাইবান্ধার নয়, সমগ্র দেশের প্রেক্ষাগৃহ শিল্পের জন্য উদ্বেগজনক। মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের বোঝা সহ্য করে আসছিলেন। কিন্তু এখন আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আরেকটি প্রিয় হল চলে যাচ্ছে, আরেকটি ইতিহাস হারাচ্ছে।

সিনেমা প্রেমীদের আবেগও এখানে অমলিন। ছোট বেলায় প্রথম সিনেমা দেখার উত্তেজনা, বন্ধুর সঙ্গে হেসে কেঁদে থাকা মুহূর্তগুলো—সবই এখন ফিকে হয়ে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, "কবে আর আমরা সেই প্রিয় হলের সিটে বসে সিনেমার আনন্দ উপভোগ করতে পারব?"

ঢালিউডের নতুন প্রজন্মের জন্যও এটি একটি শিক্ষা। সুদিনের ছবি শুধু সিনেমায় নয়, মানুষের মনেও আঁকা থাকে। প্রতিটি হলের দেয়ালে হাজারো গল্প লুকিয়ে থাকে। পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, প্রেমের স্মৃতি, ছোট শহরের সাংস্কৃতিক মিলন—সবই এই হলগুলোতে শুরু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের উপজেলা ও ছোট শহরে প্রেক্ষাগৃহের অভাব যেন ঢালিউডের ইতিহাসকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শুধু ব্যবসায়িক দিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও বড় ক্ষতি হচ্ছে। যদি এই প্রেক্ষাগৃহ সংকট অব্যাহত থাকে, তাহলে শতকের পুরোনো সিনেমা হলগুলো ইতিহাসের পাতায় সীমিত হয়ে যাবে, আর নতুন প্রজন্ম শুধুই গল্পের মাধ্যমে সেই সুদিনের স্মৃতি জানতে পারবে।

তাজ সিনেমা হলের বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি সংকেত। এটি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, বাংলাদেশের সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক আবেগময় ক্ষতি। সুদিনের স্মৃতি, সিনেমার সঙ্গে মানুষের সংযোগ, পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে আনন্দ—সবই এই প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে জড়িত। সেই সব স্মৃতি এখন কেবল চলচ্চিত্রের মতো স্মৃতির পাতায় লেখা।

ঢালিউডের সুদিন ফিরলেও, সিনেমা হলের সংকট অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্ম কবে সেই আনন্দ অনুভব করবে তা অনিশ্চিত। তাই প্রয়োজন স্থানীয়, ছোট শহরের প্রেক্ষাগৃহ এবং সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সংস্কৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ। না হলে, দেশের সিনেমার ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে, আর প্রিয় হলগুলো কেবল ইতিহাসের গল্প হয়ে থাকবে।

এমএসএম / এমএসএম

গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর

রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার

কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই

শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম

অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার

শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন

মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন

চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন

বাঘায় শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬

লৎসর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা