মসজিদ-কবরস্থানের টাকাও মেরে খান তিনি!
মানুষ যত অপরাধই করুক না কেন, মসজিদ ও কবরস্থানে অনিয়ম করতে গেলে ভয় কাজ করে। সেটা মনুষ্য সমাজের ভয় নয়; পরকালের ভয়, পাপের ভয়। কাজেই ধরে নেয়া যায়, এই দুটি জায়গায় অনিয়ম-দুর্নীতি চলে না। কিন্তু এখন সে ভয় আর নেই। দুর্নীতিবাজদের কাছে মসজিদ-কবরস্থানের টাকা আর সাধারণ টাকার মধ্যে কোন তফাৎ নেই। তারা মনে করে সব টাকাই টাকা। সেটা কালো হোক আর সাদা।
দৈনিক সকালের সময়ের পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে তা দেখতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। সরকারি বরাদ্দের তালিকার সূত্র ধরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া যায় অনিয়মের নানান চিত্র। এরপর এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করেন। অনিয়মের খোঁজ পেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ম্যানেজ করা হয় কখনো কখনো। এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানকালে এ প্রতিবেদককেও ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়।
শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে আরুয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ৪৫ হাজার টাকা, ধুতরাবাড়ী কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ত্রিলোচনপট্টি মরিয়ম-জলিল জামে মসজিদের মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, কে আলী খান কবরস্থানে মৃতদেহ রাখার ঘর নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ত্রিলোচনপট্টি মরিয়ম-জলিল জামে মসজিদের মাটি ভরাটের জন্য আবারো ৫০ হাজার টাকা, নালী পূর্বপাড়া শ্মশানঘাটে মাটি ভরাটের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও দড়িকান্দি মধ্যপাড়া কবরস্থানের জন্য ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে সকালের সময়। তারা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তারা কিছু জানতেনই না। তবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করার পর জানতে পারছেন। আর বিপদের আশঙ্কায় এখন বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম টাকা দেয়া হচ্ছে তাদের।
এই অনিয়মের সঙ্গে যিনি যুক্ত তার নাম ফেরদৌসী আক্তার। তিনি আরুয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য। এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে সঙ্গে নিয়ে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফের কথা বলান। তখনও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, প্রকল্পে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তার অর্ধেক টাকা পেয়েছেন তারা। আর এই অর্ধেক টাকার মধ্যে থেকেও ভ্যাট-ট্যাক্স, মাস্টার রোল ও সাইনবোর্ড বাবদ আরো ১০% টাকা কেটে রাখা হয়েছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানকালে কোনো প্রকল্পে সাইনবোর্ড দেখা যায়নি।
বড়রিয়া কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আতোয়ার রহমান জানান, কবরস্থানের উন্নয়নে এক টাকাও পাননি তারা। দড়িকান্দি মধ্যপাড়া কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা মো. ইছাক আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে তাকে ২২ হাজার টাকা দেন মেম্বার ফেরদৌসী আক্তার।
ত্রিলোচনপট্টি মরিয়ম-জলিল জামে মসজিদের মাটি ভরাটের জন্য প্রথম কিস্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ও দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই মসজিদের ক্যাশিয়ার ও বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রথম কিস্তিতে ৮০ হাজার আর দ্বিতীয় কিস্তিতে ২২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন তিনি। ধুতরাবাড়ী কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও অর্ধেক টাকা দেয়া হয় কমিটিকে।
তবে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে এভাবে টাকা দেয়ার বিধান নেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ করার পর বিল উত্তোলনের কথা। কিন্তু এখানে ঘটেছে নিয়মের ঠিক উল্টোটা। প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। আর ওই বিলের টাকাও মেরে খেয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।
ফেরদৌসী আক্তার বলেন, দুই কিস্তিতে প্রকল্পের টাকা পরিশোধ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। যেসব প্রকল্পে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, সেসব প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা অর্থাৎ বরাদ্দের অর্ধেক টাকা পেয়েছি, অর্ধেক টাকাই তাদের দিয়েছি। বাকি টাকা না পেলে দেব কোথা থেকে?
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কুষ্ণ বললেন ভিন্নকথা। তিনি বলেন, কিছু প্রকল্পে অর্ধেক টাকা দেয়া হয়েছে। তবে ত্রিলোচনপট্টি মরিয়ম-জলিল জামে মসজিদের মাটি ভরাটের জন্য প্রথম কিস্তিতে ১ লাখ ৬০ হাজার ও দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা ও ধুতরাবাড়ী কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পুরো বিলই দেয়া হয়েছে। এছাড়া কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স নেয়া হয় না।
যেসব প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছে ও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি এমনকি ভ্যাট-ট্যাক্সেও কথা বলে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেসব প্রকল্পে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এমএসএম / জামান
অতিরিক্ত বিলের নামে অর্থ আদায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএমকে আইনি নোটিশ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত
রাজারহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রমিক দিবস পালিত
তারাগঞ্জে ৪৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ-পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ
পেকুয়ার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক
নবীনগরে ধান মাড়াই মেশিনে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন
কুড়িগ্রামে মোবাইল কোর্টে ফিলিং স্টেশনকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন:স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই
তারাগঞ্জে শিকলবন্দী কিশোরীকে উদ্ধার করল প্রশাসন
মাদারীপুরে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হাফেজ নির্বাচনে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
বিজিবির অভিযানে কুমিল্লায় কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রি-পিস জব্দ