আইন ব্যবহার করেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত তথ্য
মানিকগঞ্জ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তথ্য পেতে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় সংবাদকর্মীদের। সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরকারি দপ্তরের তথ্য পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে। এরপর তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত তথ্য। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর নানা জায়গা থেকে আসতে থাকে নানা তদবির। যদিও প্রতিটি সরকারি দপ্তরেই তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া আছে।
মানিকগঞ্জের স্থানীয় দুই সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম ও সজল আলী। বয়সে তরুণ এই দুই সংবাদকর্মী সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তথ্য চেয়েও পান না বেশিরভাগ সময়। ফলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন তারা। কিন্তু এক্ষেত্রেও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে থাকে নানা তদবির। তদবির আসে অন্য সংবাদকর্মীদের কাছ থেকেও। প্রভাবশালীদের কেউ কেউ হুমকিও দেন কখনো কখনো।
সাইফুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তথ্য পাওয়ার নজির খুব কম। এমনকি তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে তথ্য পাওয়া যায় না। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন তথ্য চেয়ে আবেদন করেছি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি।
সজল আলী বলেন, গত বছর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে ‘সাব-মার্সেবল টিউবওয়েল’ বরাদ্দের তথ্য চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নানা জায়গা থেকে তদবির করান। তদবির করেন জেলার এক সাংবাদিক নেতা। হুমকি দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। পরে ঢাকার সিনিয়র এক সাংবাদিক ভাইয়ের মাধ্যমে সেই কর্মকর্তাকে কল করিয়ে তথ্য সংগ্রহ করি।
ঘিওর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ইউসুফ আলী। কিন্তু সে তথ্য আর পাননি তিনি। ইউসুফ আলী বলেন, আবেদন করার পর বারবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি কিন্তু নানা অজুহাতে তিনি কোনো তথ্য সরবরাহ করেননি।
হরিরামপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন দৈনিক আমার সংবাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি মো. মামুন মিয়া। কিন্তু তাকে তথ্য না দিয়ে তদবির করতে থাকেন ওই কর্মকর্তারা। দেন অনৈতিক প্রস্তাব। তবে এখনো কোনো তথ্য পাননি তিনি।
এদিকে, বিভিন্ন সময় অপ্রাসঙ্গিক নানা তথ্য চেয়েও আবেদন করা হয় তথ্য কর্মকর্তা বরাবর। ফলে বিষয়গুলোতে বিরক্ত হন তারা। উদাহরণস্বরূপ একটি ঘটনা উল্লেখ করেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এবিএম আরিফুল হক। সোমবার সকালের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নদীর পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে কি-না জানতে চেয়ে আবেদন করেছেন এক ব্যক্তি। এসব বিষয় জানার জন্যও কি আবেদন করতে হয়? প্রশ্ন রাখেন এই কর্মকর্তা। তবে গত এক বছরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে মোট কতগুলো আবেদন করা হয়েছে, সে তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের জন্যই তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে। সকলের উচিত তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন করা।
এমএসএম / জামান
অতিরিক্ত বিলের নামে অর্থ আদায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএমকে আইনি নোটিশ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত
রাজারহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রমিক দিবস পালিত
তারাগঞ্জে ৪৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ-পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ
পেকুয়ার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক
নবীনগরে ধান মাড়াই মেশিনে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন
কুড়িগ্রামে মোবাইল কোর্টে ফিলিং স্টেশনকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা
ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন:স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই
তারাগঞ্জে শিকলবন্দী কিশোরীকে উদ্ধার করল প্রশাসন
মাদারীপুরে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হাফেজ নির্বাচনে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা
বিজিবির অভিযানে কুমিল্লায় কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রি-পিস জব্দ