তিন বছর আগে দুর্ঘটনা, আজও পঙ্গু:মনপুরার চালকের বেদনাদায়ক জীবন
একসময় গ্রামের এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তরে ছুঁটে বেড়াতেন রাকিব। কাজ আর পরিশ্রমই ছিলো তাঁর জীবনের লক্ষ্য। অধম্য পরিশ্রমী মানুষটি আজ শয্যাশায়িত। একটি ভ্যান গাড়ি আর জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে থাকা ছোট চৌকিতে শুয়ে থাকার মধ্যেই তাঁর জীবন সীমাবদ্ধ।
পরিবারের ভরসা রাকিব এখন প্রতিদিন লড়াই করছে বেঁচে থাকার জন্য। একটি দুর্ঘটনায় থমকে গেছে তাঁর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও সুন্দর সংসার। এখন তাঁর চোখে অসহায়ত্বের ছাপ আর মুখে নীরব কষ্ট। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে তাঁর দিন কাটছে সীমাহীন যন্ত্রণায়। তবুও বাঁচার আকুতি নিয়ে খুঁজছেন একটু সহানুভূতি ও সহযোগিতা।
অনিশ্চিত এক নবজাতকের ভবিষ্যৎ
রাকিব ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে পেশায় একজন নছিমন চালক ও অত্যান্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ।
জানা গেছে, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে নিজের নছিমন গাড়ি নিয়ে প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর নসিমন গাড়িতে ভারী গাছ তুলে বাঁধার সময় হঠাৎ হাত ফসকে দঁড়ি ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিশাল একটি গাছ আছড়ে পড়ে তাঁর পিঠে। ভেঙে যায় মেরুদণ্ড। অচল হয়ে যায় শরীরের নিচের অংশ। থেমে যায় রাকিবের দৌড়ঝাঁপ করা জীবন। চিরদিনের মতো হয়ে যান পঙ্গু।
দুর্ঘটনার তিন বছর পার হলেও এখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটছে তাঁর। উপার্জনক্ষমতা হারিয়ে সংসারে নেমে এসেছে অন্ধকার। খাবার, চিকিৎসা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিদিনের অনিশ্চয়তা তাকে ভেঙে দিচ্ছে। ছোট ছোট সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নীরবে সহ্য করছেন কষ্ট, লড়ছেন বেঁচে থাকার জন্য। সমাজের সহানুভূতি আর সহযোগিতা পেলে হয়তো এই দুই শিশুসন্তান নিয়ে তিনি আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারতেন, ফিরতে পারতেন স্বাভাবিক জীবনের পথেও।
রাকিবের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁর চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পরিবার এখন নিঃস্ব। বর্তমানে চিকিৎসা তো দূরের কথা দু’বেলা দুমুঠো খাবারের জন্য চাইতে হয় গ্রামবাসীর সহযোগীতা। পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে দিন দিন রাকিবের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। রাকিবের বেঁচে থাকা ও স্ত্রী সন্তানের মুখে দু’বেলা খাবারে জন্য সমাজের বিত্তবান ও উধার মনের মানুষদের সহযোগীতা কামনা করছেন তাঁরা।
প্রতিবেশীরা জানান, রাকিব খুবই পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। পরিশ্রম করা আয় রোজগার দিয়ে খুব সুখের সংসার ছিলো তাঁর। কিন্তু, হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় তাদের সংসারে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়। এখন তাদের দু’বেলা দুমুঠো খাবারের জন্য প্রতিদিনই যুদ্ধ করতে হয়। তাই দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁর পরিবার।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুসা সকালের সময় কে জানান , ‘ দুর্ঘটনার শিকার রাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার কাছে আবেদন করা হলে আমি তাদেরকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করব’।
রাকিব একসময় অন্যের বোঝা টানতেন, আজ তিনিই হয়ে উঠেছেন নিজের কাছেই নিজের বোঝা। তাই সরকার ও দেশের সকল মানবিক মানুষদেরকে রাকিব ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজন ও গ্রামবাসী। অসহায় রাকিবের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অথবা তাকে সহযোগিতা করতে চাইলে ফোন করুন: ০১৭৫৪৬৪৫২৮৩ (উক্ত নম্বরে নগদ/বিকাশ খোলা আছে)।
এমএসএম / এমএসএম
ধর্মীয় বক্তার পরিচয় ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পূর্বধলায় প্রতারক গ্রেপ্তার
এবারে বরিশালে শারদীয় দুর্গাউৎসবে ৬৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষার মান ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
গলাচিপায় ২০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার
পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগর গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ
ধনবাড়ীতে পৃথক অভিযানে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
টাঙ্গাইলে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
মোহনগঞ্জে শিক্ষকদের আপত্তি উপেক্ষা করে ১১ স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান রদবদলের অভিযোগ
আদমদীঘিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ টাকার আলু ১৪ টাকায়, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
গজারিয়ায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত
বছরের পর বছর অচল চালকলকে সচল দিখিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ