ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

বারহাট্টার জনপদে জেঁকে বসেছে শীত


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬-১২-২০২৫ দুপুর ৪:৪৯

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় পৌষের শুরুতেই তীব্র শীতের দাপট বিরাজ করছে বারহাট্টার জনপদে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মজীবনে পড়েছে বড় ধরনের ভাটা। গত কয়েকদিন দিন ধরে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে।

 

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরের হিমেল হাওয়ার প্রভাবে পৌষের শুরুতেই দিনের পুরোটা সময়ই ঠান্ডা অনুভূতি এবং চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢাকা। ফলে এমন পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে, দোকানপাটও নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে খোলা হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে রাস্তার পাশে সাধারণ মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখতেও দেখা গেছে। এছাড়ও বয়স্ক এবং শিশুরা মোটা কাপড় ও কম্বল জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। সকালে বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সময় শীতের কষ্টের কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

 

উপজেলা সদরের গড়মা এলাকার কৃষক তপন সরকার, হরিদাস সরকার, কাশবন এলাকার নিরঞ্জন ক্ষত্রিয়, অরুণ সরকার, সাহতা এলাকার জামাল মিয়া, হাদিস ফকির, বাউসী এলাকার জজ মিয়া, রিপন মিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, গত কয়েক দিন ধরে এত ঠান্ডা পড়েছে যে, কাজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। তবুও ফসলের কথা ভেবে মাঠে কাজে বের হতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর ঠান্ডা এবং কুয়াশা পড়ছে। এখন তো চিন্তায় আছি বেশি কুয়াশা পড়লে ধানের জমিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হবে। এ জন্য সকাল সকাল ধানের চারার উপর পড়া কুয়াশার পানিগুলো ফেলতে হচ্ছে।

 

তারা বলেন, পৌষের শুরুতেই অনেক ঠান্ডা পড়েছে, পানি হিমশীতল হয়ে থাকে, কাজ করতে খুব সমস্যা হয়। আমাদের অঞ্চলে এখনই যেভাবে ঠান্ডা পড়েতে শুরু করেছে, এইভাবে চলতে থাকলে ধানের জমির ক্ষতি হবে। এখন বরো আবাদের সময়। চারদিকে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় ধানের জমিতে কাজ করতে পারছি না আমরা। সকাল-দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে জমিতে কাজের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

 

রেলস্টেশনের প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতের তীব্রতায় ছিন্নমূল মানুষগুলোকে চরম কষ্টে দিন কাটাতে দেখা গেছে। খড়কুটো জোগাড় করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। গরম কাপড়ের অভাবে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।

 

উপজেলা সদরের কলেজ রোড এলাকায় সকালে হাটতে বের হওয়া সরকারি কর্মকর্তা জুয়েল রানা, তোফাজ্জল হোসেনের ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও কালের কন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, দিনের বেলায় গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবহাওয়ার রূপ পাল্টাতে থাকে। কুয়াশার সাথে সাথে কিছুটা শীত অনুভুত হয়। রাতে বিছানায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কম্বল বা লেপ গায়ে জড়াতে হয়।

 

ঘন কুয়াশায় বিপাকে পড়েছেন ট্রাক, বাস, পিক-আপ চালকরা তারা জানান, ঘন কুয়াশা ভেদ করে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঠান্ডার মধ্যে গাড়ি চালাতে কষ্ট হয়, কয়েকদিন ধরে এত কুয়াশা পড়ছে যে, লাইট জ্বালিয়েও সামনে কিছু দেখা যায় না। কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করেই ঠান্ডা পড়েছে, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।

 

কাশবন এলাকার অটোরিকশা চালক আব্দুল করিম ও গোপালপুর এলাকার রিকশা চালক মৌজ আলী বলেন, আমরা গরিব মানুষ গাড়ি চালিয়ে রোজগার করি, এখন ঠান্ডার মধ্যে গাড়ি চালাতে কষ্ট হচ্ছে, আবার যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তা-ঘাটে মানুষ কম থাকায় আমরা যাত্রী কম পাচ্ছি। ভাড়া না পেলে খাওয়াও জুটে না।

 

সাহতা এলাকার ৭৫ বছর বয়সী নিঃসন্তান আমেনা বেগম বলেন, 'সকালে ও রাতে ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। আগের চেয়ে এখন ঠান্ডা অনেক বেশি। আমাদের কেউ এখনো একটা কম্বল দেয় নাই। যারা আগে কম্বল পাইছে, তারাই এখনও পাইতাছে। আমার তো কেউ নাই তাই আমার কপালে আর জুটবে না।'

 

বাউসী এলাকার ষাটোর্ধ্ব বয়সী জুলেখা বেগম বলেন, 'অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ওষুধ কিনব নাকি কম্বল কিনব কিছুই বুঝি না। বয়স্ক ভাতার টাকায় সংসার চলে না। ছেলে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। মানুষের সাহায্যে কোনোমতে দিন চলে। সরকার যদি এই শীতে আমাদের মত অসহায় মানুষদের শীত থেকে রক্ষা পেতে কিছু কম্বল দিতেন তাহলে খুব উপকার হতো।'

 

বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাঝে দেখা যায় জ্বর, সর্দি-কাশি। তাই এসময় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে যাতে শিশুদেরকে শীতের হিমেল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

এমএসএম / এমএসএম

শরণখোলায় বজ্রপাতে ৪ গরুর মৃত্যু

শেরপুরে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা ️ অনুষ্ঠিত

রায়গঞ্জে চালক হত্যায় অটোরিকশাসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় পানিতে বসে এসএসসি পরীক্ষা, পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

মরণফাঁদে পরিণত পাঁচুড়িয়া খাল: দেখার কি কেউ নেই..?

বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা

লাকসামে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬ অনুষ্ঠিত

টুঙ্গিপাড়ায় ভেজালমুক্ত খাদ্যের দাবিতে র‍্যালি-মানববন্ধন

নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশী অস্ত্রসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার-মিটার ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো গ্রাহক

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার

গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত