ঢাকা শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আদ্রীকা এ্যানি


বিনোদন ডেস্ক photo বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২-১-২০২৬ রাত ৯:৩৯

বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত মুখ হলেও আদ্রীকা এ্যানি আজ নিজেকে শুধুই দেশীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আন্তর্জাতিক মানের এই মডেল ও অভিনেত্রী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও গড়ে তুলেছেন নিজের শক্ত অবস্থান। কাজের বৈচিত্র্য, আত্মবিশ্বাস আর দূরদর্শী স্বপ্নই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

২০০৯ সালে ক্লাস নাইন-এ পড়াকালীন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির একটি ফটোশুটের মাধ্যমে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেন আদ্রীকা এ্যানি। অল্প বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সেই অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে আসে পেশাদার মডেলিং ও অভিনয়ের জগতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক মানের একজন শিল্পী হিসেবে।

ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত তিনি ২০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কাজ করেছেন অসংখ্য মিউজিক ভিডিওতে। তার কাজের ভৌগোলিক পরিধিও বেশ বিস্তৃত—পাকিস্তান, ইউরোপীয়ান দেশগুলো, আফ্রিকা ও ভারতের বিভিন্ন প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি, যা তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করে তুলেছে। এর পাশাপাশি তার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি সিনেমার কাজ।

দেশ ও বিদেশের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে শোবিজের বাস্তবতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন আদ্রীকা এ্যানি। তার মতে, দেশে অনেক ক্ষেত্রেই কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না, বরং লবিং ও বডি শেমিংয়ের মতো বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। এ কারণেই তিনি নতুনদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেন—মিডিয়ায় আসার আগে অবশ্যই নিজেকে গ্রুমিং করে প্রস্তুত করতে হবে এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।

শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, একজন ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা হিসেবেও স্বপ্ন দেখেন আদ্রীকা এ্যানি। ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য একটি প্রোডাকশন হাউজ গড়ে তোলার ইচ্ছা তার, যেখানে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী ও নতুন শিল্পীরা কন্ডিশন ছাড়াই কাজের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সিনেমা প্রযোজনাতেও যুক্ত হতে চান তিনি।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা স্পষ্ট—কাজকে ভালোবাসতে হবে, কন্টিটির পেছনে না ছুটে কোয়ালিটির দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

স্বপ্ন, সাহস ও দায়িত্ববোধ—এই তিনের সমন্বয়েই আদ্রীকা এ্যানি এগিয়ে যেতে চান আরও বহুদূর, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও সুযোগের দুয়ার খুলে দিতে।

এমএসএম / এমএসএম