ঢাকা শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

নাটোর- ৩ (সিংড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটে জামায়াতের শক্ত অবস্থান


এস এম লিটন আহমেদ সিংড়া, নাটোর photo এস এম লিটন আহমেদ সিংড়া, নাটোর
প্রকাশিত: ৮-১-২০২৬ বিকাল ৫:২৮

নাটোর- ৩ সিংড়া আসনটির নির্বাচন জমে উঠছে। চায়ের টেবিলে চলছে চুলছেরা বিশ্লেষণ। বিএনপির বিদ্রোহে জামায়াতের স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাছাড়া বিগত দেড় বছর ধরে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রফেসর সাইদুর রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। ৬ মাসে জামায়াতের সমর্থক বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার।  প্রতিটি ইউনিয়নে গণসংযোগ, শোভাযাত্রা, কর্মী সমাবেশ, উঠান বৈঠক করে জনগণের মাঝে ঠাঁয় করে নিয়েছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ১১ দলের মধ্যে আসনে জামায়াতের অবস্থান শক্ত এবং সুসংগঠিত। 

নাটোর-৩ আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালে জুনাইদ আহমেদ পলকের আগে আওয়ামী লীগ থেকে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারেননি। ১৯৯১ সালে এখানে জামায়াতে ইসলামী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবু বকর শেরকোলী। ১৯৯৫ সালে তিনি মারা গেলে উপ-নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির কাজী গোলাম মোর্শেদ। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনিই বিজয়ী হন। বিএনপির বিদ্রোহ প্রার্থী থাকায় জামায়াতের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে। অনেকে মনে করছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাদের ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। যার সুফল পাবে জামায়াত। এছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কিছু ভোট দাঁড়িপাল্লা মার্কায় যেতে পারে। এই হিসেবে যদি ভোট হয় তাহলে বিএনপির হারানো সিংড়ার আসটি উদ্ধার করা কঠিন হবে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এই উপজেলায় ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১ টি পৌরসভা রয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৩ শত ৫৬ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬১ হাজার ২ শত ৫৫ জন, এবং পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৯৭ জন এছাড়া হিজড়া ভোটার ৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১ শত ১৮ টি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২৪ টি এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১ টি। ভোটকক্ষ রয়েছে ৬ শত ৩১ টি। এরমধ্যে নারী ভোটকক্ষ ৩ শত ৩৬ টি এবং পুরুষ ভোটকক্ষ ২ শত ৯৫ টি। প্রিজাইডিং অফিসার রয়েছেন ১৩০ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার রয়েছেন ৬৯৪ জন। এবং পোলিং অফিসার রয়েছেন ১৩৮৮ জন


মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেও দাখিল এবং জমা দেয় ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। 
বর্তমানে যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। তারা হলেন,  বিএনপি মনোনীত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু, জামায়াত মনোনীত জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং সিংড়া উপজেলার প্রাক্তন কেয়ারটেকার প্রফেসর সাইদুর রহমান, সতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক দাউদার মাহমুদ, জাতীয় পাটির আশীক ইকবাল, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের জেলা সহ সভাপতি মওলানা খলিলুর রহমান, এনসিপির জেলা সমন্বয়ক জার্জিস কাদির বাবু, খেলাফত মজলিসের মাওলানা রুহুল আমিন টিংকু। 

ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে কথা বললে তারা অভিমত প্রকাশ করে জানান,  এ আসনে মানুষের মুখে মুখে দাঁড়িপাল্লার গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।  আসনটি পুনরুদ্ধারে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রফেসর সাইদুর রহমান বিগত দেড় বছর ধরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতের নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভবনা আসন এটি। ইতিমধ্যে তিনি সৎ, সজ্জন এবং নির্ভীক মানুষ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন   ২০১৮ সালের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দাউদার মাহমুদ থাকায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর অবস্থান অনেক ভালো।৷ এদিকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু মাঠ গোছাতে তৎপর। আসনটি পুনরুদ্ধারে তিনিও ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

এদিকে এ আসনে ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এনসিপির সীমিত কার্যক্রম দেখা গেলেও অন্য কোনো দলের কার্যক্রম চোখে পড়ে না।  সাংগঠনিক দিক থেকে এখানে এনসিপির অবস্থান খুবই নাজুক। দলীয় কার্যক্রম নিতান্ত সীমিত। 

হঠাৎ করেই এনসিপির ৩০ জনের আসন তালিকায় নাটোর-৩ আসনে জার্জিস কাদির বাবুর নাম আসায় তৃনমুলে হতাশা দেখা দিয়েছে,  সাধারন ভোটারদের  মাঝে ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাকে প্রার্থী করলে এখানে ইসলামপন্থির বড় ভোট ব্যাংক হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। 

একাধিক সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে এনসিপির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নাই। আলোচনা ও নাই। তাছাড়া জার্জিস কাদিরকে কেউ চিনে না।  এলাকার মানুষের সাথেও তার সম্পৃক্ততা নাই। 

এনসিপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, জার্জিস কাদির বাবু এলাকায় কোনো গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারেননি। সম্প্রতি আহবায়ক কমিটি হলেও কেউ কাউকে চিনে না।  
পরিচিতি অনুষ্ঠান ও হয়নি। এখানে একটা মিছিল ও করতে সক্ষম হয়নি। সংগঠন যেখানে দুর্বল সেখানে অচেনা, অজানা মানুষকে দিলে জোটের পরাজয় নিশ্চিত  হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

জামায়াতের স্থানীয় এক দায়িত্বশীল জানান, আমরা আশা করি ৯১ সালের জামায়াতের বিজয়ী আসন জোট ছাড়বে না। কারন এখানে গত ৬ মাসে আমাদের প্রায় ৪০ হাজার সমর্থক বেড়েছে। গ্রামে গ্রামে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।   তাছাড়া এ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রফেসর সাইদুর রহমান একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ মানুষ। তার ইমেজ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে দাঁড়িপাল্লার বিপরীতে যে কাউকে দিলে পরাজয় নিশ্চিত।

এমএসএম / এমএসএম

আন্ধারিঝার ইউনিয়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সনদ দিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন নাঃ আইনজীবী

কোম্পানীগঞ্জে এতিমখানা মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও হাফেজদের পাগড়ি প্রদান

আল্লাহর মহান আওলিয়াগনের জীবনী তুলে ধরতে ইমাম শেরে বাংলা (রহঃ) সুন্নী কনফারেন্স

নাটোর- ৩ (সিংড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটে জামায়াতের শক্ত অবস্থান

রৌমারীতে তিন দিন পর পুকুর থেকে বৃদ্ধনারীর লাশ উদ্ধার

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘আলমগীর ফর টুমোরো’ ওয়েবসাইট উদ্বোধন

মুকসুদপুরে ২দিনব্যাপী জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে কার মাইক্রো-হাইচ শ্রমিক সমবায় সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

ত্রিশালে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে বন্য হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু