সুনামগঞ্জে গৃহবধূ সুমি দাশের আত্মহত্যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর, স্বামী কারাগারে
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় গৃহবধূ সুমি দাশ চৌধুরীর আত্মহত্যা এখন হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। মেয়ে পক্ষের মামলায় ফেঁসে গেছেন শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রোজ বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালি এলাকায়। ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে গৃহবধূর শাশুড়ি ভাড়াটিয়া বাসার ছাদের ওপর থেকে শুকানো জামাকাপড় আনতে বিল্ডিংয়ের ছাদে যান। সেখান থেকে রুমে এসে দেখেন পুত্রবধূ সুমি দাশ তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। তখন শাশুড়ি সুমি দাশকে ডাকতে শুরু করেন। কোনো উত্তর না পেয়ে দরজা খুলে দেখেন সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় কাপড় লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় সুমি দাশ। চিৎকার চেঁচামেচি করে শাশুড়ি ও পাশের ঘরের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাপড় কেটে নামিয়ে হাসপাতালে বাঁচানোর জন্য নিয়ে আসা হলে ডাক্তার সুমি দাশকে মৃত ঘোষণা করেন। এমনটি জানা যায় সুমি দাশের শাশুড়ি ও আশপাশের মানুষের কাছ থেকে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সুমি দাশের শ্বশুর ও স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজনেরা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের চারপাশ। কেন সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সুমি দাশ? এটা কি গৃহবধূ সুমি দাশের অভিমান ছিল? কার সাথে অভিমান করে অনার্স পড়ুয়া গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন? নাকি অন্য কিছু? এই অন্য কিছুটাই কী? এমন প্রশ্নের জন্যই সমাজে তৈরি হয় নানান প্রতিক্রিয়া। এমন ঘটনা ঘটলে কেউবা বলেন আত্মহত্যা, আবার অনেকে বলেন হত্যা। আর এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কাজ করে প্রশাসন।
গৃহবধূ সুমি দাশের এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তেমনটি। শ্বশুরবাড়ির লোকদের দাবি সুমি দাশ আত্মহত্যা করেছেন; অন্যদিকে মৃত সুমি দাশের বাড়ির স্বজনদের দাবি গৃহবধূ সুমি দাশকে হত্যা করা হয়েছে। সুমি দাশের এই মৃত্যু এখন মোড় নিল অন্যদিকে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার আগেই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণাকে পাল্টে দিয়ে অপমৃত্যু মামলার পরিবর্তে সুমি দাশের স্বজনদের আর্তনাদের দাবিতে ৮ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৯, তারিখ- ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬; জি আর নং-৯, ধারা- ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি (The Penal Code, 1860)। নিহতের নাম- সুমি দাশ চৌধুরী (২১), মামলার বাদী হলেন নিহত সুমি দাশের মা বাবলী রানী চৌধুরী (৫০)। আসামিরা হলেন— মৃত সুমি দাশের স্বামী ১নং আসামি কিশাল শেখর দাস (২৪), যাকে দেখা গেছে সুমি দাশের মৃত্যুর পর হাসপাতালে ‘সুমি সুমি’ করে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে দুবার হাসপাতালে অসুস্থ হতে এবং ৭ জানুয়ারি রাতে পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে থানায় নিজ ইচ্ছায় ছুটে যেতে। তিনি যদি হত্যা করতেন তাহলে পালিয়ে গেলেন না কেন— এমন প্রশ্নও অনেকের মুখে। ২নং আসামি হলেন মৃত সুমি দাশের শাশুড়ি রিপা (৫০), যিনি বলছেন আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে সুমি দাশকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি কেন তার আদরের পুত্রবধূকে হত্যা করবেন? তবে মাঝে মধ্যে কিশাল দাস এবং সুমি দাসের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হলে শ্বশুর-শাশুড়ি ছেলেকেই শাসন করতেন বলে জানা গেছে। ৩নং আসামি হলেন সুমি দাশের শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাস, যিনি মোহনা টিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি একজন সাংবাদিক, সারাদিন সুনামগঞ্জ পৌর মার্কেটে তার অফিসে নিউজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসেই ছিলেন সারাদিন। ছেলের বউ আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে বাসায় না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সহকর্মী সকল সাংবাদিকদেরসহ থানা পুলিশকে অবগত করেন। যিনি সারাদিন বাসায় ছিলেন না তাকেও হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মৃত সুমি দাশের ভাই মিল্টন চৌধুরী দাবি করেন, তার বোন সুমি দাশকে হত্যা করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তিনি বলেন, ১ বছরও হয়নি সুমি এবং কিশাল একজন আরেকজনকে পছন্দ করে বিয়ে হয়েছে। বিবাহের পর প্রায় সময় সুমি দাশের স্বামী কিশাল শেখর সুমিকে মারধর করত। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাস আগে মারধরের কারণে সুমি দাশকে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং নবীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা করান। গত দুই মাস আগে মিল্টন চৌধুরীর বাড়িতে সুমির শ্বশুর-শাশুড়ি সুমিকে আনতে নবীগঞ্জ দত্ত গ্রামে যান এবং বুঝিয়ে সুঝিয়ে সুনামগঞ্জ শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন। মিল্টন আরও বলেন, দুই মাস যেতে না যেতেই ৭ জানুয়ারি সুমির শ্বশুর আমাদের ফোন করে জানান সুমি আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে আমার বোন সুমি দাশের মরদেহ দেখতে পাই এবং ময়নাতদন্ত শেষে ৮ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করি। আমার বোন সুমি দাশের মরদেহ আমাদের নিজ বাড়ি নবীগঞ্জের দত্ত গ্রামে এনে চিতায় না দিয়ে তার লাশ সমাধি করা হয়েছে। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মৃত্যুর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মেয়ে পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে, মৃতের স্বামী অভিযুক্ত কিশালকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলেই মৃত সুমি দাশের মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।
এমএসএম / এমএসএম
কক্সবাজার সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান
মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার; ১ অপহরণকারী আটক
কালকিনিতে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মোল্লারহাট ফাযিল মাদরাসা
লামায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
নেত্রকোনায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম
কুড়িগ্রামে আহত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ময়ূর উদ্ধার
রায়গঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সচেতনতায় উঠান বৈঠক
রৌমারীতে ইমারত নির্মান শ্রমিকের নব নির্মিত অফিস শুভ উদ্বোধন
বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সহ ১২ সদস্যর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ
বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের বিবৃতি
ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার ঘোষণা আবু সুফিয়ানের
সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়