ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়


চট্টগ্রাম অফিস photo চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: ১১-১-২০২৬ বিকাল ৫:২৯

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল মৃধা এবং তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা মুনমুন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) সহকারী ব্যবস্থাপক পদে কোন ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ও আবেদন ছাড়াই সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ২০১১ সালে অবৈধভাবে চাকরি পান। বিতর্কিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল মৃধা ও অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্কৃত কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিয়ামুল কবিরকে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় পুরো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বলে সূত্র জানায়। 

সোহেল মৃধা ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ফাইল পর্যন্ত অফিস থেকে রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। কর্ণফুলী গ্যাসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বিতর্কিত সোহেল মৃধা ও নিয়ামুল কবির অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি তারা অবৈধ গ্যাস সংযোগ, গ্যাস চুরি ও বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের দিকে সীতাকুন্ডে ইলিয়াস সিএনজি পাম্পে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মামলা দায়ের করেন। সোহেল মৃধার সহযোগিতায় এবং তৎকালিন পেট্রোবাংলার পরিচালক ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান এবং কেজিডিসিএল এর তৎকালিন ব্যবস্থপনা পরিচালক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের  যোগসাজশে দুই কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এমন বিতর্কিত ব্যক্তি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল মৃধা ও  বরখাস্তকৃত মুহাম্মদ নিয়ামুল কবিরকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ব্যবস্থাপক (সাধারণ শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক (সাধারণ) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কবির উদ্দীন আহম্মদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশকে কেন্দ্র করে পুরো কোম্পানিতে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এমন পদোন্নতিতে অফিস স্টাফরা বিব্রত বলে জানা গেছে।
একইভাবে মুহাম্মদ নিয়ামুল কবিরকে উপ-ব্যবস্থাপক (কারিগরি) পদ থেকে ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর তাকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে তিনি চাকরি ফিরে পান। সরকারি বিধি অনুযায়ী কোম্পানির পক্ষ থেকে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে দায়ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মদ খানের  যোগসাজশে আপিল করা হয়নি। মহাব্যবস্থাপক (রাজস্ব-উত্তর) ফরিদ আহমদ খানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফরিদ আহমদ খানের স্ত্রী কেজিডিসিএলের আইন উপদেষ্টা শামিমা ফেরদৌস মিলির সঙ্গে যোগসাজশে নিয়ামুল কবিরের বিরুদ্ধে আপীল না করে উল্টো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেন। বরখাস্তকালীন সময়ের বেতন-ভাতা পাইয়ে দিতে অবৈধভাবে সহযোগিতা করে স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রায় এক কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে নিয়ামুল কবির প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের মালিক বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. সোহেল মৃধা বলেন, “আমি জীবনে কখনো ছাত্রলীগ করিনি। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম এমন কোনো ডকুমেন্ট থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে আমাকে চট্টগ্রামের একটি স্কুলের সভাপতি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকজনকে কি কেউ সভাপতি বানাবে? এসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি পাওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে মুহাম্মদ নিয়ামুল কবির বলেন, “আমাকে অবৈধভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে চাকরি ফিরে পাই এবং কোম্পানিকে আমার যাবতীয় পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা না করা কোম্পানির বিষয়। আমি বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমাকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার পদোন্নতি আমার আইনগত অধিকার। পদোন্নতির পর একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে।”
নিয়ামুল কবিরের বিষয়ে জানতে তৎকালীন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মহাব্যবস্থাপক (রাজস্ব-উত্তর) ফরিদ আহমদ খানের স্ত্রী শামিমা ফেরদৌস মিলির বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানান এবং সুস্থ হলে অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কবির উদ্দীন আহম্মদ বলেন, “দেশে কোনো ব্যক্তি পরীক্ষা ছাড়া চাকরি পাওয়ার সুযোগ নেই। সোহেল মৃধা ও তার স্ত্রীর ফাইল অফিসে সংরক্ষিত আছে। সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এমএসএম / এমএসএম

কক্সবাজার সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান

মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার; ১ অপহরণকারী আটক

কালকিনিতে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মোল্লারহাট ফাযিল মাদরাসা

লামায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

নেত্রকোনায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম

কুড়িগ্রামে আহত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ময়ূর উদ্ধার

রায়গঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সচেতনতায় উঠান বৈঠক

রৌমারীতে ইমারত নির্মান শ্রমিকের নব নির্মিত অফিস শুভ উদ্বোধন

বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সহ ১২ সদস্যর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ

বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের বিবৃতি

ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার ঘোষণা আবু সুফিয়ানের

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়

শালিখার দুঃস্ত মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ