কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার পুলিশ, স্থানীয় জনগণের সহায়তায়, সম্প্রতি একাধিক হত্যা মামলার আসামি জামিরুল ইসলাম জামু (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে। জামু দীর্ঘদিন ধরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।
জামিরুল ইসলাম জামু উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের শীতলাইপাড়া গ্রামের আবু আফফানের বড় ছেলে। তিনি ২০০৫ সালে তার আপন চাচীকে হত্যার দায়ে মেহেরপুর গাংনী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। এরপর থেকেই জামি পলাতক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১২:৩০ মিনিটের দিকে জামিরুল ইসলাম জামু তার সহযোগীদের নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে তারিকুল হোসেন (৩০) কে অপহরণের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় জনগণ তাদের ধাওয়া করলে জামিরুল জামু ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়, তবে জামু গ্রেপ্তার হয়ে যায়।
তারিকুল হোসেন জানান, ‘‘আমাকে অপহরণ করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে, এরপর আমি বাঁশঝাড়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখি এবং স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে জামিরুল ইসলাম জামুকে ধরে ফেলে পুলিশে খবর দেয়।’’
জামু গ্রুপের অপরাধমূলক কার্যকলাপ:
জামিরুল ইসলাম জামু এবং তার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে শীতলাইপাড়া গ্রামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে, যার মধ্যে একাধিক হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, চুরি এবং অপহরণ অন্তর্ভুক্ত। দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম পারভেজ রতন বলেন, ‘‘এই জামিরুল ইসলাম জামু গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে ছিল।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘‘এই গ্রুপের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা উচিত।’ স্থানীয় বাসিন্দা আকরামুল হক বলেন, ‘‘জামিরুল ইসলাম জামু সহ তার গ্রুপের সদস্যরা একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, এবং তারা নিরীহ লোকজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেছে।’’
এছাড়া সাবেক ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন জানান, ‘‘জামিরুল ইসলাম জামু একটি সিরিয়াল কিলার। অর্থের বিনিময়ে সে যে কোন অপরাধ করতে প্রস্তুত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে জামু এবং তার গ্রুপ লুটপাট ও হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল।’’
অভিযুক্ত তুহিন, যিনি জামিরুল ইসলাম জামুর সাথে সম্পর্কিত হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, দাবি করেছেন যে তার এবং জামু পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি গত ৬-৭ বছরে জামিরুল ইসলাম জামুর সাথে একটিও কথা বলেননি। তিনি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে নিজের পরিবারকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ: দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, ‘‘স্থানীয়দের সহায়তায়, জামিরুল ইসলাম জামুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’’
জামিরুল ইসলাম জামু এবং তার গ্রুপের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী এখন একত্রিত হয়ে আইনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে দৌলতপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা করছেন তারা।
এমএসএম / এমএসএম
ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত