ঢাকা বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

বারহাট্টায় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি


বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি photo বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৮-১-২০২৬ দুপুর ১:২৫

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় বারহাট্টার কৃষকের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় উপজেলা জুড়ে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সরিষা চাষ। আমন ও বোরো দুইটি ফসলের মাঝা মাঝি সময়টাতে কৃষকরা সরিষা চাষের ফলনকে বোনাস হিসেবে দেখছেন। আগে কৃষকরা আমন ধান কাটার পর জমি পতিত ফেলে রাখতেন। সময়ের সাথে সাথে তা পুরোটাই পাল্টে গেছে। আমন ধান কাটার পর একই জমিতে সরিষা লাগাতে হয়। যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারেন। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের সমারোহ শেষে মাঘ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাছের ফুল ঝড়ে গাছে গাছে ঝুলছে সরিষার বীজ। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। ফলে লাভের আশায় কৃষকদের চোখে-মুখে এখন হাসির ঝিলিক। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শে এ বছর সরিষার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা সদরের গড়মা গ্রামের সরিষা চাষী তপন সরকার, মাজেদ মিয়া, কাশবন গ্রামের চাষী অরুণ সরকার, জলিল খাঁন, চিরাম ইউনিয়নের খৈকোনা গ্রামের চাষী জীবন মিয়া, শহীদুল ইসলাম, বাউসী ইউনিয়নের আথানগর গ্রামের চাষী লাক মিয়া, সুবল সরকারসহ কয়েকজন সরিষা চাষীর সাথে কাথা বললে তারা বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার দ্বিগুন জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন তারা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে ছিল এবং রোগবালাইও কম হয়েছে। রোগবালাই আক্রমণের আগেই কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা আগাম ছত্রাক নাশক স্প্রে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত তেমন কোন রোগবালাই চোখে পরেনি। গত বছরও সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার বারি- ১৪ জাতের সরিষা চাষ করেছেন বেশিরভাগ এলাকার কৃষক। সময়মতো সার, সেচ ও ছত্রাক নাশক ব্যবহারের ফলে এবারও ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
তারা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে। প্রতি বিঘাতে গড়ে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা লাভ করা যায়। কম সময়ে, কম খরচে বেশী লাভ হয়, সরিষা ঘরে তোলার পরে বোরর আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭ ও বারি-১৮ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে।
সিংধা ইউনিয়নের নূরুল্লার চড় এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, এবার তিনি দেড়বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত জমিতে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। বরং সুন্দর আর স্বাস্থ্যবান বীজের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। এতে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারবেন।
রায়পুর ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছিলাম। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করছি। এবার সরিষার আবাদ আরও ভালো হয়েছে। ভাবছি এইবার লাভও বেশি পাবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা জানান, সরিষা একটি লাভজনক ও স্বল্পমেয়াদি ফসল। আমাদের পরামর্শ ও উৎসাহের ফলে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষের আগ্রহ বাড়ছে এবং আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছি। যে জমিতে সরিষা বপন করা হয় সেই জমিতে সবুজ সার তৈরি হয় এবং সরিষার শিকড়ে নাইট্রোজেন থাকায় পরবর্তী চাষে ইউরিয়া সার কম লাগে। এতে করে পরবর্তী ফসলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কম লাগে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। গত বারের মতো এবারও কৃষকরা ভালো ফলন আর ন্যায্য মূল্য পেয়ে লাভবান হতে পারবে। ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Aminur / Aminur

অরহর কালাই: গ্রামীণ জমিতে লুকিয়ে থাকা ঔষধি ও কৃষি সম্ভাবনা

ভোট ডাকাতি হতে দেবে না জনগণ: তারেক রহমান

নন্দীগ্রামে ট্রাক ও মটরসাইকেলের মুখোমূখী সংঘর্ষে নিহত ২

নোয়াখালীতে সেবনকালে দুই মাদক সেবীকে কারাদন্ড

নির্বাচনকে ঘিরে মনপুরায় যৌথ বাহিনীর পেট্রোল টহল জোরদার

শেরপুরে জমিদারের প্রশাসনিক ভবন এখন জ্ঞান চর্চার লাইব্রেরী

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকৃত কোটি টাকার কাঠ পাচারের অভিযোগ

বারহাট্টায় সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকসুদপুরের বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন

চরাঞ্চলের ৩৯ ভোট কেন্দ্রে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে কোস্টগার্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্র-কার্তুজ উদ্ধার

তানোরে এসিল্যান্ডের উপরে হামলার চেষ্টা! আটক ৩

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন - আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া