ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

অরহর কালাই: গ্রামীণ জমিতে লুকিয়ে থাকা ঔষধি ও কৃষি সম্ভাবনা


এম রাসেল আহমেদ, ক্ষেতলাল photo এম রাসেল আহমেদ, ক্ষেতলাল
প্রকাশিত: ২৮-১-২০২৬ দুপুর ১:৫১

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের উত্তর টাউসারা গ্রামে দেখা মিলেছে এক বিশেষ ঔষধি উদ্ভিদের—অরহর কালাই। স্থানীয়ভাবে এটি টাকুর কালাই বা গাছ কালাই নামেও পরিচিত। হলুদ ফুলে ঝলমল করা এই গাছটি শুধু গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অরহর কালাইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম Crotalaria pallida। এটি ডালজাতীয় উদ্ভিদ পরিবারের (Fabaceae) অন্তর্ভুক্ত। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উদ্ভিদটির আদি উৎপত্তি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এটি ভারত হয়ে বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করে এবং বর্তমানে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে ভালোভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এ উদ্ভিদ। ডালজাতীয় উদ্ভিদ হওয়ায় অরহর কালাইয়ের শিকড়ে নাইট্রোজেন স্থিরীকরণকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা মাটিতে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন যোগ করে। ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ধান বা অন্যান্য ফসল চাষের আগে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে। পাশাপাশি এটি আগাছা দমন, মাটি ক্ষয় রোধ এবং মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ আকর্ষণে সহায়ক।
এটি লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভেষজ।  লোকজ চিকিৎসকদের মতে, অরহর কালাইয়ের পাতা, শুঁটি ও বীজ বিভিন্ন রোগে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে যা, হজমের সমস্যা ও গ্যাস দূর করে, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের উপসর্গ উপশমে
হালকা জ্বর ও প্রদাহ কমাতে, ত্বকের চুলকানি  ও ক্ষতে এর পাতার প্রলেপ উপকারী। 
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব ব্যবহার মূলত লোকজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় প্রচলিত; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার না করাই উত্তম।
বাংলাদেশে অরহর কালাইয়ের বাণিজ্যিক চাষ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলার চরাঞ্চল, অনাবাদি জমি ও রাস্তার পাশের আইলে এই গাছ স্বাভাবিকভাবে বেশি জন্মায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত গবেষণা ও কৃষি বিভাগের উদ্যোগ থাকলে এটি ভেষজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব কৃষির একটি সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) সাদিয়া সুলতানা বলেন, “অরহর কালাই মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং সবুজ সার হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর। অল্প খরচে পরিত্যক্ত জমি বা উঁচু জমির আইলে চাষ করে ডালের চাহিদা পূরণেও এটি সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এর ভেষজ গুরুত্ব নিয়েও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।”
স্থানীয়দের ইতিবাচক মতামত
ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর টাউসারা গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই গাছ দেখে আসছি। আগে জানতাম না এর এত উপকার। এখন বুঝছি এটি মাটির জন্য ভালো, আবার ওষুধি গুণও আছে। এ বছর রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে, গাছে অনেক ফুল এসেছে—ফলন ভালো হবে আশানুরূপ। 
গ্রামীণ পথের ধারে অবহেলায় বেড়ে ওঠা অরহর কালাই কেবল একটি গাছ নয়—এটি এক বহুমুখী সম্ভাবনার উদ্ভিদ। সঠিক গবেষণা, সচেতনতা ও পরিকল্পিত চাষের মাধ্যমে এই গাছ কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

Aminur / Aminur

গোদাগাড়ীতে ফুড ফর দ্য হাঙ্গেরির উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন, বই পড়া ও রচনা লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মুকসুদপুরে ভূমি মেলা ২০২৬ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

টাকা দিলে ওষুধ, না দিলে ফেরত: সাতানি কমিউনিটি ক্লিনিকের অনিয়ম

পেকুয়ায় জমির মাটি লুট করে বিক্রি করলেন তাঁতীদল নেতা

বন্ধন লায়ন্স ক্লাবের নতুন সভাপতি তাহের, সম্পাদক তারেক

আত্রাইয়ে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী 'পার্টনার কংগ্রেস' অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদন্ড

সাংবাদিক জিলানীর ওপর হামলার প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

রাণীশংকৈলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কলহের জেরে জামাই'র আত্মহত্যা

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন চৌগাছার জাফর ইকবাল

মুকসুদপুরে নতুন সহকারী কমিশনার হিসেবে আবিরুল ইসলামের যোগদান

ডাসারে কৃষকের ধান কেটে নেয়ার চেষ্টা: এলাকায় উত্তেজনা