ভোট যুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত
যশোর-৬ হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত
যশোর-৬ কেশবপুর আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পরপরই কেশবপুরের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ প্রত্যেকটি এলাকার হাট বাজারের চায়ের টেবিলে, মাঠে ঘাটে রাস্তায় চলার পথে চলছে ভোটের চুল চেরা বিশ্লেষণ। কে হচ্ছেন আগামী দিনের কেশবপুরের জনগণের সেবক।
প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও গণভোট। আর মাত্র ১০ দিন বাকী। প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও কর্মিসভার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাঠের ভোট রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ চলছে। দীর্ঘদিনের সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াত তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর রয়েছে। এ আসনে জয়ের ব্যাপারে দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলী নিচ্ছেন। দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে যে প্রার্থী সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তিনিই এগিয়ে যাবেন। সেই বাস্তবতাকে কাজে লাগাতে প্রার্থীরা কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পযন্ত ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শহর থেকে গ্রামের মাঠ প্রান্তে হাট বাজারে চলছে ভোট প্রার্থনা ও আলোচনা। এবারের জাতীয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূণ। নারী ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রার্থীদের নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। এ আসনে জয়-পরাজয় নিধারিত হবে ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানে যে যার পক্ষে ভোটের পাল্লা ভারী করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নারী ভোটারদের কদর একটু বেশি। যদিও তাদের স্বামীদের কথার উপর নিভর করে তাদের ভোট দিতে হয়। এবার নারীদের নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিলেও স্থানীয় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নারীদের নিয়ে তাদের উন্নয়নে নেই কোন আলাদা চিন্তা ভাবনা।
এই আসনটিতে নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল)।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ আবুল হোসেন আজাদ তিনি কয়েকবার আসনটিতে বিএনপি দলীয় মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। দলীয় নেতা কর্মীদের সাংগঠনিক কাজে টিকিয়ে রাখতে বিগত আওয়ামী সরকারের আমি ডামি নির্বাচনেও দলীয় মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও এবার
জনগণের সমর্থন আশাবাদী। তবে দলের ভিতরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়তে পারে দলীয় সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে।
দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকই বলেন, কিছু দিন আগে একজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিলেন তাঁর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করার পর আরেকজনকে দিয়েছে এতে দলের বিভক্তি ও বৈষম্য করা হয়েছে। যার ফলে দলীয় ভোট অনেকাংশে কম হবে।
বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী তিনি দলীয় মনোনীত হয়ে একাধিকবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তবে বর্তমান জনসমর্থনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম হাসান তিনিও আমি ডামি নির্বাচনকে বৈধতা দিতে দলীয় মনোনীত হয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে জামানত হারান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) মনোনীত ঈগল পাখি মার্কার ব্যারিস্টার মাহমুদ হাসান তিনি নতুন একটি দলের দলীয় মনোনীত হয়ে প্রথম বারের মতো নির্বাচন করছেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী শহিদুল ইসলামসহ ৫ জন প্রার্থী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেও ভোটের লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। তবে এলাকায় যার যার অবস্থান ধরে রাখতে সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দিন রাত ছুটে চলেছেন উপজেলা ব্যাপী।
ভোট প্রার্থনা করতে গেলে ভোটারদের আবেদন ও অভিযোগ মাথায় নিয়ে ভোট পরবর্তী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শান্তনামাত্র। কারণ অতীতেও যে সকল প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি।
উপজেলায় জলাবদ্ধতা একটি বিশেষ কারণ অপরিকল্পিত মাছের ঘের। যার ফলে বৃষ্টির মৌসুমে অতিবৃষ্টির পানি বদ্ধ হয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগে সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনটি গঠিত। উপজেলার ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৮১ টি, মোট ভোটার সংখ্যা ২,২৯,১৬৩ জন, পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,১৫,২৪৪ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১,১৩,৯১৭জন ও তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে সংসদীয় আসন যশোর-৬ গঠিত হলে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হন গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। এরপর ১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদল করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পুনরায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ফের সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) সংসদীয় আসন-৬ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন অভয়নগরের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পূর্বের সীমানায় (শুধু কেশবপুর উপজেলা) নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি মারা যাবার পর ২০২০ সালে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খন্দকার আজিজুল ইসলাম বিজয়ী হন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠে সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আলোচিত হচ্ছে আগামি নির্বাচনে মুখোমুখি হবে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। সেই হিসেবে দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
এই আসনে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ ও একটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ২ বার, জামায়াতে ইসলামী ১ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ বার বিজয়ী হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলছেন, দির্ঘদিন জনগণ তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। জোর করে ভোট নেওয়া হত। এবার ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
জামাতে ইসলামীর দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা ন্যায় ও ইনসাফ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ভোট ব্যতিক্রম হবে। ভোটারদের সমর্থন ও ভোটের সংখ্যা ধানের শীষ প্রতীকের থেকেও অনেক বেশি হবে।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ১৬ বছর এই উপজেলা বিএনপির দলীয় অফিস তালাবদ্ধ ছিল, খুলতে পারিনি, নেতাকর্মীরা গায়েবি মামলার আসামি, বর্তমান দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা হয়েছে। আশা করছি এবার এই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ভাইকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে পারব।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী সকালের সময়কে বলেন, আমরা ন্যায় ও ইনসাফ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। তবে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১১ দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এ আসনটিতে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। যারা অপপ্রচার হিংসা-হানাহানি করছে জনগণ তাদের বর্জন করবে। ইনশাল্লাহ জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।
বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছি। এছাড়া স্থানীয় কিছু বিষয় নিয়ে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত কেশবপুর গড়া, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। জয়ী হবো আমি আশাবাদি।
দীর্ঘদিন এ আসনটিতে রাজত্ব করেছে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ। জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলাকায় চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, লুটপাটসহ মামলা বাণিজ্য বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন সাধারণ জনগণ। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ভোট পরবর্তী অশান্ত হয়ে উঠতে পারে ওইসব গোষ্ঠীর এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটার সমর্থক ও এলাকাবাসীর। আবার বিগত ১৬ মাসের কর্মফলের প্রভাব পড়তে পারে ব্যালোটের মাধ্যমে। এ আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত-বিএনপি। জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আসনটি নিজেদের দলের পক্ষে নিতে। জয়ের ব্যাপারে দুই দলই আশাবাদী। তবে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে যে প্রার্থী সর্বস্তরের ভোটারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তিনিই এগিয়ে যাবেন। ভোট যুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত। এই যুদ্ধে কে হচ্ছেন বিজয়ী অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও গণভোট। আর মাত্র ১০ দিন বাকী। প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও কর্মিসভার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাঠের ভোট রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ চলছে। দীর্ঘদিনের সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াত তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে তৎপর রয়েছে। এ আসনে জয়ের ব্যাপারে দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলী নিচ্ছেন। দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে যে প্রার্থী সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তিনিই এগিয়ে যাবেন। সেই বাস্তবতাকে কাজে লাগাতে প্রার্থীরা কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পযন্ত ছুটছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শহর থেকে গ্রামের মাঠ প্রান্তে হাট বাজারে চলছে ভোট প্রার্থনা ও আলোচনা। এবারের জাতীয় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূণ। নারী ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রার্থীদের নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। এ আসনে জয়-পরাজয় নিধারিত হবে ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানে যে যার পক্ষে ভোটের পাল্লা ভারী করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নারী ভোটারদের কদর একটু বেশি। যদিও তাদের স্বামীদের কথার উপর নিভর করে তাদের ভোট দিতে হয়। এবার নারীদের নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিলেও স্থানীয় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নারীদের নিয়ে তাদের উন্নয়নে নেই কোন আলাদা চিন্তা ভাবনা।
এই আসনটিতে নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল)।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ আবুল হোসেন আজাদ তিনি কয়েকবার আসনটিতে বিএনপি দলীয় মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। দলীয় নেতা কর্মীদের সাংগঠনিক কাজে টিকিয়ে রাখতে বিগত আওয়ামী সরকারের আমি ডামি নির্বাচনেও দলীয় মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও এবার
জনগণের সমর্থন আশাবাদী। তবে দলের ভিতরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়তে পারে দলীয় সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে।
দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকই বলেন, কিছু দিন আগে একজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিলেন তাঁর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করার পর আরেকজনকে দিয়েছে এতে দলের বিভক্তি ও বৈষম্য করা হয়েছে। যার ফলে দলীয় ভোট অনেকাংশে কম হবে।
বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী তিনি দলীয় মনোনীত হয়ে একাধিকবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তবে বর্তমান জনসমর্থনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম হাসান তিনিও আমি ডামি নির্বাচনকে বৈধতা দিতে দলীয় মনোনীত হয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে জামানত হারান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) মনোনীত ঈগল পাখি মার্কার ব্যারিস্টার মাহমুদ হাসান তিনি নতুন একটি দলের দলীয় মনোনীত হয়ে প্রথম বারের মতো নির্বাচন করছেন। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী শহিদুল ইসলামসহ ৫ জন প্রার্থী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেও ভোটের লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। তবে এলাকায় যার যার অবস্থান ধরে রাখতে সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দিন রাত ছুটে চলেছেন উপজেলা ব্যাপী।
ভোট প্রার্থনা করতে গেলে ভোটারদের আবেদন ও অভিযোগ মাথায় নিয়ে ভোট পরবর্তী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শান্তনামাত্র। কারণ অতীতেও যে সকল প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি।
উপজেলায় জলাবদ্ধতা একটি বিশেষ কারণ অপরিকল্পিত মাছের ঘের। যার ফলে বৃষ্টির মৌসুমে অতিবৃষ্টির পানি বদ্ধ হয়ে বন্যায় প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগে সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনটি গঠিত। উপজেলার ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৮১ টি, মোট ভোটার সংখ্যা ২,২৯,১৬৩ জন, পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,১৫,২৪৪ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১,১৩,৯১৭জন ও তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে সংসদীয় আসন যশোর-৬ গঠিত হলে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হন গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। এরপর ১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদল করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পুনরায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ফের সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) সংসদীয় আসন-৬ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন অভয়নগরের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পূর্বের সীমানায় (শুধু কেশবপুর উপজেলা) নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দু’বার নির্বাচিত হন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি মারা যাবার পর ২০২০ সালে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খন্দকার আজিজুল ইসলাম বিজয়ী হন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বদলে গেছে ভোটের মাঠে সমীকরণ। নয়া সমীকরণে আলোচিত হচ্ছে আগামি নির্বাচনে মুখোমুখি হবে দীর্ঘদিনের জোট সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। উভয় দল নিজ নিজ ভোট ব্যাংকের বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। সেই হিসেবে দলের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
এই আসনে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ ও একটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ২ বার, জামায়াতে ইসলামী ১ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ বার বিজয়ী হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলছেন, দির্ঘদিন জনগণ তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। জোর করে ভোট নেওয়া হত। এবার ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
জামাতে ইসলামীর দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা ন্যায় ও ইনসাফ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ভোট ব্যতিক্রম হবে। ভোটারদের সমর্থন ও ভোটের সংখ্যা ধানের শীষ প্রতীকের থেকেও অনেক বেশি হবে।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত ১৬ বছর এই উপজেলা বিএনপির দলীয় অফিস তালাবদ্ধ ছিল, খুলতে পারিনি, নেতাকর্মীরা গায়েবি মামলার আসামি, বর্তমান দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা হয়েছে। আশা করছি এবার এই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ভাইকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করতে পারব।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী সকালের সময়কে বলেন, আমরা ন্যায় ও ইনসাফ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। তবে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১১ দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এ আসনটিতে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। যারা অপপ্রচার হিংসা-হানাহানি করছে জনগণ তাদের বর্জন করবে। ইনশাল্লাহ জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।
বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছি। এছাড়া স্থানীয় কিছু বিষয় নিয়ে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত কেশবপুর গড়া, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। জয়ী হবো আমি আশাবাদি।
দীর্ঘদিন এ আসনটিতে রাজত্ব করেছে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ। জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলাকায় চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, লুটপাটসহ মামলা বাণিজ্য বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন সাধারণ জনগণ। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ভোট পরবর্তী অশান্ত হয়ে উঠতে পারে ওইসব গোষ্ঠীর এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটার সমর্থক ও এলাকাবাসীর। আবার বিগত ১৬ মাসের কর্মফলের প্রভাব পড়তে পারে ব্যালোটের মাধ্যমে। এ আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত-বিএনপি। জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আসনটি নিজেদের দলের পক্ষে নিতে। জয়ের ব্যাপারে দুই দলই আশাবাদী। তবে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে যে প্রার্থী সর্বস্তরের ভোটারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তিনিই এগিয়ে যাবেন। ভোট যুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত। এই যুদ্ধে কে হচ্ছেন বিজয়ী অপেক্ষা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
Aminur / Aminur
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত হাতিকে মাটিতে পুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা!
জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও বিশ্ব শান্তি কামনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
আদমদীঘিতে হামীম পেট্রল পাম্পের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
হাটহাজারীতে অকটেন মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় বন্ধ রাখার অপরাধে জরিমানা।
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত
আদমদীঘিতে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল শিশু হাবিবার
গোমতী নদীর তীর রক্ষায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান
বগুড়ার গাবতলীতে শ্যালো মেশিন ঘর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা সভা: দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
হত্যা মামলার আসামির ‘ক্ষোভ’: ৫০ নিরীহ চরবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মনপুরায় তরমুজে ভরা মাঠ, ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত চাষিদের
জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা ও পাচার রোধে রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন
Link Copied