ঢাকা শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ফিরে দেখা চুয়াডাঙ্গা-২: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিন প্রার্থীর লড়াই, দ্বিমুখী সংঘাতের সম্ভাবনা


হারুন অর র‌শিদ রাজু, দামুড়হুদা photo হারুন অর র‌শিদ রাজু, দামুড়হুদা
প্রকাশিত: ৬-২-২০২৬ বিকাল ৭:৫৩

 আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে প্রার্থী, সমর্থন ও নেতাকর্মিদের ব্যস্ততা বাড়ছে তত বেশী। প্রচারনার দিক থেকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। যে যার কৌশলে পুরোদমে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এবার নির্বাচনে এ আসনে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে দ্বিমুখি। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা, জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার (আংশিক) ৪টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ৮০, নির্বাচনি এলাকা চুয়াডাঙ্গা-২। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, এ নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭, মহিলা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ ও তৃতীয় লিঙ্গের রয়েছেন ৪ জন ভোটার। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৪ টি। ভোট কক্ষ ৯৬৬ টি। ত্রয়োদশ এ সংসদীয় নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদ হাসান খাঁন বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)র দাড়িপাল্লা প্রতীকে রুহুল আমিন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)র হাতপাখা প্রতীকে হাসানুজ্জামান সজীব। প্রতিযোগিদের ভোট যুদ্ধ শেষ ১২ ফেব্রুয়ারি। এ যুদ্ধের জয়-পরাজয় ও ভোটারদের প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েকদিন। এ নির্বাচনি এলাকায় বিগত সকল সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে ভোটারদের সর্বোচ্চ ভোট পোল হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে মোট ভোটের শতকরা হার ৯৩.৭৯%। সেসময় ১৩টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় মোট ভোটার ছিলেন ৩,২৯,১৪৪ জন। ১৪৭টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোট পোল হয় ৩,০৮,৭১৯টি। বাতিল ভোট সংখ্যা ছিলো ২,৩৯৯টি। ওই নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা হাবিবুর রহমানের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছিলেন। মাত্র ১২ হাজার ৯০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলী আজগার টগর। বিজয়ী ওই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা হাবিবুর রহমান ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে আব্দুল লতিফ খাঁন পান ৫ হাজার ২১৬ ভোট। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর। ওই নির্বাচনেও মোট ভোটের হার সন্তোষজনক ছিলো। ভোটের শতকরা হার ৮৯.১৫%। মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৬। ১৩টি ইউনিয়নে ১৩৯টি কেন্দ্রে মোট ভোট হয় পোল হয়েছিলো ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৯। বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৪১৮। সে নির্বাচনে বিগত সকল নির্বাচনের রেকর্ড ভঙ্গ করে ৩৯,৪৯৮টি ভোটের বিশাল ব্যবধানে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রাার্থী মির্জা সুলতান রাজাকে পরাজিত করেছিলেন বিএনপি'র মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাজি মোজাম্মেক হক। হাজি মোজাম্মেল হক ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৮। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মির্জা সুলতান রাজা পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫০ ভোট। অপর প্রতদ্বিন্দি¦ জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত নবি চৌধুরীর পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭৪৪ ও সিপিবি মনোনীত কমরেড অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলামের ভোট ছিলো মাত্র ৯৫৭টি। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ জুন। ওই সংসদ নির্বাচনে মাত্র ১ হাজার ২৩ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মির্জা সুলতান রাজাকে পরাজিত করে ফের জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাজি মোজাম্মেল হক। ওই নির্বাচনে এত অল্প সংখ্যক ভোটের ব্যবধানের বিজয় বিগত সকল নির্বাচনের রেকর্ড ভঙ্গ করে। ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলো ২ লাখ ২৭ম হাজার ৬৫৩। মোট ভোটের শতকরা হার ৮৬.৩৪% ভোট পোল হয়েছিলো। মোট ১০২টি কেন্দ্রে ভোট পোল হয়েছিলো ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫৭। যার মধ্যে বাতিল হয়েছিলো ১ হ্জাার ৪২২ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী হাজি মোজাম্মেল হক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৭৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মির্জা সুলতান রাজা নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ৭৩২। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতে'র মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা হাবিবুর রহমান ভোট পেয়েছিলেন ৪৮ হাজার ৯৪৪। এছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ১১ হাজার ১৮৭, ইসলামী ঐক্যের এ মান্নান ভোট পেয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ ও জাকের পার্টির আমির হোসেন পেয়েছিলেন ১ হাজার ৩৯৭ ভোট। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হাজি মোজাম্মেল হককে ৯ হাজার ৬৬৮ ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা হাবিবুর রহমান। সে নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ২ লাখ ১২ হাজার ৫১ জন। পোল হয়েছিলো ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ ভোট। বাতিল হয় ১ হাজার ৪২২ ভোট। ভোট পোলের শতকরা হার ছিলো ৬৪.৬৫%। বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৬৮৮। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষের প্রার্থী হাজি মোজাম্মেল হক পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ২০ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জনতা মুক্তি পার্টির মনোনীত প্রার্থী মির্জা সুলতান রাজা ভোট পেয়েছিলেন ২৫ হাজার ৪৭০। জাপার প্রার্থী হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৭৮৮ ও জাকের পার্টির সাইদুর রহমান ভোট পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৮৩২। তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে। ওই সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খালিদ মাসুদকে ১৮ হাজার ২১৬ ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জাসদ মনোনীত প্রার্থী মির্জা সুলতান রাজা। মির্জা সুলতান রাজা ভোট পেয়েছলেন ৩৫ হাজার ৩৬৯। তার নিকটতম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি খালিদ মাসুদ পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ১৫৩ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী খলিলুর রহমান পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ২২৯ ভোট। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনুচ আলীকে ১০ হাজার ২৫৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ খাঁন। ওই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলো ১ লাখ ২৭ হাজার ৬২৫ জন। মোট ভোট হয়েছিলো ৬৩ হাজার ৫৪৭। ভোট পোলের শতকরা হার ছিলো ৫১.৪০%। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ খাঁন ২৪ হাজার ৪৯১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের মনোনীত ইউনুচ আলী পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ২৩৩ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এমএল এন্ড আইডিএল'র প্রার্থী নওয়াজীশ আহমেদ ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ২৮৭ ও জাসদের প্রার্থী মির্জা সুলতান রাজা পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৪৭০ ভোট। প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই নির্বাচনি এলাকায় তখন ভোটারের সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ১২ হাজার ৬০৫ জন। ওই নির্বাচনে ৩২ হাজার ৬৬১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আসহাবুল হক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ন্যাপের (মোজাফফর) প্রার্থী শহিদুল ইসলাম। বিজয়ী আ.লীগের প্রার্থী ডা. আসহাবুল হক পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৪৪৯ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ন্যাপের মনোনীত প্রাার্থী শহিদুল ইসলাম ১১ হাজার ৭৭৮ ও জাসদের মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসিমের পেয়েছিলেন  ১ হাজার ৬৫৫ ভোট। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নিবাচনে জয়লাভ করেছিলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হবি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হাজি মোজাম্মেল হক। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচন ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী  হাজি আলী আজগার টগর জয়লাভ করেছিলেন। তবে ওই সকল নির্বাচনের বিস্তারিত ফলাফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

 

Aminur / Aminur

শ্রীমঙ্গলে বিএনপির জনসভা: চা শ্রমিক ও কৃষকের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি হুমায়ুন কবিরের

রাজস্থলীর ও বাঙ্গালহালিয়াতে ধানের শীষের প্রচারণা শতশত জনস্রোতের বিশাল জনসভা

রাজশাহীর সীমান্ত থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার

মনপুরায় বিএনপি–জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪

অভয়নগরে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ

কবিরাজ হত্যার ৮ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা গ্রেপ্তার

দেশটাকে বাঁচাতে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে - কুমিল্লায় কর্ণেল অলি

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব সরওয়ার জামাল নিজামের পক্ষে গণসংযোগ

ফিরে দেখা চুয়াডাঙ্গা-২: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিন প্রার্থীর লড়াই, দ্বিমুখী সংঘাতের সম্ভাবনা

"বিএনপির দূর্গ জয়ে জামায়াত প্রার্থীর ভিন্ন কৌশল" তানোরে তরুণ ও আদিবাসী ভোটাররাই প্রার্থীর জয়-পরাজয়

আগামি ১৩ তারিখ সূর্য উঠবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে” পটুয়াখালীর বাউফলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জনসভায় ডা.শফিকুর রহমান

নবম পে-স্কেলের দাবিতে টুঙ্গিপাড়ায় সরকারি কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

গণতন্ত্র ন্যায় ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিন: মুহাম্মদ শাহেদ