বারহাট্টার প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল
ষড়ঋতুর বাংলায় ঋতু চক্রের আবর্তে চলছে শীতের শেষ ভাগ মাঘ মাস। ফাল্গুন আসতে এখনও সাপ্তাহ খানেক বাকি। এরই মধ্যে বারহাট্টার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের ম ম ঘ্রাণ। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে কোকিলের কুহুতান পাশাপাশি জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা।
'ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল' কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রবিচিত্র' কাব্যগ্রন্থের 'ফাল্গুন' কবিতার পংক্তিগুলোতে বাস্তব রূপের দেখা মিলেছে গাছে গাছে বাতাসে দোল খাওয়া আমের মুকুল। প্রকৃতিতে লেগেছে ফাগুনের ছোঁয়া। পাশাপাশি বাংলার প্রকৃতিতে মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। ফাল্গুনের আগেই গাছে গাছে প্রস্ফুটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে স্বর্ণালি আভা। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের 'মামার বাড়ি' কবিতায়- 'আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা- ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে; মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে; আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে; রঙিন করি মুখ...।' শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যে প্রকৃতিতে শোভা ছড়াচ্ছে মুকুল। গাছের পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মুকুল।
সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, রাস্তার দু’পাশে, আম বাগানসহ সবখানেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। এ যেন হলুদ-সবুজের মহামিলন। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। ছোট-বড় সব গাছেই মুকুল ধরেছে। যেদিকে তাকানো যায়, সেদিকেই প্রতিটি গাছেই দৃশ্যমাণ সোনালী মুকুলের আভা। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছের ডাল। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে।
এলাকার কয়েকজন আম চাষির সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে বলেন, পুরোপুরিভাবে সব গাছে এখনও মুকুল আসেনি। আমাদের এলাকায় আমের জাতের মধ্যে আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপাসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় এলাকার চাষিরা নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে বাগান করেছেন। এলাকার প্রায় বেশিরভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সব গাছেই মুকুল আসবে। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ না হলে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন তারা। ধীরে ধীরে উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান।
তারা আরও বলেন, গত মৌসুমে আমের বাজার ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর আম বাগান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এখনও আম চাষ শুরু হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের বাইশধার গ্রামের আম চাষি সাজ্জাদুল হাসান বলেন, আমি চার বছর আগে ফলের চাষ শুরু করেছি। এবার কমলা চাষে লাভবান হয়েছি। এখন আমের বাগান করেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমার বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ গাছই মুকুলে ছেয়ে গেছে। কিছু গাছে এখনও মুকুল বের হচ্ছে। কমলা চাষের মতো আম চাষেও লাভবান হবার আশা করছি। রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে মুকুল রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছি। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবারও আমের বাম্পার ফলনের প্রকাশ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, গত বছরের মতো এবারও গাছে আগাম মুকুল ফুটেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমের মুকুলের পরিচর্যায় এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলার আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। তবে বাণিজ্যিকভাবে এখনও আম চাষ শুরু হয়নি।
Aminur / Aminur
দেশীয় মাছ রক্ষায় অবৈধ জালের গুদামে অভিযানের দাবি
শান্তিগঞ্জে ২১৯৫ মেট্রিক টন বোরো ধান কিনবে সরকার
মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদক কারবারী আটক
গোদাগাড়ীতে সওজ'র জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফার্মাসিষ্ট ও ঔষধ বিক্রেতাদের ভূমিকা অপরিসীম: ড্রাগ সুপার মিতা রায়
শরণখোলায় বজ্রপাতে ৪ গরুর মৃত্যু
শেরপুরে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা ️ অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে চালক হত্যায় অটোরিকশাসহ যুবক গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় পানিতে বসে এসএসসি পরীক্ষা, পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
মরণফাঁদে পরিণত পাঁচুড়িয়া খাল: দেখার কি কেউ নেই..?
বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা