ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

এ নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন—যশোরে হাসনাত আব্দুল্লাহ


মতিন গাজী, যশোর photo মতিন গাজী, যশোর
প্রকাশিত: ৭-২-২০২৬ দুপুর ৪:১২

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের চূড়ান্ত রায়। এই নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, একটি পক্ষ একদিকে নারীদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে, অন্যদিকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিদেশি দালালির চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব শক্তি বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎকে ধারণ করে না। তিনি আরও বলেন, তাদের রাজনীতি দ্বিমুখী—নেতারা একদিন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেন, পরদিন তাদের কর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালায়। বিপরীতে আমরা ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে আছি এবং বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ দেশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই সবাইকে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে—ভোট প্রার্থীর নয়, ভোট জনগণের হাতে। এমনকি যে ব্যক্তি অন্যায় পথে জীবিকা নির্বাহ করেন, তিনিও তার সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ চান। তাদেরও দাওয়াত দিতে হবে।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের আচরণ ছিল এক ধরনের ‘টেস্ট ম্যাচ’। পুরোনো কায়দায় পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের পুলিশ নন—আপনারা বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়, তাই জনগণের প্রতিই দায়বদ্ধ থাকুন। তিনি বলেন, একসময় ডিবি হারুন কিংবা বেনজীর আহমেদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও চাপ সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু আজ তারা কোথায়? জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় গুলি-গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামি মানসিকতা পরিহার করে কলঙ্কমুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করুন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই দিনের পর দেশ কোন পথে যাবে, তা প্রশাসনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে। আগের তিনটি নির্বাচনের মতো আর কোনো প্রহসন আমরা চাই না। তিনি আরও জানান, ধানের শীষের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা এসব করতে চান না। হাইব্রিড নেতৃত্ব এসে তাদের অবমূল্যায়ন করছে। তারা মিছিলে গেলেও ভোট দেবেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটে—এই বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। সেদিন যশোরবাসী নিজেদের বিজয় নিজেরাই নিশ্চিত করবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহ শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। যশোরবাসী আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও নারী নির্যাতনকারীদের দেখতে চায় না।” তিনি জনগণের শক্তিতেই বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান। সভা শেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনী মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পথসভাকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিলেন।

এমএসএম / এমএসএম

কর্মচারী নিয়োগে একাডেমিক সনদের চেয়ে দক্ষতার গুরুত্ব বেশি হওয়া উচিৎ

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য

পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ

ব্রেক্সিট পরবর্তি ব্রিটিশ রাজনীতি এবং স্টারমারের বিদায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি: ডিজিটাল যুগের নীরব মহামারি

কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

বাবা: স্মৃতির আকাশে এক চিরস্থায়ী নক্ষত্র

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬: যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ

বাসযোগ্য নগর গড়তে ঢাকা’র ওপর চাপ কমান

বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা ও জেন-জি’র সমর্থন: আবেগ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক নতুন মেলবন্ধন

কৃষক মরছে কীটনাশকে

এই গ্রহের সম্পদ সীমিত, কিন্তু মানুষের লোভ অসীম

তিন মাসে নৌপরিবহনে অবকাঠামো, ডিজিটাল রূপান্তর ও জনসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি