ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ঐক্য সরকার নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী বিরোধী দল!


মোহাম্মদ আনোয়ার photo মোহাম্মদ আনোয়ার
প্রকাশিত: ৮-২-২০২৬ বিকাল ৬:৪৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্য সরকার বা ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয় নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য এটিকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠনের চেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার পরিচালনা করা এবং বিরোধী দলকে স্বাধীন ভূমিকা পালন করার সুযোগ দেওয়াই গণতন্ত্রের জন্য বেশি কার্যকর। এই অবস্থানকে দেশের বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তারেক রহমানের দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বাস্তব রাজনীতির কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, জোটভিত্তিক ক্ষমতা ভাগাভাগি বা রাজনৈতিক সমঝোতার নীতি স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হলেও দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত বিভ্রান্তি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের জোট সরকার এবং পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনী জোট রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হলেও, বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, কিছু ক্ষেত্রে জোটভিত্তিক সরকার দেশের মঙ্গলচিন্তাকে অগ্রাহ্য করে রাজনৈতিক কৌশল ও স্বার্থের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে, শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি দেশের জবাবদিহি ব্যবস্থা দুর্বল করে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়ায় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সংঘাতের সৃষ্টি করে। অতএব, দেশের গণতন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিরোধী দল অপরিহার্য।
এই বাস্তবতায় ঐক্য সরকার ধারণার পক্ষে যুক্তি হলো, গভীর রাজনৈতিক সংকট বা জাতীয় অস্থিরতার সময়ে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমঝোতা সাময়িক স্থিতিশীলতা আনতে পারে। কিন্তু এর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যখন সরকার ও বিরোধী দলের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন সংসদীয় বিতর্ক, নীতিগত প্রতিযোগিতা এবং জনস্বার্থে জবাবদিহি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য মূলত এখানেই, যেখানে ক্ষমতার পালাবদল সম্ভব হয় এবং জনগণ বিকল্প রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়।
তারেক রহমানের বক্তব্যকে এই প্রেক্ষাপটে দেখলে বোঝা যায়, তিনি প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রের ধারণাকে সামনে আনতে চাইছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরকারে অংশীদার না করে বিরোধী দলে শক্তিশালী অবস্থানে থাকার সুযোগ দেওয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোকে কার্যকর রাখতে পারে, এমন যুক্তি তিনি দিয়েছেন। যদিও বাস্তব রাজনীতিতে নির্বাচনের ফলাফল, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি অনেক সময় তাত্ত্বিক অবস্থান বদলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। তবে অভিজ্ঞতা বলছে, গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন নির্বাচন স্বচ্ছ হয়, বিরোধী দল স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সংঘাতের বদলে নীতিগত বিতর্কে রূপ নেয়। ঐক্য সরকার হোক বা একক সরকার, মূল বিষয় হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য নির্ভর করবে শুধু ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর নয়। বরং নির্ভর করবে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহনশীলতা, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোট কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হচ্ছে তার ওপর। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলেই এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে, যা শুধুমাত্র ক্ষমতার ভারসাম্যই নিশ্চিত করবে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যের স্থায়িত্বও সুরক্ষিত রাখবে।

লেখক: গবেষক, কলামিস্ট এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষক।

এমএসএম / এমএসএম

হ্যাঁ জয় মানেই কি লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সচুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডারের অধিকার আইনগত হবে?

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে আর কোন ধর্মঘট নয়

নির্বাচন সফল হোক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক

তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় জাতীয় নির্বাচন

ঐক্য সরকার নয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী বিরোধী দল!

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট কার ভাগ্য নির্ধারণ করবে?

পে স্কেল আন্দোলন: সংখ্যার সত্য, রাষ্ট্রের সাহস, আর ‘দুনিয়ার মজদুর

আধিপত্যবাদের ধরন বদলেছে, কিন্তু স্বভাব বদলায়নি

এ নির্বাচন ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন—যশোরে হাসনাত আব্দুল্লাহ

চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হবে, বাড়াতে হবে কাজের গতি

বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়, স্পিকার শূন্যতার পরও ১৩তম সংসদের শপথে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত!

সাংবাদিকদের গ্রুপিং জাতির জন্য দুঃসংবাদ

"রাজনীতির মারপ্যাঁচে স্মৃতির কারাগারে আজীবন বন্দী সাদ্দামের করুন আর্তনাদ"