ঢাকা সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‎কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পরাজয়: নেপথ্যে কী ছিল?


নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া photo নজরুল ইসলাম, কুতুবদিয়া
প্রকাশিত: ১৪-২-২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ। ৩৫,৬২৮ বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
‎‎নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি  প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ১২৪টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৯ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন। এর মধ্যে কুতুবদিয়ায় ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৯ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩৫২৪৮ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ২৯৪০১ ভোট।‎
‎ কুতুবদিয়ায় জামায়াত এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান যথেষ্ট ছিল না মহেশখালীর ঘাটতি পুষিয়ে নিতে। কয়েকটি কেন্দ্রে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়াই চূড়ান্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পাশাপাশি “হাই মার্জিন পকেট” ছিল ফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি।
‎‎স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বড় একটি কারণ হতে পারে। শুরু থেকেই নিজের সাংগঠনিক শক্তি ও ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, শেষ সময়ে ভোট টানার কৌশলে ঘাটতি ছিল। কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবধান কম থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় সামগ্রিক ফল নেতিবাচক হয়েছে।
‎‎জামায়াত প্রার্থী ব্যক্তিগত ইমেজে শক্তিশালী হলেও সংগঠনগতভাবে কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে ছিলেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। নির্বাচনে এখন শুধু জনপ্রিয়তা নয়, কেন্দ্রভিত্তিক টিম ম্যানেজমেন্ট, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, এজেন্ট তৎপরতা-এসব বড় ফ্যাক্টর। কুতুবদিয়ায় ‎বিএনপির ক্ষেত্রে সাবেক সাংসদ এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সক্রিয় সমন্বয় মাঠে দৃশ্যমান ছিল।
‎‎এই আসনে বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা একসঙ্গে মাঠে কাজ করেছেন। দলীয় কোন্দল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনী দিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
‎‎ভোটারদের একটি অংশের অভিযোগ, প্রচারণায় জামায়াতের পক্ষ থেকে তুলনামূলক কম ব্যয় ও সীমিত উপস্থিতি ছিল। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে ছিল বেশি সরব ও উন্মুক্ত প্রচারণা।এই মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‎‎কুতুবদিয়ার বেশ কিছু কেন্দ্রে জামায়াত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কিছু ভোটে এগিয়ে থাকলেও মহেশখালীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবধান বেড়ে যায়। ফলে সামগ্রিক ব্যবধানে তা বড় প্রভাব ফেলে। নির্বাচনী অংকে দেখা যায়, কাছাকাছি লড়াইয়ের পাশাপাশি কয়েকটি কেন্দ্রে বড় ব্যবধানই ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।কুতুবদিয়ায় ছয় ইউনিয়নের চারটিতে জামায়াত এগিয়ে থাকলেও বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে বিএনপির ধানের শীষ ব্যবধান গড়ে দেয়। ফলে কুতুবদিয়া থেকে আলমগীর ফরিদ ২৯ হাজার ৪০১ ভোট পান।
‎‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধুই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হিসাব নয়; বরং সংগঠনগত সমন্বয়, প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, মাঠপর্যায়ের কৌশল এবং ভোটার মনস্তত্ত্বের সমন্বিত প্রতিফলন। কক্সবাজার-২ আসনের এই ফল আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএসএম / এমএসএম

দুর্গাপুরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

তারাগঞ্জে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন  ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

ঘোড়াঘাটে ৫৩ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিল শর্ত ভেঙে তৃতীয় পক্ষকে ইজারা

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৬০১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষনা

​জামাত-বিএনপি দুই ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে সিআরবিসিতে বৃদ্ধের দোকান ভাঙচুর

নড়াইলে সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট হওয়ার অভিযোগ

ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী জামিনে বেড়িয়ে এসে বাদীকে হত্যা চেষ্টা

কুড়িগ্রামে পুকুরে ডুবে খালাতো ভাইবোনের মৃত্যু

পেকুয়ায় দুই দফা হামলার পর বৃদ্ধের মৃত্যু

শালিখায় বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অভয়নগরে বাগান থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

কোনাবাড়িতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু